Logo
Logo
×

রাজনীতি

মেয়র আইভীকে ডুবাচ্ছে বামেরা!

Icon

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:০৫ পিএম

মেয়র আইভীকে ডুবাচ্ছে বামেরা!
Swapno

 

গেলো শুক্রবার চাষাঢ়া এলাকার মধ্যবয়সী তারেক মাসদাইর সিটি কবরস্থান জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় শেষে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে পায়ে চালানো রিকশায় চড়েছেন বাসার উদ্দেশে। এ সময় একটি পরিচিত কণ্ঠস্বর তার কানে এলো ‘হেই মিয়া একলা যাইও না, আমারেও লইয়া যাও।’ ঘাড় ফিরিয়ে দেখেন, হালিম চাচা হাত নাড়ছেন। রিকশায় উঠে ধপাস করে তার বাম পাশে বসেই রিকশাওয়ালাকে বললেন, ‘যান চাচা মিয়া ২ নাম্বার যান।’

 

কিন্তু তারেক ‘আরে’ করা মাত্রই তেড়ে উঠলেন, ‘কোন কথা নাই। বহুদিন পর তোমারে পাইছি, অনেক কথা জইম্মা রইছে, হোটেলে খাইতে খাইতে আইজকা সব ছাড়ুম।’ কিন্তু ডাক বাংলোর সামনে আসতেই যানজটের শিকার হলো তাদের রিকশা। হালিম চাচা খ্যাঁক করে ওঠলেন, ‘দেখছো মিয়া, বন্ধের দিনেও তোমাগো আইভীর শহরে যানজট।’ তারেক বললেন, যানজটের সাথে মেয়রের কি সম্পর্ক? তিনি চোখ কপালে তুলে বললেন, ‘তুমি দেখি মিয়া আইভীর গলা দিয়াই কইলা, যানজট সরানো মেয়রের কাজ না।’

 

হালিম চাচা আওয়ামী লীগের একজন কট্টর সমর্থক। খোঁচা খেয়ে তার মুখ থেকে খই ফুটতে শুরু করলো- তোমাদের আইভী কি মনে প্রাণে আওয়ামী লীগ করেন! না, করেন না। কিন্তু তার পিতা চুনকা সাহেব ছিলেন একজন খাঁটি আওয়ামী লীগার। আইভী কেবল তার পিতার মুখ রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগের খাতায় নিজের নামটুকু লিখিয়ে রেখেছেন। আইভী আসলে বাম ঘরানার লোক। তিনি বামদের কথায় ওঠবস করেন। বামেরা তাকে আওয়ামী লীগের কোন মিটিং মিছিলে যেতে দেয় না। 

 

‘এমন কানপড়া আপনাকে কে দিলো?’ তারেকের এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে হালিম চাচা বলতেই থাকেন, গেলো মাসে শহরের ২ নং রেলগেটে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলেন, আইভী সেই সমাবেশ বর্জন করলেন। চলতি মাসে কাঁচপুরে জেলা আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা আসলেন কিন্তু আইভী সেই সমাবেশে গেলেন না। গত বৃহস্পতিবার সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এলেন। আইভী ওই বর্ধিত সভাতেও উপস্থিত থাকলেন না।

 

আইভীর অনুগামী কেউ কেউ আবার গোঁজামিল দিতে গিয়ে বললেন, আগে থেকেই আইভীর কাছে খবর ছিলো, ওটা শামীম ওসমানের সভা। ওখানে গেলে তাকে নিয়ে নানা সমালোচনা হবে। তাই তিনি আগ থেকেই সাবধান হয়ে গেছেন। তবে শেষ মেস জানা গেলো, বর্ধিতসভা ডাকা হয়েছিলো ২৮ অক্টোবর ঢাকার সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ থেকে কোন নেতা কতো লোক নিয়ে যেতে পারবেন তা নির্ধারণের জন্য।

 

কিন্তু আইভী সভায় না যাওয়ার সুযোগ নিয়ে তার সম্পর্কে অনেককেই নানা কথা বলতে শোনা গেছে। এতে তো প্রমাণ হলো, আইভী আসলে শামীম ইগোতে ভুগছেন। এক্ষেত্রে তার করণীয় ছিলো, উক্ত সভাগুলোতে সদলবলে উপস্থিত হয়ে শক্তভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরা। তিনি কিন্তু জোরালো ভাবে যুক্তি দিয়ে কথা বলতে পারেন। তার কথার প্রতিবাদ অনেকেই সামনা সামনি করতে ভয় পায়।

 

শামীম ওসমান সুযোগ পেলেই বলে বেড়ান, আইভীর উপস্থিতিতে বাম নেতারা যখন শেখ হাসিনাকে গালাগাল দেয় তখন আমার অনেক কষ্ট হয়। অপরদিকে বিএনপির আন্দোলন ঠেকাতে বিরোধ মিটিয়ে একমঞ্চে আসার আহ্বান জানিয়ে আইভীকে পাঠানো ক্ষুদেবার্তাটিও শামীম ওসমান সবাইকে দেখিয়ে ফায়দা লুটছেন বলে মনে করা হচ্ছে। রিকশাটি গন্তব্যস্থলে যাওয়া পর্যন্ত তাদের এ কথোপকথন অব্যাহত ছিলো বলে জানালেন তারেক। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন