# দলীয় কোন্দল নিরসনে গুরুত্ব থাকতে পারে
# ৫টি আসনে নৌকার জোরালোভাবে দাবি করা হবে
আগামী নির্বাচন ঘিরে পুজার আগে আজ সবচেয়ে বড় করে ঢাকায় সমাবেশ করবে বিএনপি। এই সমাবেশে ঢাকার নিকটতম জেলা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ব্যপক ভুমিকা পালন করবে। তবে ছাড় দিবে না আওয়ামী লীগও। কেননা রাজপথে আওয়ামী লীগ বিএনপি দুই দলই উত্তাপ তৈরী করছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলায় দুই দলই বিশাল আকারে সমাবেশ করেছে।
\
বিএনপির সমাবেশে কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতারা ঢাকা চট্রগ্রাম সহাড়ক দখলে নিয়ে অবরোধ করার হুশিয়ারি দেন। কিন্তু তাদের বিপরীতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারাও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পাহাড়ায় থাকবেন বলে জানান। এই সড়কের মূল কেন্দ্র বিন্দু হলো নারায়ণগঞ্জ।
এদিকে আগামীকাল সার্কিট হাউজে জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় স্থানীয় মেয়র, এমপি, মন্ত্রী জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এমনকি আওয়ামীলীগের মনোনীত জেলা পরিষদ, উপজেলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত থাকবেন। সভায় আগামী নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মাঝে কোন্দল নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ ভাবে বিএনপির প্রতিরোধ করার প্রস্তুত থাকার জন্য নির্দেশা দিবেন।
দলীয় সুত্রমতে,আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন কর্মসূচি আসছে, যদিও বিএনপির সাথে পাল্লা দিয়ে উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগও মাঠে রয়েছে।
দলীয় কার্যালয় এবং যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে জানানো হয়েছে ঢাকায় এবং সব জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কর্মীরা প্রস্তুত থাকবে।
পাড়া মহল্লায় কর্মীরা সজাগ থাকবে এবং কোথাও কোনো নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা দেখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাবে। আর প্রতিদিনই তারা বিভিন্ন রকমের মিছিল, মিটিং সহ নানা কর্মসূচি পালন করবে।
আওমীলীগ মনে করছে যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে। আর এই তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপি বড় ধরনের একটা নাশকতার কর্মসূচি পালন করতে পারে ঢাকায় এমনটাই ধারনা করছে ক্ষমতাসীন দল।
বিশেষ করে ঢাকাকে অবরুদ্ধ করে দেওয়া এবং জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্যই তারা এধরনের কর্মসূচি নিতে পারে, যেন নির্বাচন কমিশন ভয় পায় এবং নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা না করে। তবে নির্বাচনে যেন কেউ বাধা তৈরী করতে না পারে এজন্য আওয়ামী লীগের নিতী নির্ধারকরা সতর্ক রয়েছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের সুত্রমতে, নির্বাচন ঘিরে দলী কোন্দল নিরসন নিয়ে আলোচনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কমিটি না থাকায় নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এছাড়া জেলার ৫টি আসনে নৌকার দাবী দীর্ঘ দিনের। এই বর্ধিত সভায় স্থানীয় নেতারা তাদের ব্ক্তব্যে তাদের পুরোন দাবী নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী তুলে ধরা হবে।
কেননা জেলা ৫টি আসনের মাঝে ৩টিতে নৌকার প্রার্থী রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ এবং নারায়ণগঞ্জ- ৩ আসন জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের মহাজোটে জাতীয় পার্টির শরীক থাকায় এই দুটি আসন জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে হয়। কিন্তু আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির দখলে থাকা দুটি আসনে নিজেদের নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়েছেন।
ইতোমেধ্য জাতীয় পার্টির এমপিদের নিয়ে ১৩ অক্টোবরের নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ের কাচঁপুরে উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেছেন, জাতীয় পার্টির এমপি এখানে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ হলো জনগনের দল।
তার এই মন্তব্যের সাথে স্থানীয় সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সদস্য মাহফুজুর রহমান কালাম একমত পোষন করেছে। তিনি জানান, জাতীয় পার্টির কারনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা অবহেলিত হয়ে রয়েছে। নৌকার এমপি না থাকায় নেতা কর্মীরা তাদের কষ্টের কথা কারো সাথে শেয়ার করতে পারে না। যা নিয়ে নেতা কর্মীদের ক্ষোভ জমে রয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, মেট্রোরেল উদ্বোধন উপলক্ষে শাপলা চত্বরের সমাবেশ সফল করার জন্য নির্দেশনা দিতে বর্ধিত সভা করা হবে। তাছাড়া আমরাতো কাচঁপুরের সমাবেশেও জেলার ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়েছি।
বর্ধিত সভা প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল দৈনিক যুগের চিন্তা প্রতিবেদককে জানান, আগামী ২৩ অক্টোবর মেট্রোরেল উদ্বোধন উপলক্ষে মতিঝির শাপলা চত্বরে মহা সমাবেশ হবে। এই সমাবেশকে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য জেলা মহানগর, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ওয়ার্ড থেকে সর্বোচ্চ নেতা কর্মী নিয়ে সফল করার জন্য নির্দেশনা দিবে।
সেই এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া নেতা কর্মীরা যার যার মত করে ব্যক্তিগত মতামত দিবে। নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা হবে কি না তা নিয়ে চিঠিতে তেমন কোন বিষয় উল্লেখ্য নেই। এন.হুসেইন রনী /জেসি


