সম্মেলনের পাঁচ মাসেও হলো না জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৪:৫৭ পিএম
নানা চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে ও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকদিন পূর্বে জানা গেয়েছিলো যে কেন্দ্রে বলা হয়েছে জেলা বিএনপির খসড়া কমিটি জমা দেওয়ার জন্য।
এর পর তারা সকলেই বলে একত্রিত হয়ে আলাপ আলোচনা করে কেন্দ্রে খসড়া কমিটি দেওয়া হয়েছে যা প্রায় ২ মাসের কাছাকাছি হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো কেন্দ্র থেকে কোন প্রকারের নির্দেশ আসেনি। যার কারণে বর্তমানে তৃণমূল থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করছে। নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, বিএনপির নিবার্হী কমিটির কয়েকজন নেতৃবৃন্দ রয়েছে
যাদের লোকেরা ভালো কোন পদে না আসতে পারলে বিএনপিতে দ্বিধাদ্ব›দ্ব সৃষ্টি হবে। এমনকি বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনের বলয়ের লোকজন যদি কমিটিতে স্থান না পায় তাহলে দেখা যাবে একপ্রকার দ্ব›দ্ব এছাড়া ও নির্বাহী কমিটির সদস্য দিপু ভ‚ঁইয়া, কাজী মনির, আজহারুল ইসলাম মান্নান, সহ -অর্থ বিষয়ক সম্পাদক
মাহবুবুর রহমান সুমন, সহ-আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ এদের আওতাধীন বলয়ের নেতকার্মীরা জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির ভালো কোন পদে না আসতে পারলে দেখা যাবে বিশাল বিভক্ত। সেদিকে লক্ষ্যে রেখেই বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রেস দিচ্ছে না এমনটাই দাবি তৃণমূলের। এদিকে নেতাকর্মীরা
আরো বলেছে, যদি পূর্ণাঙ্গ কমিটি নাই হয় তাহলে তরিগড়ি করে জেলা বিএনপির সম্মেলন দিয়ে কি লাভ হলো। কারণ আহŸায়ক কমিটি থাকাকালীন সদস্য ছিলো ৯ জন আর সম্মেলনের পর বাকি ৭ জন সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হয়ে ২জনের হাতেই উঠে এসেছে জেলা বিএনপি বর্তমানে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক এই দুইজনেই চলছে জেলা বিএনপির রাজনীতি। এছাড়া ও শোনা যাচ্ছে কবে
এই জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়ে আসবে এটার কোন নিশ্চয়তা। এদিকে বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দফায় দফায় সরকার পতনের আন্দোলনের গতি বাড়াবে। সামনে আসছে ২৮ অক্টোবর যা নিয়ে বর্তমানে আলোচনায় শীর্ষ। এই মহা-সমাবেশকে ঘিরে বর্তমানে নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাপক আর এদিকে যদি জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়ে
আসতো তাহলে কিন্তু ১০১ হোক বা ১৭১,১৯১ সদস্য বিশিষ্ট হোক সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঢাকার রাজপথে একটা আলাদা ভ‚মিকাদেখাতে পারতো। কিন্তু পূর্নাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় এবার ২ নেতার উপরেই এই সম্মেলনের ভার এসে উঠেছে। এদিকে তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনের যেহেতু এখন বেশিদিন বাকি নেই যাকে ঘিরে অতিশীগ্রই জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়ে আসলে জেলা বিএনপি
আরো গতিশীল হয়ে নতুন রূপে রাজপথে আসবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বর্তমানের আন্দোলণের রূপ রেখার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আরো শক্তিশালী ভ‚মিকা থাকতে হবে। যার মূল বিষয়টা হচ্ছে কমিটির সদস্যবৃদ্ধি করা। কিন্ত দীর্ঘ কাল যাবৎ নারায়ণঞ্জ জেলা বিএনপি সদস্যবদ্ধি হচ্ছে বর্তমান কমিটির উপর আশা
রাখলে ও কবে হবে এটার কোন নিশ্চয়তা নেই এমনটাই জানা যাচ্ছে। এদিকে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে শোনা গেলো কয়েকদিন পূর্বে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক যে খসড়া কমিটি কেন্দ্রে জমা দিয়েছিলেন। তা আপাতত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রয়েছে। তিনি তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিলেই এই কমিটি প্রকাশ করা হবে।
কিন্তু বর্তমানে যেহেতু দলের দূসময় বিরাজমান যার কারণে হঠাৎ কমিটি প্রকাশ হলে দলে একটা বিভক্তি আসতে পারে। যার কারণে জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা এক প্রকার আটকে রয়েছে। জানা গেছে, সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজমান। এনমকি আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে
কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটাই ধীরগতি হয়ে আসছে। এর আগে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর গত ১৭ সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিলে গিয়াসউদ্দিন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন। কিন্তু এই ৫ মাসে এখনো কমিটির সদস্যবৃদ্ধি করতে না পারায় নেতাকর্মীদের মাঝে রয়েছে নানা ক্ষোভ। কিন্তু সামনে নির্বাচনের আগে
কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়ে আসলে হয়েতো নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি একটু শক্তিশালী হয়ে উঠবে। আর নির্বাচনের যেহেতু দুই মাসের মতো বাকি প্রায় তাহলে অতিশীগ্রই সময়ের মধ্যে কমিটি চায় তৃণমূল। এন. হুসেইন রনী /জেসি


