# ইউপি নির্বাচনেও তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন সংগ্রহ করেন
# দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করতে কৌশল অবলম্বন করেন তিনি
# গাঞ্জার নৌকা বলে অপমান করলেও প্রতিবাদ করেননি তিনি
বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদের উপর অভিযোগ আছে নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে নিজ দলের বারোটা বাজিয়ে জাতীয় পার্টিকে জয় উপহার দিতে বিভিন্ন রকমের ছক কষেন তিনি। তাই নিজেকে নৌকার প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছেটি কৌশলে প্রকাশ্যে এনে এখন আবার নৌকাকে প্রকাশ্যে গাঞ্জার নৌকা উপাধি দেওয়া জাতীয় পার্টির নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়ার শখ করেছেন তিনি।
স্থানীয়ভাবে এমএ রশিদের কখন কোনটা শখ হয় তা শুধু তিনিই জানেন বলে মনে করেন বন্দর আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা, কর্মী ও সমর্থকগণ। তাদের মতে এমনিতেই তিনি যেকোন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হতে বেশ আগ্রহী এবং উৎসাহ বোধ করেন। এর মধ্যে যদি জাতীয় পার্টি কিংবা ওসমান পরিবারের কোন সদস্য সেখানে উপস্থিত থাকেন তাহলে তো কোন কথাই নেই।
জাতীয় পার্টিকে খুশি করতে তিনি অতি উৎসাহী হয়েই নিজ দলের বিপক্ষে গিয়ে সরাসরি জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। বন্দর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার দাবি এমএ রশিদ কখনও তার নিজ উদ্যোগে কোন দলীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন এমন কোন ঘটনা শুনিনি।
তবে দলের কেউ কোন আয়োজন করলে সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পছন্দ করেন বেশি। একই সাথে দলীয় উন্নয়নমূলক কোন কাজের বিষয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের উপর আস্থা না রেখে নিজের গড়ে তোলা সদস্য কিংবা জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীদের প্রচার কাজে সম্পৃক্ত করতে বেশি পছন্দ করেন বলে বন্দর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অভিযোগ।
তার কোনো কর্মের প্রতিবাদ করলে জাতীয় পার্টির লাঠিয়াল বাহিনী, তার সুবিধা দিয়ে পুষে রাখা কিছু পথভ্রষ্ট নেতা, তার হাতে গড়ে ওঠা কিছু পাতি নেতা এবং তার কাছ থেকে সুবিধা ভোগ করা কিছু নামধারী সাংবাদিকদের রোষানলে পড়তে হয় বলে ভূক্তভোগীদের অভিযোগ।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বন্দরে অবস্থিত ইউনিয়নগুলোয় আওয়ামী লীগের ভরাডুবির কারিগরও এই এমএ রশিদ। নির্বাচনের বছর খানেক আগে থেকেই যখন জাতীয় পার্টি মনোনীত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান ঘোষণা করেন এখানকার ৫টি আসনেই আমি বর্তমান চেয়ারম্যানদের চাই।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি এখানে এই চেয়ারম্যানদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কেউ নেই। যেহেতু বর্তমান চেয়ারম্যানদের তুলনায় যোগ্য লোক নেই তাই অযোগ্য লোকদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ারও প্রয়োজন নেই। স্থানীয়দের মতে এমপির নির্দেশের বাইরে গিয়ে কেউ যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সাহস না দেখায় এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত তাতের হুশিয়ার করে দিলেন। জাতীয় পার্টির সেই গুরুর নির্দেশ পালনে খুবই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।
তাই দলীয়ভাবে যখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন কেন্দ্র তখন অনেকটাই নির্লিপ্ত থেকেছেন এমএ রশিদ। তখন জেলা আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায় ইউপি নির্বাচন হবে এবং এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটিগুলোকে চিঠি দিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা আওয়ামী লীগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এর অন্তত এক মাসের মধ্যে বিভিন্ন সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাথে যোগাযোগ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে তারা কোন নির্দেশনা বা চিঠি পাননি বলে জানান নেতা কর্মীগণ। সর্বশেষে যখন নির্বাচন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে এবং একেবারে দোরগোড়ায় এসে যায় তখন সকলকে অপ্রস্তুত করে, কোন প্রকার নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ করার সুযোগ না দিয়ে এবং নেতা কর্মীদের জনগণের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে না দিয়ে একেবারে অল্প সময়ের মধ্যে অনেকটা আকস্মিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেন তিনি।
ফলে আওয়ামী লীগ থেকে কোন শক্তিশালী প্রার্থী অংশগ্রহণ করতে পারেননি বলে অভিযোগ আসতে শুরু করে। এরমধ্যে তাদের হিসেবের বাইরে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়ন থেকে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন দলীয় মনোনয়ন পেলে তার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র ও গোপন লবিং করার অভিযোগ আসে। নির্বাচনের পর বিষয়টি নিয়ে কলাগাছিয়া আওয়ামী লীগের বেশ কিছু সমর্থক সরাসরি এমএ রশিদের নাম নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন।
সেই নির্বাচনের পূর্বে দেলোয়ার প্রধানের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে অপমান করেন সাংসদ সেলিম ওসমান। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকাকে তিনি গাঞ্জার নৌকা বলে উল্লেখ করে বলেন, গাঞ্জার নৌকা তাল গাছে উঠবে। বন্দর আওয়ামী লীগের অভিভাবকের পদে থেকেও সেলিম ওসমানের এই বক্তব্যের কোন প্রতিবাদতো করেনইনি বরং এমএ রশিদের মদদেই আওয়ামী লীগের নেতারা প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরোধিতা করেন বলে স্থানীয় সমর্থকদের অভিযোগ।
বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী ভক্তদের মনে এমএ রশিদের বিরুদ্ধে এমনিতেই বিষোদাগার তৈরি হয়নি। নির্বাচনের পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিকেই এর প্রমাণ বলে মনে করেন তারা। সেই ছবিতে দেখা যায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী দেলোয়ার প্রধানের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় সেখানে ক্যামেরার সামনে উপস্থিত ছিলেন এমএ রশিদ। ছবিতে তাকে বেশ হাস্যোজ্জ্বলই দেখা যায়।
তবে বিষয়টি দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করলে তিনি বিষয়টিকে কাকতালীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেলোয়ার প্রধান আমাকে সালাম করে আমার দোয়া চায় এবং আমাকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র কেনার আবদার করে। আমি প্রথমে রাজি না হলেও পরে তার আবদারের কারণে তার সঙ্গে মনোনয়নপত্রটি সংগ্রহ করি।
তবে এমন কাকতালীয় ঘটনা নিজের দলের লোকের পক্ষে কখনও হতে দেখা যায়নি বলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অভিযোগ। সে বিষয়ে দেলোয়ার প্রধান বলেন, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী। আমি এই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। তিনি মুরুব্বি, তাই আমি তাকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র কিনেছি। এস.এ/জেসি


