উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় মানুষ, পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:০১ পিএম
# নাশকতা বিশৃঙ্খলা অরাজকতা ঠেকাতে নিয়মিত কাজটাই চলমান আছে : এডি. এসপি (অপরাধ)
আগামী ২৮ অক্টোবর আওয়াামী লীগের সমাবেশ এবং বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশ ঘিরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এদিন বিএনপির লোকজন ঢাকায় এসে সমাবেশ শেষে বসে পড়বেন কি না, কী অবস্থান থাকবে সরকারি দলের এবং এসব ক্ষেত্রে পুলিশ কী ব্যবস্থা নেবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
মাঠের বিরোধী দল বিএনপি, ছয়টি রাজনৈতিক দলের জোট গণতন্ত্র মঞ্চ, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ বেশ কিছু ছোট-বড় রাজনৈতিক দল সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে।
অন্যদিকে বর্তমান সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে মাঠে রয়েছে আওয়ামী লীগসহ তাদের ১৪ দলীয় জোট। গত ১৮ অক্টোবর নয়া পল্টনের সমাবেশ থেকে আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপি চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে মহাসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নয়াপল্টনে এই মহাসমাবেশ করবে দলটি।
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা গণতন্ত্র মঞ্চও এদিন সমাবেশ করবে। মৎস্যভবন এলাকায় এই সমাবেশ করবে তারা। একই দিনে বিজয় নগরে সমাবেশ করবে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে না থাকলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ২৮ অক্টোবর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী।
এছাড়া ৩ নভেম্বর ঢাকায় বড় ধরনের সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। অন্যদিকে ২৮ অক্টোবর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। এদিন বড় জমায়েত করার লক্ষ্য রয়েছে দলটির।আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের জোট ঢাকায় জনসমাবেশ করবে ৩০ অক্টোবর।
আগের সমাবেশগুলোয় যে ধরনের যানজটে পড়তে হয়েছে ঢাকাবাসীকে, ২৮ তারিখ সেই রূপ দেখা মিলবে কি না, এসব বিষয় নিয়ে চায়ের দোকান থেকে উচ্চ স্তরের আড্ডায় আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। যদিও যত সময় কাছাকাছি হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আলোচনার পালে আরও হাওয়া দিচ্ছে।
যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, ওই দিন অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। তবে সব ধরনের শঙ্কা পেছনে ফেলে সুষ্ঠুভাবে সমাবেশ কিংবা মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, এমনটাই আশা করছে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ঢাকায় প্রবেশের সবগুলো পথে বৃহস্পতিবার থেকে বিশেষ নজরদারি শুরু করবে জেলা পুলিশ এ লক্ষ্যে বাড়তি নিরাপত্তা চৌকি বসানো হবে। কোন ধরনের অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী যেন ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে এবং দুই দলের সমাবেশকে ঘিরে কেউ যেন নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ না করতে পারে সে লক্ষ্যে এসব নিরাপত্তা চৌকিতে নজরদারি করা হবে।
একই লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকা পাড়া মহল্লায় বিশেষ নজরদারি ও প্রয়োজনে অভিযানের প্রস্তুতিও রয়েছে পুলিশ। এছাড়াও ২৮ অক্টোবর ঢাকায় সমাবেশকে ঘিরে ও সমাবেশ পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জে যেকোন ধরনের নাশকতা কিংবা রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে পুলিশের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের (অপরাধ বিভাগের) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা যুুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার নাশকতা বিশৃঙ্খলা অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে পুলিশের নিয়মিত যে কাজ আছে, সেটা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা পালন করছি।’
এদিকে প্রশাসনের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ২৮ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনও ধরনের গুজব কিংবা জানমালের ক্ষতি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে ব্যাপারে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক মামলাগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট থানা এলাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের অবস্থান কোথায়, তা নিশ্চিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে বিএনপি নেতাকর্মীসহ জামায়াত-সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো সম্পর্কেও অবহিত হতে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
একটি সূত্র বলছে, হঠাৎ ২৮ অক্টোবরকে সামনে রেখে যারা রাজধানীতে ঢুকবেন, তাদের বিষয়গুলো কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। রাজধানীতে ঢোকার প্রতিটি মুখে চালানো হবে তল্লাশি। সন্দেহ হলেই পড়তে হবে পুলিশি জেরার মুখে। সমাবেশে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীরা যদি অবস্থান নেন এবং রাজধানী অবরোধ করার মতো কোনও ঘটনা ঘটে, তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব ধরনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এস.এ/জেসি


