Logo
Logo
×

রাজনীতি

বাড়ল সেলিম ওসমানের চ্যালেঞ্জ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৪৫ পিএম

বাড়ল সেলিম ওসমানের চ্যালেঞ্জ
Swapno

 

# এর আগে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন ২০১৪’র উপনির্বাচনে
# এবার একাধিক প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জে পড়তে পারেন তিনি

 

 

কঠিন চ্যালেঞ্জে নারায়ণগঞ্জ-আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হতে ইচ্ছুক একেএম সেলিম ওসমান। নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের এই সদস্য জাতীয় পার্টি থেকে পর পর দুইবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। যা ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় খুবই সহজে এবং কোন প্রতিকুল অবস্থা ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

 

কিন্তু আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আগের মতো এতটা সহজে নির্বাচিত হতে পারবেন না বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। এবার নির্বাচিত হওয়ার জন্য বর্তমান এই সাংসদকে কঠিন প্রতিযোগিতায় নামতে হতে পারে বলে মনে করেন তারা। দলীয় মনোনয়ন হয়তো সহজে পেতে পারেন কিন্তু এবার তার সাথে একাধিক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী থাকতে পারেন বলে তাদের দাবী। তাই এবার হয়তো কঠিন চ্যালেঞ্জের স্বাদ পেতে যাচ্ছেন তিনি।

 

এর আগে ২০১৪ সালে তৎকালীন জাতীয় পার্টির এমপি একেএম নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর অনুষ্ঠিত হওয়া উপনির্বাচনে অর্থাৎ সেলিম ওসমানের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। তবে এক দিকে সদ্য গত হওয়া সাংসদের ছোট ভাই হিসেবে ভক্তদের সহানুভূতি ও অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমর্থনে সে যাত্রা পার হয়েছিলেন তিনি। হাড্ডা-হাড্ডি সেই লড়াইয়ে ১৬ হাজার ৭৪২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান। সেই নির্বাচনে সেলিম ওসমান পান ৮২ হাজার ৮৫৬ ভোট এবং তার নিকতটম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম আকরাম পান ৬৬ হাজার ১১৪ ভোট।

 

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে ও মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ২০১৪ সালে নাসিম ওসমানের আকস্মিক মৃত্যুতে এই আসনটি শূন্য হলে তখন নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমান ছিলেন অনেকটা বিমর্ষ অবস্থায়। একই সাথে তাদের সন্তান আজমেরী ওসমানও সংসদ সদস্যের দায়িত্ব নেয়ার মতো করে তৈরি হননি। তাই সেই শূন্যতা পূরণে অনেকটা ব্যাক-আপ হিসেবে জাতীয় পার্টির রাজনীতির ব্যানারে নির্বাচনের ডাক পান সেলিম ওসমান। সে সময় সেলিম ওসমান জানিয়েছিলেন তার রাজনীতি করার কোন ইচ্ছে নেই।

 

তবে রাজনীতির মজা কিংবা ক্ষমতার মজা একবার পেলে তা-কি-আর কারো ছাড়তে মন চায়! সেলিম ওসমানের ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। তাই তো ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় পারভীন ওসমান নির্বাচন করতে চাইলে পরিবারে বাধার মুখে পড়েন তিনি। সে সময় থেকেই তাদের পারিবারিক বিভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠে। এরপর ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে এবং আওয়ামী লীগের সহযোগিতা নিয়ে নাগরিক ঐক্যের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এসএম আকরাামকে হারিয়ে খুব সহজেই নির্বাচিত হন সেলিম ওসমান।

 

সচেতন মহলের ধারণা সেই নির্বাচনে সেলিম ওসমানের জয়ের পেছনে তার ব্যক্তিগত ও দলীয় ইমেজের তুলনায় রাজনৈতিক কারিশমাই ছিল বেশি। এরপর থেকে রাজনীতি বিমুখী এই নেতার রাজনীতির আগ্রহ চরমে ওঠে। একই সাথে নিজেকে খুব শক্তিশালী এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তবে বিধি বাম। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট ছাড়াও আরও জটিল হিসেবে পড়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি।

 

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি ইউনিট কমিটি এবং জেলা কমিটি থেকেও নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনসহ নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার দাবি করে আসছেন। তাদের মতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার পরও দীর্ঘ দিন যাবৎ দলীয় সাংসদ না থাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের এই দুটি আসনের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম।

 

জাতীয় পার্টির দাপটে এবং আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী নেতাদের দল বিরোধী কর্মকাণ্ডে হতাশায় নিমজ্জিত আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী ও সমর্থকগণ জেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই দাবি জানানোসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও এই দাবি পৌছে দেওয়ার আহ্বান জানান। আর সেই দাবিই সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের কথায় বেরিয়েও আসে।

 

তাই বিএনপি নির্বাচনে আসলে একদিকে বিএনপির প্রার্থীর সাথে সেলিম ওসমানের শক্ত প্রতিযোগিতার সুর ছিল আগে থেকেই। এর মধ্যে আবার মারার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নৌকার দাবি। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্যের পর শুধু বিরোধী দলের কাছেই নয়, নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টিসহ আশাহত স্বয়ং সেলিম ওসমান। এস.এ/জেসি 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন