Logo
Logo
×

রাজনীতি

সেলিম ওসমানের সংবর্ধনা নিয়ে আ.লীগে আপত্তি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:০৯ পিএম

সেলিম ওসমানের সংবর্ধনা নিয়ে আ.লীগে আপত্তি
Swapno

 

# বিদায় বেলায় সংবর্ধনা দেয়া হয় : এড. দিপু
# তিনি না.গঞ্জে কি এমন জয় করে ফেলেছে : জাহাঙ্গীর

 

 

সারাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আগামী দ্বাদশ নিবার্চন নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই সাথে আমাী নির্বাচনের ঢামাডোল বাজতে শুরু করেছে। সপ্তাহ দুয়েক পরে নভেম্বরের শুরুতে আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হতে পারে। তাই নির্বাচন জোরে সরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল।

 

সরকার বিরোধী দলগুলো চাচ্ছে আগামীতে যেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থ বারের মত ক্ষমতায় না আসতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগও ছেড়ে দিবে না। তারা চতুর্থ বারের মত ক্ষমতায় থাকার জন্য মাঠে নেমে মানুষের কাছে ভোট চাওয়া শুরু করেছে। কিন্তু মাঝখানে জাতীয় পার্টি নিরব থেকে আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে ফায়দা লুটে নেয় জাতীয় পার্টি। তার প্রভাব নারায়ণগঞ্জেও রয়েছে।

 

এদিকে আজ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে বন্দরের সমরক্ষেত্র মাঠে সংবর্ধনা দেয়া হবে সেলিম ওসমান সাপোর্টার্স ফোরাম আয়োজনে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। এই সংবর্ধনা সভার সভাপতিত্ব করবেন বন্দর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিনও উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু রীতিমত রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা তৈরী হয়েছে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে।

 

কেননা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে স্বাভাবিক ভাবে কেউ বিদায় নিলে কিংবা নির্বাচিত হলে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। কিন্তু এখন এমপিদের শেষ সময় চলছে, কয়েক দিন পরেই সংসদ বিলুপ্ত হবে। আর এতে করে এমপির বিদায় হবে। এই সময়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এমপি সেলিম ওসমানকে কেন সংবর্ধানা দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ ঢাকার লাগোয়া জেলা হওয়ায় নির্বাচন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলন সংগ্রামে এই জেলা নিয়ে আলোচনায় থাকে সবার শীর্ষে। এছাড়া দেশের অর্ধেক জেলা গুলো যাতায়াতের জন্য নারায়ণগঞ্জ হয়ে যেতে হয়। তাছাড়া বাণিজ্যিক দিক দিয়ে সারা বিশ্বে এখানকার পরিচিত রয়েছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন। তাই আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন নিয়ে এবার আগে থেকে আলোচনা চলছে।

 

তবে এই আসনটিতে টানা ১৪ বছর যাবৎ ওসমান পরিবারের দখলে রয়েছে। একই সাথে জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। এখানে ঘুরে ফিরে তারাই রাম রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের সেই রাজত্বে আগামীতে ভাটা পরতে পারে। কেননা ইতোমধ্যে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জোড়ালো ভাবে নৌকার দাবী জানিয়ে আসছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও তাদের আশ্বস্ত করেছে।

 

জানা যায়, ২০২১ সনের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগ মুহুর্তে ২৮ অক্টোবর বন্দরের এক সভায় গিয়ে সাংসদ সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী কাজিমউদ্দিনের সমালোচনা করে এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, একজন কলাগাছিয়াতে নির্বাচন করছেন। কলাগাছিয়াতে গাঞ্জার নৌকা তাল গাছে উঠাতে চাচ্ছেন। গাঞ্জার নৌকা কখনো তাল গাছে উঠবে না।

 

আমি কোন জোরের কথা বলছি না। একজন সংসদ সদস্য কোন নির্বাচনের কথা বলতে পারবেন না। আমরা শেখ হাসিনার নৌকা। আমরা গাঞ্জার নৌকা না। তখন এই জনপ্রতিনিধির মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরী হয়। এমনকি আওয়ামী লীগের হৃদয় ক্ষরণ হয়। তার মন্তব্য নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা প্রতিবাদ পর্যন্ত জানান।

 

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল জানান, আমরা জেলার ৫টি আসনে নৌকা চাই। ১৩ তারিখে কাচঁপুরের সমাবেশে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক ভাই তো বলেছেন যে, যারা জাতীয় পাট এমপি হয়ে আওয়ামী লীগ করে তারা এককভাবে নির্বাচন করলে একটা সিটও পাবে না। এখন যারা আওয়ামী লীগে থেকেও জাতীয় পার্টির এমপিকে সংবর্ধনা দিচ্ছে সেটা তাদের বিষয়। এগুলো আমরা মাথায় নেই না।

 

আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, নির্বাচন আসলেই অনেকে অনেক ধরনের খেলা খেলতে চায়। আওয়ামী লীগ তাকে সংবর্ধনা দিচ্ছে না। যারা বিভিন্ন ভাবে সেলিম ওসমানের কাছ থেকে বেনিফিসিয়ারি হয়েছে তারাই তাকে সংবর্ধনা দিচ্ছে। আমরা নৌকার দাবিতে অটল আছি। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য আমাদের দাবির সাথে একমত পোষন করেছেন।

 

পাশাপাশি দলের সেক্রেটারি এই দাবির কথা নেত্রীর কাছে বলবেন বলে জানিয়েছেন। আসলে সংবর্ধনা কখন দেয়া হয়, যখন বিদায়ের ঘন্টা বাজে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আগামীতে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু সকল এমপি কী তার আগের জায়গায় থাকবে। আমরা স্কুলে পড়ার সময় দেখেছি কোনো শিক্ষক বিদায় নিলে তাকে সম্মান স্বরুপ সংবর্ধনা দেয়া হয়।

 

সেলিম ওসমানের বিষয়টা তাদের কাছে তেমনই কিনা তা পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমরা জানি কেউ নির্বাচিত হলে কিংবা কারো বিদায় হলে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। কিন্তু তাকে কি কারণে সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে যারা এই সংবর্ধনার আয়োজন করেছে তারাই বলতে পারবে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টি এখন বিএনপির সাথে সুর মিলিয়ে কথা বলছে।

 

আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নারায়ণগঞ্জের-৫টি আসনে নৌকার দাবী জানিয়ে আসছি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী চাই। এখানে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করে নৌকার প্রার্থী দিতে বলেছি। আশা করি নেত্রী আমাদের দাবী পুরণ করবে।

 

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের যাদের কাছ থেতে তিনি সংবর্ধনা নিচ্ছে তারা অর্ধেক আওয়ামী লীগ করে আর অর্ধেক জাতীয় পার্টি করে। সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জে কি এমন জয় করে ফেলেছে তাকে এই সময়ে সংবর্ধনা দিতে হবে। যারা লাঙ্গল মার্কা রাজনীতি করে তারাই তাকে সংবর্ধনা দিবে। প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতারা এই অনুষ্ঠানে যাবে না। কেননা নারায়ণগঞ্জবাসী এখন তাকে চায় না। নারায়ণগঞ্জের মানুষ এখানে নৌকার প্রার্থীকে এমপি হিসেবে চান।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, আগামী নির্বাচন হবে চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন। যা ক্ষমতাসীন দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলে আসছেন আগামী নির্বাচন কঠিন হবে। নিজের জনপ্রিয়তায় পাশ করে আসতে হবে বলে জানান নিজ দলীয় এমপিদের। কিন্তু সাংসদ সেলিম ওসমানই নৌকাকে নিয়ে সমালোচনা করে গাঞ্জার নৌকা তাল গাছে উঠবে না বলে সমালোচনা করেছে। এখন তিনিই আবার সেই নৌকা মার্কা মনোনীত চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সেলিম ওসমানকে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

 

এমনকি নৌকা মার্কার রাজনীতি করে তাদের থেকেও সংবর্ধনা নিবেন। তাই প্রশ্ন উঠেছে তিনি কি তাহলে গাঞ্জার নৌকা থেকে সংবর্ধনা নিচ্ছেন। ভোটের মাঠে সাংসদ সেলিম ওসমানের জনপ্রিয়তা তলানীতে রয়েছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। তিনি নির্বাচন আসলেই গর্জন দেন। নির্বাচন পার হয়ে গেলে সারা বছর জুড়ে অসুস্থ হয়ে দেশের বাইরে থাকেন। আর এতে করে নাগরিকদের সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই আগামী নির্বাচনে তার বিদায় ঘন্টা বাজতেও পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক সচেতন মহল। এস.এ/জেসি  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন