# অধিকার বঞ্চিত মানুষ বিএনপির নেতৃত্বে শীঘ্রই মাঠে নেমে আসবে
সারা দেশে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাই যেকোনো সময় নির্বাচন কালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে শুরু হয়ে যাবে তুমুল আন্দোলন। বিএনপির নেতারা বলেন সরকার এবার কল্পনাও করতে পারছে না কি ধরনের আন্দোলন গড়ে উঠবে এবার। খুব শিগগিরই দেশে একটি গণবিষ্ফোরন ঘটবে এবং গণঅভ্যুথ্যান ঘটবে। অধিকার বঞ্চিত মানুষ বিএনপির নেতৃত্বে শীঘ্রই মাঠে নেমে আসবে।
গতকাল বিএনপি নেতা মাজেদুল ইসলাম, এডভোকেট বারী ভুঁইয়া, কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন, হাজী মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ এবং মশিউর রহমান রনির সাথে আলাপকালে তারা এমন মন্তব্য করেন। তারা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে সরকারের হামলা মামলা এবং নানা রকম উস্কানী সত্ত্বেও অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে আসছে বিএনপি। কিন্তু বিএনপি কেনো এভাবে ধৈর্য্য ধরলো? তারা বলেন সরকার বিএনপিকে এমন কোনো উস্কানী বাদ নেই যা দেয় না।
অযথা গায়েবী মামলা দিয়ে গ্রেফতার হয়রানী তো চালিয়েছেই তার উপর সরকার প্রধান এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে এ দলের বহু নেতা বিএনপিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বিক্ষুব্দ করে তোলার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে ওবায়দুল কাদের তো প্রতিনিয়ত রীতিমতো আবোল তাবোল বকে চলেছেন। একবার বলছেন বিএনপির সাথে খেলা হবে, আবার বলছেন তলে তলে নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরকারের সমঝোতা হয়ে গেছে। আবার বলছেন মির্জা ফখরুলের মাথায় তিনি ইউরেনিয়াম ঢেলে দেবেন।
আর নানা রকম অঙ্গভঙ্গি করে হরেক রকম বক্তব্যতো রয়েছেই। কিন্তু বিএনপির শীর্ষ মহল সরকারী দলের এই ধরনের আচরনের কোনোই নেতিবাঁচক প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। বরং মির্জা ফখরুল একেবারেই ঠান্ডা মাথায় তার কথা বলে গেছেন। তাই বিএনপির এই শান্তশিষ্ট ভাব দেখে সরকার মনে করছে বিএনপি একেবারেই নিশ্চুপ হয়ে গেছে। তাই আরো একটি একতরফা নির্বাচন প্রায় নির্বিঘ্নেই করে ফেলবে আওয়ামী লীগ এমনটাই মনে করেন সরকারী দলের কিছু লোক।
বিএনপির এই নেতারা বলেন এটা সরকারের দিবা স্বপ্ন, সরকার এবং সরকারী দলের লোকেরাই বরং উল্টো দিবা স্বপ্ন দেখে চলেছেন। এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, আপনারা হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের নাগরিকদেন জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। তারা বলছেন বাংলাদেশে যেকোনো সময় রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পরতে পারে।
আর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনদিনের আন্দোলনেই এই সরকারের পতন ঘটবে। বুঝতে হবে যুক্তরাষ্ট্র আর বিএনপিও সরকারকে সাবধান করছে এবং অবিলম্বে তত্বাবদায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়ার জন্য সচেতন করছে। সরকার শুনলে ভালো। না শুনলে তাদের জন্য অপমানজনক বিদায় অপেক্ষা করছে। কারন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্যবহুল গোয়েন্দা রিপোর্ট রয়েছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সহসভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ বলেন, সরকারী দলের লোকেরা আসন্ন নির্বাচনকে নিয়ে হতভম্ব অবস্থায় রয়েছে। তারা বুঝতে পারছেন না কি করবেন। তবে তারা বলছেন নির্বাচনটা এবারও এক তরফা করে ফেলবেন। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি এরই মাঝে কেবল মাত্র বিদেশীদের চাঁপে পরেই আধমরা হয়ে গেছে সরকার। আর বিএনপি বিদেশী গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে কথা বলার এবং কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে মাত্র।
এরই মাঝে বিএনপি সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তাই আমি মনে করি দেশের নব্বই শতাংশ মানুষ এখন একটি অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচনের দাবিতে একমত হয়েছে। তাই সরকার চাইলেই এবার আর একটি একতরফা নির্বাচন করতে পারবে না। সরকার যদি ওই পথে হাঁটে তাহলে নিঃসন্দেহে সারা দেশে তুমুল আন্দোলন শুরু হয়ে যাবে। এবং অল্প সময়ে সরকারের পতন ঘটবে। তাই এখন বিএনপির কৌশলের কাছে মার খাচ্ছে আওয়ামী লীগ।
তাই আমি মনে করি সরকার এখনই কেয়ারটেকার সরকার নিয়ে আলোচনা না করে তফসিল ঘোষণা করলে সারা দেশে তুমুল আন্দোলন শুরু হয়ে যাবে এবং জনগনের সম্পৃক্ততায় এই সরকারের বিদায় ঘটবে ইনশাআল্লাহ। এস.এ/জেসি


