এই মাস ক্রুশিয়াল, ঝড় আসবে জয় আমাদের : শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৩:১৪ পিএম
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেন, বাংলাদেশের কোথাও না কোথাও এখন জাতির পিতার কন্যাকে হত্যার পরিকল্পনা হচ্ছে। বাংলাদেশকে সিরিয়া, লেবানন, আফগানিস্তান বানানোর পরিকল্পনা হচ্ছে। এখন আপনাদের পছন্দ আপনারা কি করবেন। আমি মুক্তিযুদ্ধের সন্তান হিসেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা লড়াই করবো এবং লড়াইয়ে জিতবো।
আজকে তারা আবারো জেগে উঠেছে। যারা রাজনীতির নামে মানুষকে পুড়িয়ে মারে তাদেরকে আমি গণতান্ত্রিক রাজনীতি বলতে পারিনা। কোভিড আর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ না হলে আমরা ভারতের চাইতে ৪ পারসেন্ট বেশি জিডিপি হয়ে যেত। গতকাল বন্দরে সাংসদ সেলিম ওসমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামীম ওসমান বলেন, ৩৩ রাষ্ট্রের নির্বাচন যেখানে, সেখানে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে এতো মানবাধিকার, ভোটাধিকারের কথা বলে। আমরা তো পরাধীন রাষ্ট্র নই। আমরা দয়ার দান দিয়ে স্বাধীনতা দেয় নাই। অন্যরা আমাদের ভোটাধিকার নিয়ে কথা বলেন কেন, আমাদের কি আত্মসম্মান বোধ নাই। যারা বলেন তারা ওই যে ২০০ বছর গোলামী করেছে সেই রক্ত শরীর থেকে যায় নাই।
এই মাসটা অত্যন্ত ক্রুশিয়াল মাস হবে। অনেক কিছু করার চেষ্টা হবে, ঝড় আসবে, টিনের চাল উড়ে যাবে। শামীম ওসমান পড়ে যাবে, ১৬ জুনের মতো হয়তো আবার বোমা হামলা হবে। চন্দনের মতো আবার কেউ দুইপা হারাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাই ক্ষমতায় আসবে। ফল,ফুল গাছ লাগাবেন, না কাটা গাছ লাগবে সেই সিদ্ধান্ত আপনাদের।
শামীম ওসমান বলেন, আমি নাটক খুব ভালো পারি, কোন মন্ত্রীর টেবিলে কত জোরে থাবড় দিতে হয় সেটা আমি জানি। কোন থাবড় দিলে কিভাবে উন্নয়নে দুই টাকা আসবে সেইটা আমি বুঝি। আমরা কাজ করেছি, আপনাদের খুশি করার জন্য। গরীব মানুষ যেটা দেয় সেটা অন্তর থেকে দেয়, বড় লোক যেটা দেয়া স্বার্থ থেকে দেয়।
শামীম ওসামন আরো বলেন, আজকে অনেকেই ইসলামের নামে রাজনীতি করে। আমি অবাক হয়ে যাই, শেখ হাসিনা প্যালেস্টাইনের পক্ষে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে কথা বলেন, মাথা উচু করে দাঁড়ান। কিন্তু অন্যদিকে অনেকেরই ফোনালাপ বেড়িয়ে গেছে, কথা বলার দরকার নাই। এদেশে দুই ধরণের রাজনীতি। একটা খাইতে আসে, আরেকটা দিতে আসে।
সেলিম ওসমান দিতে এসেছেন। আমরা অনেক কষ্ট করেছি। আমরা কারো কাছে হাত পাতিনি, ভিক্ষা চাইনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেলিম ওসমানকে ধরার জন্য ধাওয়া দিল। সদর থানায় এসে সারেন্ডার করার পরও তাকে ধরে নিয়ে গেলেও। তাকে নির্যাতন করা হল।
আমার মায়ের কথায় ভয় পেয়ে (তাকে সেলিম ওসমান) অর্ধমৃত অবস্থায় তাকে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল। আমাদের পরিবারের হাল ধরেছিলেন আমার এই ভাই। আমাদের বাড়ি নিলামে উঠেছিল। আমরা মানুষের জন্য কাজ করি। রাজনীতিকে আমরা ইবাদত মনে করি।
২০০১ সালের নির্বাচনে হার প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, আমাকে এমপি ইলেকশনে ফেল করিয়ে দেয়া হল। প্রথমে ডিক্লায়ার করলো আমি ৩৪ হাজার ভোটে পাশ। তারপরে বলা হল ফেল। তারপর দেশের বাড়িতে চলে গেলাম। আমরা ধান্ধা করার জন্য রাজনীতিকে আসি নাই। সেলিম ওসমানের রক্ত বেচা পরিশ্রমের টাকা। আমাকে সবাই বলতো, পাঁচ বছর এমপি ছিলা।
কি করলা। এক টাকাও কামাই নাই। মানুষ এখন খাওয়ার জন্য পাগল হয়ে থাকে। ওরা এতো খায় বাংলাদেশটাইকেই চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে চায়। ওদের ক্ষুধা মেটে না। সেলিম ওসমানের মেজাজ চড়া, মনটা পরিষ্কার। সামনা সামনি কথা বলেন, পিছনে কথা বলেননা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীল, নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, একেএম সেলিম ওসমানের সহধর্মীনী নাসরিন ওসমান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জাতীয়পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সানাউল্লাহ সানু।
বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান, বিকেএমএ‘র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা, এনসিসিআই‘র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, বাংলাদেশ ইয়ার্ণ মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা, বাংলাদেশ হোসিশারী সমিতির সভাপতি নাজমুল আলম সজল।
বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিম সারোয়ার, বাংলাদেশ গার্মেন্টস রিসাইক্লিং কালার্ড ফাইবার ম্যানু এন্য ট্রেডার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান খান, বাংলাদেশ পালস্ এন্ড লেনটিল ক্র্যাসিং মিলস্ ওনার্স এসোসিশনের সভাপতি এড. সুলতান উদ্দিন নান্নু ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল প্রমুখ। এন.হুসেইন রনী /জেসি


