# ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে এখনো বিভেদ স্পষ্ট আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহার মধ্যে
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের বিভক্তি এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় নেতারা দলের এ দুঃসময়ে অনৈক্য দূর করতে চাইলেও তা আর হয়ে উঠছে না। নেতাদের কারণে কর্মীদের মধ্যেও বিভক্তি লক্ষ করা গেছে। কেননা আগামী নির্বাচন ঘিরে বারা বার দলীয় হাই কমান্ড থেকে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানালেও নারায়ণগঞ্জে তা মানা হচ্ছে না। ১৯ অক্টোবর জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের বিভক্ত ফুটে উঠে।
এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে বিভক্তি বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। তাদের দাবি, তাদের নেতারা যেখানে রয়েছে তারাও তাদের সঙ্গে রয়েছে। তারা তার পছন্দের নেতার সঙ্গে থেকে রাজনীতি করতে চান। যেহেতু আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় আওয়ামী লীগের জনসমাবেশ সফল করতে গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জে আসেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি। তিনি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কমিটি না থাকা নিয়েও ব্যর্থতা স্বীকার করেন।
দলীয় সুত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয় জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউজে। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে দেখা গেলেও সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে দেখা যায় নাই। যদিও শুরু থেকেই আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহার মধ্যে মত পার্থক্য বিদ্যমান।
তবে মাঝ খানে মহানগরের ওয়ার্ড কমিটি গঠনে তাদের এক সাথে দেখা গেলেও সম্প্রতি তাদের এক সাথে দেখা যাচ্ছে না। একদিকে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ঢামাঢোল অন্যদিকে সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বিএনপিসহ সমমনাদলগুলোর আন্দোলন। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন গড়তে বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হয়ে ছুটে আসেন মির্জা আজম। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ওই বর্ধিত সভায় শেষ পর্যন্ত যোগ দেননি আনোয়ার হোসেন।
আর এতে করে দলের মধ্যে বিভক্তিতে বিপাকে রয়েছে তৃণমূল কর্মীরা। এ নিয়ে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা হলেও, বিভক্তির কারণে দলের চূড়ান্ত প্রয়োজনে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনৈক্য কর্মীদের মনোবল দুর্বল করে দিবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধমহল। যার প্রভাব পড়বে বিরোধীদের আন্দোলন মোকাবেলায়। তাছাড়া কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আজমও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিভক্তি দেখে গেলেন।
সূত্র মতে, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাকে ঘিরে দুইভাগে বিভক্ত মহানগর আওয়ামী লীগ। তারা দুইজন স্থানীয় রাজনীতিতে দুই বলয় ধারণ করে চলছেন। এর মধ্যে সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বলয়ে ও খোকন সাহা ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি শামীম ওসমানের বলয়ে রাজনীতি করেন। ফলে মেয়র সভায় না যাওয়াতে আনোয়ার হোসেনও যাননি। এমনটা মনে করছেন বর্ধিত সভায় উপস্থিত একাধিক নেতারা।
জানা যায়, মহানগর আওয়ামী লীগে ২০ বছর ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আনোয়ার হোসেন আর ২৭ বছর ধরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। সর্বশেষ সম্মেলন ছাড়াই ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। এর দুই বছর পর ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু দীর্ঘ এই সময়েও তারা মহানগরের আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ডের সবগুলোতে কমিটি গঠন করতে পারেননি। মাস কয়েক আগে ১৭ টি ওয়ার্ডের সম্মেলন করলেও এখনো সেকল ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষনা হয় নাই। তার মাঝে সিদ্ধিরগঞ্জের ১০ টি ওয়ার্ডে এখনো পর্যন্ত সম্মেলন হয় নাই। মূলত নিজেদের মধ্যে কোন্দল ও বিভেদের কারণেই দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ওয়ার্ড কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ফলে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ব্যর্থতার কারণে মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ডে দলের সাংগঠনিক অবস্থা হ-য-ব-র-ল। যা বর্ধিত সভার মাধ্যমেও কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আজমে তাদের বিভক্ত দেখে গেলেন। এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এস.এ/জেসি


