Logo
Logo
×

রাজনীতি

রশিদকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৪১ পিএম

রশিদকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা
Swapno

 

# তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেই হুমকি-ধমকি প্রদান করা হয়
# ৯৭’র সম্মেলনেও প্রভাব বিস্তার করেও হেরে যান তিনি
# তার বিরুদ্ধে দলীয় প্রার্থীকে পরাজয় করতে ছক কষার অভিযোগ

 

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমএ রশিদ। তিনি নিজেও একজন মুক্তিযোদ্ধা। অথচ তার এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকারী, নির্যাতনকারী রাজাকার পরিবার ও তার সদস্যদের সাথেই তার সখ্যতা। বিষয়টা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল। মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদের নিজের এলাকা ধামগড়। আর এই ধামগড় এলাকায়ই সেই তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী ও রাজাকার পরিবারের যুদ্ধ চলাকালীন সময়ের বর্বরতা, যুদ্ধ পরবর্তী বর্বরতা তার চোখের সামনেই হয়েছে।

 

অন্যদিকে বর্তমানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পরোক্ষ মদদে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজাকারদের নির্যাতন খুবই হতাশা জনক বলে মনে করেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীগণ। এমনকি যারা রাজাকার পরিবারের পক্ষে আওয়ামী লীগ এই নেতার সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তাদের বিরুদ্ধেই তিনি তার ক্যাডারদের মাঠে নামিয়ে হুমকি ধামকি প্রদান করে তাদের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন।

 

শুধু তাই নয়, ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কথা বলায় এবং প্রচারণা চালানোর অপরাধে নির্বাচিত রাজাকার জনপ্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের জন্মনিবন্ধন সনদ না দেয়াসহ বিভিন্ন কাজে অসহযোগিতা করার মতো ঘটনায়ও নির্বিকার থাকছেন এমএ রশিদ। এভাবে বিভিন্ন সিনেমেটিক কাহিনীর মধ্য দিয়ে এমএ রশিদের আজকের এই অবস্থান। যেখানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা, মুক্তিযুদ্ধের অনেক বছর পরও যেখানে রাজাকার পরিবারের হাতে প্রকাশ্যে খুন হয় মুক্তিযোদ্ধা, সেখানে এক সাদামাঠা পরিবার থেকে বেড়ে ওঠা এই মুক্তিযোদ্ধার কোটি কোটি টাকার মালিক ও এক প্রভাবশালী নেতা বনে যাওয়ার গল্পটাও অনেকটা তামিল সিনেমার ভিলেনদের মতো।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার মধ্যে এক সময় (এরশাদের শাসনামলে) জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী নেতার ভূমিকা নিতেন এমএ রশিদ। তখন থেকেই তৎকালীন জাতীয় পার্টির সাংসদ একেএম নাসিম ওসমানের সান্নিধ্য পাওয়ার চেষ্টা চালান তিনি এবং সফল হন। সে সময় থেকেই ওসমান পরিবারে যাতায়াত শুরু করেন এম রশিদ। একই সাথে ’৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়ের অন্যতম চিহ্নিত রাজাকার পরিবার ও বর্বর পরিবার হিসেবে খ্যাত রফিক রাজাকারের (মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মাকসুদের পিতার নাম) পরিবারের সাথে সখ্যতা গড়ে নিজের প্রভাব বজায় রাখেন এমএ রশিদ।

 

এরপর ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন ওসমান পরিবারের সদস্য একেএম শামীম ওসমান। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের সম্পূর্ণ নতুন মুখ, বন্দরবাসী ও সাবেক আমলা এসএম আকরাম। সে সময় সাবেক এমপি নাসিম ওসমান ও তৎকালীন এমপি শামীম ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রভাব ছিল নারায়ণগঞ্জ জুড়ে। আর সেই প্রভাবের সহযোগিতা নিয়ে ১৯৯৭ সালে মদনপুরের নাজিম উদ্দিন ভূইয়া কলেজে অনুষ্ঠিত বন্দর থানা আওয়ামী লীগের (সে সময় আলাদা উপজেলা এলাকা হয়নি) সম্মেলনে সভাপতি হওয়ার চেষ্টা চালান তিনি।

 

এজন্য শহর থেকে বেশ কয়েকটি মাইক্রোযোগে লোকজন নিয়েও হাজির হন বলে অভিযোগ আছে। তখনকার নতুন এমপি শামীম ওসমান উপস্থিত থেকে এমএ রশিদকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ ছিল। তখন এমএ রশিদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউদ্দিন আহমেদ।

 

বন্দর জুড়ে শফিউদ্দিন আহমেদের বেশ জনপ্রিয়তা থাকায় তার পক্ষে উপস্থিত নেতা কর্মীসহ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের তৎকালীন এমপি এসএম আকরাম এবং জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরজু রহমান ভূঁইয়ার দৃঢ় হস্তক্ষেপে সেখানে হট্টগোল করার পরও পিছু হটতে বাধ্য হন রশিদ গ্রুপ। তাই সেই সম্মেলনে তার আর সভাপতি হওয়ার সাধ পূর্ণ হয়নি। তবে ২০০৩ সালে বন্দরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ওসমান পরিবারের সেই লবিং প্রয়োগসহ ওসমান পরিবারের বলয়ের লোকদের কাজে লাগিয়ে বন্দর থানা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিজের করে নেন এমএ রশিদ। এরপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

 

এরপর একাধারে রাজাকার পরিবারের সাথে সখ্যতা, আওয়ামী লীগে জাতীয় পার্টি মার্কা নতুন নেতা তৈরি করা, কিছু নামধারী ভূয়া সংবাদ কর্মী তৈরি করা, তৃণমূল আওয়ামী লীগের মুখ বন্ধ করতে তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা এবং ওসমান পরিবারকে তুষ্ট রেখে নিজের স্বার্থ হাসিল করার মতো কাজগুলোতে মনোনিবেশ করেন তিনি। তার প্রভাবের উপর ভর করে তার পরিবারের সদস্যরাও একে একে গড়ে তুলে অর্থ ও সম্রাজ্যের রাজত্ব।

 

পুরু বন্দর জুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করতে এবং তার বিরুদ্ধে কথা বলার সকল রাস্তা বন্ধ করতে এ সকল বাহিনীকে কাজে লাগান তিনি। আর এর মাধ্যমেই বন্দরের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এমএ রশিদ। বিগত নির্বাচনগুলোতে তার হস্তক্ষেপেই নিজ দলীয় প্রার্থীরা পরাজিত হয় বলে বিভিন্ন সভা সমাবেশে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন দলীয় নেতা কর্মীরা। তবে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আসলেও বিচলিত হন না তিনি। বরং স্বাচ্ছন্দে এবং প্রকাশ্যেই দেখা যায় নিজ দলীয় প্রার্থীদের ছেড়ে জাতীয় পার্টির নেতাদের নির্বাচনে সহযোগিতা করতে। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন