Logo
Logo
×

রাজনীতি

আবারও সেলিম ওসমানকে চায় বন্দর আ.লীগ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৩৬ পিএম

আবারও সেলিম ওসমানকে চায় বন্দর আ.লীগ
Swapno

 

# নির্বাচনের যোগ্যতা না থাকলে চাটুকারিতা ছাড়া উপায় নেই : তৃণমূল
# সেলিম ওসমানের টাকা বিলাতে গিয়ে সরকারী টাকা বিলাতে পরিনি এমএ রশিদ

 

 

বন্দর আওয়ামী লীগে একটি প্রবাদ আছে যে, ওসমান পরিবারের সমর্থন আদায় করো তা হলে অর্থ এবং প্রভাবের সাথে সাথে নেতৃত্বও আদায় হয়ে যাবে। যারা সরাসরি ওসমান পরিবারের ধারে কাছে যেতে না পারবে তারা তাদের সমর্থকদের সমর্থক হয়ে যেতে হয়। সেই ধারাবাহিকতায়ই হাটলেন বন্দর আওয়ামী লীগের কর্তা ব্যক্তিরা।

 

যেখানে বন্দর আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব রক্ষার্থে আওয়ামী লীগকে জাতীয় পার্টির কবল থেকে রক্ষার্থে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা-কর্মীগণ এই আসনে একজন আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী দাবি করে আসছেন। একই সাথে সেই সুরে সুর মিলিয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগও অনেকটা দাবির প্রতি নমনীয় হয়ে আসছে। তখনই অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছেন সুবিধাবাদী কাউয়া মার্কা নেতারা।

 

এতদিন স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করলেও হঠাৎ করেই তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। যখন প্রকাশ্যেই জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়। যেখানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও নৌকার প্রার্থীর দাবি করেন। সেখানে তাদের অযোগ্যতা ঢেকে পদগুলো ধরে রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান।

 

স্থানীয় আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, যে লোক উপজেলা নির্বাচনে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় হওয়ার যোগ্যতার রাখে না, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের তুলনায়ও কম ভোট পেয়ে গো-হারা হেরে যান, যেখানে পদ পাওয়ার জন্য ও নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য সরাসরি রাজাকারদের পক্ষ নিয়ে কাজ করতে পারে, একই মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে রাজাকারদের বসাতে পারে সেখানে তাদের যোগ্যতা কতটুকু খুব সহজেই অনুমেয় বলে মনে করেন বন্দরের তৃণমূল আওয়ামী লীগ। এস.এ/জেসি

 

দীর্ঘ দিন ভয়ে চুপ থাকাতে এত দিন বন্দর আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ চেয়ারে থাকা নেতারা জাতীয় পার্টির সাথে সমঝোতা বা বিলীনের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে যখন অবহেলিত ও নিষ্পেষিত আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় হতেই জাতীয় পার্টির হাত থেকে আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার দাবি উঠেছে।

 

যখন একে একে সকল ডর-ভয় ভেঙ্গে নিজেদের নির্যাতিত হওয়ার বিষয়টি এবং স্বার্থবাজ নেতাদের চরিত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে উম্মুক্ত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তখনই অনেকটা নির্লজ্জ হয়ে প্রকাশ্যে এসে জাতীয় পার্টি ও ওসমান পরিবারের চাটুকারিতা করতে শুরু করেছেন। সচেতন মহলের মতে যার দুই কানই কাটা যায় তার আবার লুকোচুরির কি আছে!

 

তাই নিজেদের লুট-পাটের ঘটনা, এত অল্প সময়ে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার ঘটনা, পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়াসহ নিজেদের আসন ধরে রাখার জন্য জাতীয় পার্টির নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়ার নামে নিজ দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের বিপক্ষে গিয়ে আবারও সেলিম ওসমানকে অভিভাক হিসেবে চাইলেন এই কর্তা ব্যক্তিরা।

 

স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বন্দর আওয়ামী লীগকে অভিবাবকহীন করে রাখা বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ জাতীয় পার্টি মনোনীত এমপিকে তাদের শক্তিশালী অভিভাবক হিসেবে দাবি করেন। এমএ রশিদ জাতীয় পার্টির এমপির সংবর্ধনার নামে তাকে সন্তুষ্ট করতে উঠে পড়ে লাগেন বলেও মনে করেন তারা। তার মতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের কোন প্রার্থী নয়, আসন্ন নির্বাচনে আবারও সেলিম ওসমানকেই অভিভাবক হিসেবে পেতে চান তিনি। এই জন্য তিনি সবাইকে সাহস নিয়ে দাঁড়ানোর কথা বলেন।

 

এমএ রশিদ বলেন, একটি লোক যদি তার কর্মের জন্য স্বীকৃতি না পায় তাহলে সমস্ত সে জায়গা অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়। সমাজের দায়িত্ব কি, আমাদের দায়িত্ব কি, সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের দায়িত্বটা কি? এই সমাজে যারা আজকে সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন, যেমন শিক্ষা খাতে, বস্ত্র খাতে। তিনি বলেন, সেলিম ওসমান ঈদের সময় বন্দরের প্রত্যেকের ঘরে ঘরে বস্ত্র পৌছে দিয়েছেন। বন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নতি করেছেন, কোন কিছুর জন্যই এখন নারায়ণগঞ্জে কিংবা ঢাকা যেতে হয় না। সব এই হাসপাতালেই হয়। এগুলো সমস্ত ব্যবস্থাই সেলিম ওসমানের বদৌলতে হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, করোনার সময় সেলিম ওসমানের দেওয়া বস্তায় বস্তায় অনুদান দিতে গিয়ে সরকারী অনুদান দেওয়ারও সময় পাননি এমএ রশিদ। মানুষ ঘর থেকে বের হন নাই। আমরা সে সময় ওনার এই দানগুলো মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছিয়ে দিয়েছিলাম। উনি বিকাশের মাধ্যমে জনগণের কাছে টাকা পৌঁছিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থেই আমাদের একজন অভিভাবকের দরকার। মনে রাখতে হবে আমরা কিন্তু বিগত দিনে অনেক সময় অভিভাবকহীন ছিলাম।

 

তিনি আরও বলেন, আজকে যে সমবেত হওয়া, যেভাবে আপনারা রাস্তা-ঘাট ব্লক করে দিয়েছেন, এই জিনিসটাই যেন আপনাদের মাঝে আগামী দিন স্বতঃস্ফুর্ততা থাকে, এই আহ্বান জানিয়ে, আমরা আগামী দিন উনার সফলতা কামনা করতে চাই। নির্বাচন নিয়ে শুধু একটি কথা, সেই নির্বাচনে আমরা আমাদের অভিভাবক হিসেবে আবারও উনাকে পেতে চাই। এর পাশাপাশি আগামী দিন আপনাদেরকে সাহস নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য যে বক্তব্য আমাদেরকে শামীম ওসমান দিয়েছেন, সেই সূত্র ধরে আমরা সাহস নিয়ে সামনে দাঁড়াবো। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন