# জেলার পাঁচটি আসনে নৌকার প্রার্থী বাড়ার সম্ভাবনা
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ পুরোদমে মাঠে রয়েছে। আমেরিকার স্যাংশন নিয়ে নির্বাচন ঘিরে দেশের ভেতর ও বাইরের চাপের বিষয়টি নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যে ফুটে উঠে তা প্রকাশ্যে কোন চাপ মনে করছে না আওয়ামী লীগ। তবে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা করে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলা, দলীয় কোন্দল নিরসনসহ বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে ক্ষমতাসীন দল। যা গত নির্বাচনে ছিল না। কিন্তু এবারের নির্বাচন নিয়ে আর্ন্তজাতিক মহল থেকে চাপ আছে বলে বেরাচ্ছেন বিএনপি নেতারা।
সুত্রমতে, আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। এরপর ২০১৪ সালে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচনে পুনরায় জয় পায় দলটি। বিএনপিসহ তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও জয় ছিনিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ। এই নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। যার ফলে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা এখন সরকার পতনের একদফা দাবিতে আন্দোলন করছে।
বিরোধী নেতারা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। কিন্তু বিপরীতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মাঠে নেমে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে সম্প্রতি সময়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের এমপি থেকে শুরু করে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে নেমে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন। রাজপথের ময়দানে কোন এমপি থেমে নেই। যদিও ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান এক সমাবেশে বলেছেন তাকে যেন নমিনেশন না দেয়া হয় এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন।
তবে তিনি রাজনৈতিক মাঠে ব্যাপক ভাবে বিশাল আকারে সভা সমাবেশ করে নিজের শক্তি জানান দিয়েছেন। এমনকি এই সাংসদ সম্প্রতি সময়ে আওয়ামী লীগের ঢাকার শান্তি সমাবেশে বিশাল বড় করে মিছিল নিয়ে যোগদান করেছে। এমনকি সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরের সমাবেশেও এমপি শামীম ওসমান নিজে নেতৃত্ব দিয়ে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগদান করে শক্তি দেখান। এজন্য রাজনীতি মহলে আলোচনা হচ্ছে তিনি মননোনয়ন না চাইলেও দলীয় ভাবে ঠিকই ভুমিকা রেখে যাচ্ছেন। তাছাড়া নেতা কর্মীদেরও চাঙ্গা রাখছেন। পাশাপাশি তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের কমিটি নিয়েও মুখ খুলেছেন।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী নিজে এবার মাঠে নেমে নেতৃত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে যোগদান করেন। সেই সাথে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নির্বাচনী প্রচারনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সভায় গিয়ে বক্তব্য রেখে যোগদান করছেন। তবে আগামী নির্বাচনে রূপগঞ্জ থেকে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আকবর সোবহানও মনোনয়ন চাচ্ছেন। এজন্য মন্ত্রী গাজী দলীয় মনোনয়ন পাওয়া অনেকটা চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে নজরুল ইসলাম বাবু টানা তিনবারের এমপি হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি পুরোদমে মাঠে রয়েছেন। এই সংসদ সদস্য সম্প্রতি সময়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ বিভিন্ন সভা সমাবেশে বিশাল বড় মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নিজের অবস্থান কিংবা জনপ্রিয়তা তুলে ধরেছেন। যদিও তার মনোনয়ন ঠেকাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মাঠ চষে বেরাচ্ছেন। তার মাঝে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, সাবেক সচিব মমতাজ উদ্দিনও নৌকার মনোনয়ন চেয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
দলীয় সুত্রমতে, আগামী নির্বাচন হবে চ্যালেঞ্জিং। কেননা দ্বাদশ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিতর্কিত এমপিদের মনোনয়ন দিবে না বলে ঘোষনা দিয়েছে। এছাড়া যে সকল সংসদ সদস্য মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে তারাও দলীয় মনোনয়ন তেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এই দিক দিয়ে নারায়ণগঞ্জের এমপিদের নিজ এলাকায় কার্যালয় না থাকায় মানুষ তাদের দুঃখের কথা জনপ্রতিনিধির কাছে তুলে ধরতে পারেন না।
অপরদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এক যুগেও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এমপিদের মাঠে দেখা যায় নাই। কিন্তু আগামী নির্বাচন ঘিরে তারা রাজপথে নেমে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। সেই সাথে তারা নেতা কর্মীদেরও রাজপথে সক্রিয় রাখছে। একই সাথে বিএনপিকে কঠোর হুশিয়ারি দিচ্ছেন। তাই রাজনৈতিক বোদ্ধমহল মনে করেন, আগামী নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠ করার জন্য ক্ষমতাসীন দল আর্ন্তজাতিক মহল থেকে চাপে রয়েছে। সরকারি দলের নীতি নির্ধারকরাও সুষ্ঠ নির্বাচনের কথা বলছেন।
তবে সুষ্ঠ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের অনেক এমপিরই কপাল পুরতে পারে। আর এজন্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে তাদের নির্বাচন করতে হবে। এর মাঝে নারায়ণগঞ্জের এমপিরাও রয়েছেন। সচেতন মহলের মতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পুরোপুরি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছে না আওয়ামী লীগ। বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে চলে এসেছে।
ইতোমধ্যে নির্বাচন ঘিরে ভিসানীতি ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই ভিসানীতি নিয়ে অনেক নেতা এমপিরাই চাপে রয়েছে মনে করেন বিএনপি। এছাড়া আগামী নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জ হবে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। এজন্য এই জেলায় ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ বিএনপি দুই দলই বিশাল আকারে সমাবেশ করেছে। ক্ষমতাসীন দল তাদের চাপ কাটাতেই এই সমাবেশের আয়োজন। এছাড়া স্থানীয়রা এমপিরা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। এস.এ/জেসি


