Logo
Logo
×

রাজনীতি

ফের হরতালের আগমন

Icon

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:১৫ পিএম

ফের হরতালের আগমন
Swapno

 

হরতালের কথাটা ভুলেই গিয়েছিলেন দেশের জনসাধারণ। কিন্তু হঠাৎ করেই বিএনপি হরতালের প্রসঙ্গটি টেনে আনলো। হরতাল শব্দের সাথে দেশবাসীকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিলো। প্রায় তিন বছর  আট মাস পর  হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করলো দলটি। আজ রোববার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি।

 

একই সাথে সমমনা দলগুলোসহ জামায়াতও হরতালের ঘোষণা দিয়েছে। অপরদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি হরতাল চলাকালে বাস-মিনিবাস চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতউল্যাহ এক বিবৃতিতে হরতাল প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে বাস-মিনিবাস চলাচল অব্যাহত থাকবে।   

 

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি সর্বশেষ ঢাকায় হরতাল ডেকেছিলো। কারচুপির অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করর্পোরেশনের নির্বাচনী ফলাফল বাতিলের দাবিতে ওই হরতালের ডাক দেয়া হয়েছিলো। এর আগে ২০১৫ সালে টানা তিন মাস হরতাল পালন করে বিএনপি। নেতাকর্মীরা মাঠে না থাকায় এক পর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকলে ওই বছরের এপ্রিল মাসে বেগম খালেদা জিয়া হরতালের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। এরপর প্রায় চার বছর আন্দোলনের মাঠে হরতালের দেখা মেলেনি।

 

হরতাল একটি গুজরাটি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো, বন্ধ বা বন্ধ করে দেয়া। হরতালের শুরুটা হয়েছিলো ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। ব্যবসায়ীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দোকনপাট ও গোডাউন বন্ধ করে দিতেন। এভাবেই দীর্ঘদিন চলে আসার একটি সময়ে হরতালের আঙ্গিকে পরিবর্তন আসে।

 

১৯২০ এবং ১৯৩০ দশকে ভারতের রাজনীতিতে নতুনরূপে হরতালের আবির্ভাব ঘটে। ওই সময় মহাত্মা গান্ধী তার এলাকা গুজরাটে ব্রিটিশবিরোধী বন্ধ বা ধর্মঘটের ডাক দিয়ে হরতালকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। বলা চলে, তখন থেকেই হরতালে নতুন মাত্রা যোগ হয় এবং এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

 

জনগণের দাবি আদায়ের জন্য বাংলাদেশেও হরতাল একটি সাংবিধানিক স্বীকৃত রাজনৈতিক পন্থা। আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ারটিই হচ্ছে হরতাল। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়েই সাধারণত হরতাল ডাকা হয়। হরতাল ডাকার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অবস্থান শীর্ষে। ১৯৯১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ হরতালের রাজনীতিতে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে।

 

১৯৯৪ সালে মাগুরার উপ-নির্বাচনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে টানা হরতাল শুরু হয়। ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সারাদেশে ১৩০ দিন হরতার পালন করেছিলো। দুই টার্ম বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ মোট ২০১ দিন হরতাল ডেকেছিলো। অপরদিকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ৮৫ দিন হরতাল ডেকেছিলো বিএনপি।

 

এ পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, হরতালের রাজনীতিতে বিএনপির চাইতে আওয়ামী লীগ অনেক বেশী পরিপক্ক ও অভিজ্ঞ। পাশাপাশি হরতাল ঠেকাতেও তারা কৌশলী। তবে হরতাল সাধারণ মানুষকে কষ্ট ছাড়া আর ভোগান্তি ছাড়া কিছু দিতে পারেনি বলেই বোদ্ধামহলের অভিমত। এস.এ/জেসি     
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন