# আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা নানকের ইঙ্গিতের পর কর্মীরা আশান্বিত
"প্রাচ্যের ডান্ডি" খ্যাত নারায়ণগঞ্জ পাশাপাশি আওয়ামীলীগের সুতিকাগারও নারায়ণগঞ্জ। তবে নারায়ণগঞ্জ যে সকল এলাকাকে ঘিরে "প্রাচ্যের ডান্ডি" খ্যাতি অর্জন করেছে এবং আওয়ামীলীগের সুতিকাগার হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। সেসকল এলাকাতে এখন আওয়ামীলীগ এখন ধীরে ধীরে দূর্বল হচ্ছে।
কারণ দীর্ঘদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ-৫(বন্দর) এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) এলাকাটি আওয়ামীলীগের শরীকদল জাতীয় পার্টির সাংসদরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের ফলে তৃণমূল পর্যায় থেকে আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়ছে। কাচঁপুরে আওয়ামীলীগের শান্তি সমাবেশে আওয়ামীলীগের দূরদশার কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, নারায়ণগঞ্জে একটি এলাকায় জাতীয় পার্টির এমপি আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে।
কাজেই ওই এলাকাকে মানুষকে রক্ষার জন্য মানুষ নৌকা মার্কা চায়। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতার এমন বক্তব্যে শুধু একটি এলাকা নয় জাতীয় পার্টির দখলে থাকা নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের দুটি এলাকার আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতারা প্রত্যাশা করছে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি উক্ত আসনগুলোতে ছাড় পাচ্ছে না।
সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ-৫(বন্দর) আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী সাংসদ নাসিম ওসমান মৃত্যুবরণ করলে পরবর্তীতে পূণরায় উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সাংসদ হন নাসিম ওসমানের ছোট ভাই সেলিম ওসমান। পরবর্তীতে একাদশ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও মহাজোট থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ নির্বাচিত হন।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এ আসনে আওয়ামীলীগের তৃণমূল ও জেলা মহানগর আওয়ামীলীগ এবং আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীত নেতারাও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকা দাবি করে আসছিল। পাশাপাশি দলীয় নীতি নির্ধারকদেরও বরাবর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবি করে আসছিল কিন্তু দাবি পূরণ হচ্ছিল না কিন্তু কাঁচপুরে শান্তি সমাবেশে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ মনে করছে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তাদের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জে ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে নতুন ভাবে নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁ) আসনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টিকে আরেকটি আসন দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে উক্ত আসনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়া হয়। তবে ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি ছাড় দেয়ার পর থেকে তৃণমূলের প্রত্যাশা ছিল এ আসনে ফের জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়া হবে না।
কিন্তু ২০১৮ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পূণরায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে লিয়াকত হোসেন খোকাকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগে কোন্দল বিভাজন গ্রুপিংয়ের রাজনীতি প্রকট আকার ধারণ করতে থাকে জাতীয় পার্টির সাংসদের কৌশলী রাজনীতিতে এর মাধ্যমে সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী দুর্গ গড়ে তুলতে থাকে যেটা এখনো চলমান রয়েছে।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁ) আসনে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে যেকোন মূল্যে মনোনয়ন প্রত্যাশী থেকে শুরু করে উপজেলা আওয়ামীলীগ তৃণমূলের একটাই দাবি উক্ত নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয় এবং নৌকা যাকেই দেয়া হবে তার পক্ষেই সোনারগাঁ আওয়ামীলীগ কাজ করতে একতাবদ্ধ। সোনারগাঁয়ে এ সকল চিত্র আওয়ামীলগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বর্ণনা করতে গিয়ে কাঁচপুরের শান্তি সমাবেশে বলেন, নারায়ণগঞ্জে একটি এলাকায় জাতীয় পার্টির এমপি আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে।
কাজেই ওই এলাকাকে মানুষকে রক্ষার জন্য মানুষ নৌকা মার্কা চায়। এ সিট জাতীয় পার্টির সিট না। তার এমন বক্তব্যে সোনারগাঁয়ের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ উচ্ছাশিত। কারণ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে এসে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যের এমন বার্তায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ প্রত্যাশা করছে আগামীতে এখানে ছাড় পাচ্ছে না জাতীয় পার্টি। আবারও এই সিট আওয়ামীলীগের দখলে আসতে যাচ্ছে। এস.এ/জেসি


