সেলিম ওসমানের আসনে এমপি হতে চান রশিদ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:১৬ পিএম
# তার পক্ষে সবই সম্ভব : স্থানীয় আওয়ামী লীগ
# চার-পাঁচদিন যাবৎ ঝুলে থাকার পর নামানো হচ্ছে ফেস্টুন
# তিনি আ’লীগের তুলনায় জাতীয় পার্টির বেশি অনুগত বলে অভিযোগ
এবার বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান এমপি সেলিম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছুদিন যাবত নৌকা মার্কার মনোনয়নের দাবী সম্বলিত ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, এমএ রশিদ যাদের হাত ধরে আজকের অবস্থানে পৌঁছালেন, তিনি কিভাবে আবার সেই পরিবারের বিরুদ্ধেই নির্বাচন করার ঘোষণা দিতে পারেন। অনেকেই আবার বলছেন যারা দলের জন্য রাজনীতি না করে স্বার্থের জন্য রাজনীতি করেন, যারা দলকে ভালো না বেসে একটি পরিবারের লেজুড়বৃত্তি করেন নিজের স্বার্থের জন্য তারা এমন একটি কাজ করতেই পারেন। তবে বিষয়টি নিয়ে এই আলোচনা সমালোচনার পর সেই ফেস্টুন এখন খুলে নিচ্ছে এমএ রশিদের লোকজন। অন্যদিকে আলোচনার সমালোচনার পর এমএ রশিদ এমন ইচ্ছের কথা অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টিকে উদ্দেশ্যমূলক এবং প্রতিহিংসামূলক বলে নাকি আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তবে বেশ কিছুদিন যাবৎ এই ফেস্টুনগুলো প্রকাশ্যে থাকার এতদিন পর কেন বিষয়টি নিয়ে তিনি মুখ খুলেছেন এবং ফেস্টুন নামানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তা নিয়েও স্থানীয় রাজনীতিতে বিশেষ করে তৃণমূল আওয়ামী লীগের মধ্যে চলছে সমালোচনা। তার উচ্চাভিলাষী অভিলাসের বিষয়ে হাস্য-রসের জন্ম দিয়েছে বলে বন্দরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অনেকেই আবার তাকে দিয়ে সবই সম্ভব বলে হাসাহাসিও করেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান এমপি সেলিম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচন করার ইচ্ছে প্রকাশ করে ওসমান পরিবারের একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে পরিচিত বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদের এই ফেস্টুনগুলো বেশ কিছুদিন যাবৎই বিভিন্ন পোস্টারে ঝুলছে। অনেকের মতে, এমএ রশিদ নামে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও প্রকৃত অর্থে তিনি ওসমান পরিবারের রাজনীতি করেন বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃণমূল বিশ্বাস করে।
ওসমান প্রীতির কারণে এবং ওসমান পরিবারের হাত ধরেই তিনি বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই সাথে বাগিয়ে নেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ। নিজ দলের প্রার্থী না হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত বন্দর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনগুলোর সময় ওসমান পরিবার ভক্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে দল থেকে অভিযোগ এসেছে একাধিকবার।
আওয়ামী লীগের প্রার্থীগণ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং মনের কষ্টগুলো প্রকাশ করলে তার পোষা ক্যাডারদের মাধ্যমে হুমকির শিকারও হয়েছেন। এমএ রশিদ ওসমান পরিবারের উপর ভক্তি দেখাতে গিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজের মান সম্মান বিসর্জন দিয়ে, দলের মান সম্মান বিসর্জন দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ না নিয়ে একাধিকবার চিহ্নিত রাজাকার ও তাদের সন্তাদের প্রতি পক্ষ নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সময় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
ওসমান পরিবারের কাছে ভালো থাকার জন্যই বিভিন্ন সময় রাজাকারদের সাথে একই মঞ্চে বসে সভা-সমাবেশ করেছেন বলে অভিযোগ আসে। দল থেকে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, এমএ রশিদের রাজনৈতিক সফলতা, দলীয় ভক্তি কিংবা দলের নিবেদিত প্রাণ হিসেবে হয়নি। বরং ওসমান পরিবারের অশির্বাদই তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্থানের মূল কারণ বলে স্থানীয়দের অভিমত। এমনকি রাজনীতিতে তিনি আওয়ামী লীগের তুলনায় জাতীয় পার্টির খুব বিশ্বস্ত বা অনুগত হিসেবেও এলাকায় বেশি পরিচিত বলে স্থানীয় রাজনীতির বিশ্লেষকদের অভিমত।
নাম না বলার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, বিগত ইউনিয়ন পরিষদের বেশ কয়েকটি নির্বাচনে নিজ দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে কাজ করার বিষয়ে বেশ কয়েকবারই বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। আওয়ামী লীগের কোন আয়োজনে বিশেষ করে যেখানে ওসমান পরিবারের উপস্থিতি না থাকে সেখানে এমএ রশিদ বিভিন্ন বাহানায় অনুপস্থিত থাকলেও আওয়ামী লীগের বাইরে গিয়ে জাতীয় পার্টি ও ওসমান পরিবারের কোন আয়োজনে উপস্থিত হন না এমন ঘটনা খুব কমই ঘটেছে বলে জানান তারা।
বিষয়টি নিয়ে বন্দর আওয়ামী লীগের মধ্যে বেশ ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও অনেকটা ডেম কেয়ারের ভাবে ছিলেন তিনি। এমনকি জাতীয় পার্টি মার্কা বন্দর আওয়ামী লীগের এমন নেতৃত্ব থেকে বাঁচতে বিভিন্ন সময় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের কাছেও ধর্ণা দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এ ধরণের নেতৃত্বের কারণে বন্দর আওয়ামী লীগ এখন অস্তিত্ব সংকটে বলে বন্দর আওয়ামী লীগ একাট্টা হয়ে এই আসনে এবার যেকোন উপায়ে নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন চাইছেন।
দলকে বাঁচাতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ নাসিক মেয়রকেও অনুরোধ জানানো দলীয় প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নিকট তাদের দাবি পৌছিয়ে দিতে। তারা প্রকৃত পক্ষে বন্দর আওয়ামী লীগের একজন অভিভাবক চান। দীর্ঘদিন যাবৎ নিজ দলীয় নামধারী এই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের ভয়ে তারা মুখ খুলতে ভয় পান।
সর্বশেষ অনুষ্ঠিত বন্দরের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ফলাফলও এই গেম মাইন্ডারের বানানো বলে তাদের অভিযোগ। তাই এমন স্বার্থলোভী একজন ব্যক্তির কাছে এমন কাণ্ড কোন অপ্রত্যাশিত বিষয় নয় বলেও মনে করেন তারা। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও সিটি নির্বাচনেও এধরণের নেতারা প্রকাশ্যে এর প্রমাণ দিয়েছে বলে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা একাধিকবার তাদের বক্তব্যে প্রকাশ করেছেন। এস.এ/জেসি


