# বিএনপিকে প্রতিহতসহ নৌকার দাবিতে জাপার সাথেও লড়ছে আ’লীগ
# সরকার পতনের একদফাতে সরব থাকছে বিএনপি
# আ’লীগের অবস্থান ও নির্বাচনীয় শেষ পরিণতির অপেক্ষায় জাপা
কথায় বলে রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই। তাই বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে হঠাৎ করেই পাল্টে যায় রাজনীতির চিত্র। যেমন কিছুদিন আগেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আন্দোলন ছিল নামে মাত্র। অর্থাৎ শহরের অলি-গলিতে সর্বদা পুলিশ কিংবা আওয়ামী লীগের বাধার ভয়ে থেকে স্বল্প সময়ে কর্মসূচী পালন করার প্রবণতা ছিল। তবে প্রায় বছর খানেক যাবৎ সেই পরিস্থিতি থেকে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবিতে রাজনৈতিক ময়দান গরম রাখার চেষ্টায় অনেকটাই সরব হতে দেখা যায় তাদের। বর্তমানে তারা আওয়ামী লীগ সরকার পতনের এক দাবি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ তাদের কমিটিগুলো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছে দীর্ঘ সময়। একই সাথে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসন থেকেই নৌকার প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণাও ছিল প্রবলভাবে। এই দাবিতে সব মেরুর নেতা কর্মীদেরই একসুরে কথা বলতে দেখা যেতো।
কিন্তু বর্তমানে সেই সুর থেকে একটি পক্ষের লোকেরা সরে দাঁড়িয়েছে তাদের সুর পাল্টে ফেলেছে বলে জানা যায় (দলীয় ভাবেই অভিযোগ)। তবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ বর্তমানে বিএনপিকে ঠেকানোসহ তাদের দলীয় অধীনে নির্বাচন পরিচালনা করার চেষ্টায় মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানা যায়। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংগঠনগুলো বর্তমানে ঢাকামুখী কর্মসূচি গুলো বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখছে। আন্দোলন আর রাজপথ দখল নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির জেলা জুড়ে তেমন একটা শক্ত অবস্থান না থাকলেও শহরকেন্দ্রিক রাজনীতিতে অবস্থান বেশ শক্তিশালী। সম্প্রতি সময়েও তাদের বেশ সরব থাকতে দেখা গেছে বলে জানা যায়। এমনকি কিছুদিন আগেও এই দলের হুমকিতেই নাকি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ নৌকা প্রতীকের দাবি থেকে সরে আসছেন বলে জানা যায়। তবে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জাপা অনেকটাই নিরব ভূমিকা পালন করছেন। এখন তারা পর্যবেক্ষণের ভূমিকা পালন করছেন বলে সচেতন মহলের ধারণা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সর্বশেষ সিদ্ধান্তের জন্য তারা অপেক্ষা করছেন বলে জানা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ দীর্ঘ কয়েক বছর যাবতই নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসন থেকে নৌকার প্রার্থী ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই জোড়ালো দাবিতে বলিষ্ঠভাবে কন্ঠ মেলান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল (ভিপি বাদল), আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা। সেই দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
২০১৮ সনের নির্বাচনের আগে থেকেই এই দাবি উত্থাপন হলেও নির্বাচনের পর সেই দাবি আরও বেশি জোড়ালো হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সভা সমাবেশে তারা জেলার ৫টি আসনেই নৌকার দাবী জানাতে শুরু করেন। এমনকি যখন কেন্দ্র থেকে গ্রীন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায় তখন থেকেই বিভিন্ন নেতা তাদের মনোনয়ন পাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করতে শুরু করেন। বর্তমানে সেই দাবি থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন খোকন সাহা ও ভিপি বাদল। তাই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ একদিকে যেমন বিএনপিকে প্রতিহত করতে কেন্দ্রের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন, তেমনই আওয়ামী লীগের সিংহভাগ নেতাই নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসন থেকে নৌকার দাবিতে লড়ে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির সাথে।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপি অনেকটা ভয়-ডর কাটিয়ে গত বছরের শেষের দিক হতেই রাজপথে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে এবং ধরে রাখতে সফল হয়েছেন। তারা দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, তারেক ও খালেদা জিয়ার মামলা প্রত্যাহারসহ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অনেকটাই শক্ত আন্দোলন গড়ে তোলেন। বর্তমানে তারা সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর সাথে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টি বেশ কয়েক বছর যাবৎই শহরকে কেন্দ্র করে খুব সরব ছিল। শহর-বন্দর ছেড়ে সোনারগাঁয়েও জাতীয় পার্টির ব্যাপক দাপট পরিলক্ষিত হয়। এমনকি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ থেকে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার দাবি ওঠায় তাদেরকে হুশিয়ারি দেয় জাতীয় পার্টি। শহর-বন্দরকে কেন্দ্র করে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও নির্বাচনী প্রচারের ব্যাপকভাবে তৎপর থাকতে দেখা যায়।
বিশেষ করে জাতীয় পার্টির নেতা এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান তাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতাদের নৌকার দাবিতে চরমভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অবস্থানসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার লড়াইয়ের সর্বশেষ অবস্থানের জন্য অনেকটাই নিরব ও পর্যবেক্ষণের ভূমিকা পালন করছে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টি। এস.এ/জেসি


