Logo
Logo
×

রাজনীতি

ডেডলাইন ২৮ অক্টোবর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:১৭ পিএম

ডেডলাইন ২৮ অক্টোবর
Swapno

 

# সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঝড়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দুই সাংসদ
# যে কোন মূল্যে জনস্রোত তৈরি করতে চান বিএনপি কর্মীরা  

 

 

রাজনীতিবিদ, সুশীল প্রতিনিধি, প্রশাসন থেকে শুরু করে সবার মুখে মুখে আলাপ আলোচনা আগামীকাল ২৮ অক্টোবর বিএনপি-আওয়ামীলীগের সমাবেশকে ঘিরে। গোলযোগ, ভাঙচুর, নাশকতার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি তৈরি হয়েছে। প্রশাসনও এসকল বিষয় মাথায় রেখে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

 

বিএনপি কর্মীরা একদিকে যেখানে প্রশাসনের কড়াকড়ির মধ্যে ঢাকার মহাসমাবেশকে সফল করতে মরিয়া সেখানে বিএনপির যে কোন গণ্ডগোল ঠেকাতে আওয়ামীলীগ কর্মীরাও সজাগ রয়েছে বলে দাবি তাদের কর্মীদের। ২৮ অক্টোবর বিএনপি কি করতে চায় আর কিইবা তাদের পরিকল্পনা সেসব বিষয় নিয়েও আলোচনা কম হচ্ছেনা। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিএনরি নয়াপল্টনের কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ করার ব্যাপারে বিধিনিষেধ দিলেও বিএনপি কর্মীরা ওই স্থানকেই টার্গেট করে ঢাকায় জড়ো হচ্ছেন।

 

ইতিমধ্যে মহাসড়কে চলছে দফায় দফায় তল্লাশি, তাছাড়া সড়ক, ট্রেন ও নৌপথেও যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত করায় ২৮ অক্টোবরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরণের আলাপ শোনা যাচ্ছে। যদিও বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, সেই দিন কি হবে তা তারা এখনো নির্দিষ্ট করে জানেন না, লন্ডন থেকে ওই দিন মহাসমাবেশে তাদের কাছে যে বার্তা আসবে তার ভিত্তিতেই তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। 

 

এদিকে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের আশঙ্কা, বিএনপি ২৮ অক্টোবরের আগেই ঢাকায় জড়ো হওয়া শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা তো রয়েছেই, সাথে কাছাকাছি আওয়ামীলীগের যে সমাবেশ রয়েছে সেটা নিয়েও সহিংসতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। অনেকেই বলছেন, একই দিন মতিঝিল অংশে জামাতের কর্মসূচি রয়েছে, ফলে ত্রিমুখী রাজনৈতিক সমাবেশের কাছে সহিংসতা ঘটতে পারে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সংঘর্ষ হতে পারে।

 

অনেকেই বলছেন, সেইদিন মহাসমাবেশ স্থলে বিএনপি কর্মীরা বসে যেতে পারেন। এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যা সরকারের উপর চাপ তৈরি করে। বিএনপির সমাবেশে স্থলে আসতে নানা ধরণের বাধা মোকাবেলা করতে হচ্ছে দাবি কর্মীদের, আর এ নিয়ে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়তে পারেন কেউ কেউ। তবে যেহেতু বাইরের শক্তিধর দেশগুলোও ২৮ অক্টোবরের দিকে পর্যবেক্ষণ করছে সেহেতু স্রেফ বিএনপির একটি মহাসমাবেশ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

 

তবে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, সামনের মাসেই তফসিল ঘোষণা। আর বিএনপির যে আন্দোলনের মূল দাবি, তা পূরণ করতে এটাই আগামী নির্বাচনের আগে আন্দোলনে চূড়ান্ত রূপ দেয়ার শেষ সময়। বিএনপি চাইবে, যে কোন অবস্থাতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে সরকারকে চাপে ফেলতে। আর এটি করতে গিয়ে একটি সহিংসতার আশঙ্কাই করছেন সবাই। যদিও বিএনপির নেতারা সহিংসতার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন তবুও বিপুল পরিমাণ কর্মীর আগমন ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণ করাও দুরুহ হয়ে পড়বে বলে ভাবছেন বোদ্ধামহল। 

 

গতকাল বন্দরে এক অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানও এই আশঙ্কার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এই মাসটা অত্যন্ত ক্রুশিয়াল মাস হবে। অনেক কিছু করার চেষ্টা হবে, ঝড় আসবে, টিনের চাল উড়ে যাবে। শামীম ওসমান পড়ে যাবে, ১৬ জুনের মতো হয়তো আবার বোমা হামলা হবে। চন্দনের মতো আবার কেউ দুইপা হারাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাই ক্ষমতায় আসবে।’

 

একই রকম আশঙ্কার কথা বলেছেন সাংসদ সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলছি, ২৮ তারিখ জুজুর ভয় দেখানো হচ্ছে, আপনারা এই জুজুর ভয় পাবেন না। বন্দরে অনেকই আমার সাথে মিটিং করে, আমার সাথে থেকে এখন ফনা ধরছে। এই ফনার ফনা থাকবে না কিন্তু। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলে গেলাম, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না।’

 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সমঝোতার সব পথ কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? সহিংসতার পথেই কি শেষ পর্যন্ত রাজনীতির চূড়ান্ত পরিনতি নির্ধারিত হবে? এই প্রশ্নগুলো এখন সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপির কর্মসূচির পর বোঝা যাবে যে রাজনীতি কোন পথে যাচ্ছে। সহিংসতা না সমঝোতার পথে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা এবং সংলাপের বিকল্প নেই, পাল্টাপাল্টি এবং অনড় অবস্থান রাজনীতিতে কেবল সহিংসতার পটভূমি তৈরি করবে এবং সহিংসতার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ। নির্বাচন নিয়ে প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপের প্রয়োজন বলে মনে করছেন নানা স্তরের পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

 

কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দলই রণহুংকারের মধ্যেই আছে। তারা একপক্ষ অন্যপক্ষকে এখন পর্যন্ত দেখে নেয়ার মানষিকতাই পোষণ করছেন। এরকম পরিস্থিতিতে আগামী কয়েকদিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নিতে পারে তা নিয়ে চলছে নানারকম জল্পনা কল্পনা।

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এই সরকার ও তাদের নেতকর্মীরা বর্তমানে ভীত হয়ে পরেছেন। তারা বিএনপিকে ভয় পায়, জিয়া পরিবারকে ভয় পায় এখন তারা ভয় পাচ্ছে ২৮ তারিখ ঢাকার মহা-সমাবেশকে আমাদের নারায়ণগঞ্জ বিএনপি প্রস্তুত এই মহা-সমাবেশে জনস্রোত সৃষ্টি করতে।’

 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন বলেন, ‘যখই আমাদের কোন দলীয় কর্মসূচির ডাক আসে তখনই এই সরকারের ভয়ে তার পুলিশ বাহিনীদের বিএনপির নেতকর্মীদের উপরে লেলিয়ে দেয়। এই মহা-সমাবেশকে ঘিরে এই চিত্র দেখা যাচ্ছে বর্তমানে নেতকার্মীদের গ্রেফতার করে যাচ্ছে পুলিশ এছাড়া ও গ্রেফতারের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের থেকে বাণিজ্যও করছে। এমন অবস্থায় আমরা কর্মীদের সরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এমনকি আমরা যে যার যার মতো যথাস্থানে রয়েছি। ২৮ অক্টোবরের সমাবেশ যেকোন মূল্যে আমরা সফল করবো।’ 

 

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন যে, আসলে বাংলাদেশের রাজনীতির পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নিবে তা অনেকটাই বোঝা যাবে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে।২৮ অক্টোবর যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুভবুদ্ধি দেখা যায়, তাদের মধ্যে যদি একটা সহনশীলতার ভাব পরিলক্ষিত হয় তাহলে এখনো রাজনৈতিক সমঝোতার পথ খোলা আছে। বিশেষ করে বিএনপি যদি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে, আওয়ামী লীগও যদি কিছুটা ছাড় দেয় তবে উভয়পক্ষ অগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন