ত্রিমুখী সংঘর্ষে পণ্ড বিএনপির মহাসমাবেশ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:২৯ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবির আন্দোলন ধারবাহিকভাবে অবহৃত রেখেছে সেই অনুযায়ী সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনের ‘মহাযাত্রায়’ নামার আগে গতকাল ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহা-সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিলো। আর এই সমাবেশকে ঘিরে দীর্ঘ ১ সপ্তাহ যাবৎ ব্যাপক উত্তপ্ত হয়েছিলো রাজনৈতিক অঙ্গন।
সেই ধারবাহিকতায় নেতাকর্মীদের দাবি, গতকাল ২৮ অক্টোবর নয়া পল্টনে ঢাকায় বিএনপির লাখো নেতাকর্মী উপস্থিত হয় ও শান্তিপূর্নভাবে সমাবেশ চলতে থাকে। এমন অবস্থায় সমাবেশের মাঝপথে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনী সমাবেশস্থল পন্ড করতে টিয়ার গ্যাস ও শত শত রাউন্ড গুলি, ককটেল নিক্ষেপ করে এমতাবস্থায় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাল্টাভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা করে এই পুলিশ ও আওয়ামী লীগকে।
জানা গেছে, ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে সংঘর্ষ শুরু হলে এতে যুক্ত হয়ে সড়কে জোড়ালো অবস্থান নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি। দফায় দফায় এমন সংঘর্ষে পুরো নয়া পল্টন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। এই পাল্টা সংঘর্ষ হয়েছে এমনকি নারায়ণগঞ্জের জেলা বিএনপির, মহানগর বিএনপির, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদলের শত শত নেতাকর্মী আহত হয়েছে। মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি বাম চোখে ও কপালে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।
নেতাকর্মীরা আরো বলছে, আমরা ঢাকায় পৌঁছানোর সময় ও অনেকে পুলিশি বাধার সম্মূখীন হয়েছি তার ও আমাদের মনোবল শক্ত রেখে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলাম কিন্তু এই শান্তিপূর্ন সমাবেশকে অশান্তিতে রূপ দিয়েছে আওয়ামী লীগ আর এটা কোন অতর্কিত হামলা বললে ভূল হবে এটা এই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালিয়েছেন।
এখন আমরা দলের নীতিনির্ধারকদের উপরে ভরসা রেখে তাকিয়ে আছি তারা হয়তো কালকে সারা দেশের সকাল সন্ধ্যার হরতালের ডাক দিয়েছে। আমরা এই হরতাল যথাযথভাবে পালন করবো আর সামনে আমাদের আরো সকল কঠোর কর্মসূচি আমরা বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়ে রাজপথে উপস্থিত থাকবো এমনটাই দাবি জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের এই শান্তি সমাবেশকে এই পুলিশ ও আওয়ার্মী লীগের সন্ত্রসীরা যৌথভাবে এই সমাবেশ স্থগিত করেছে। আমরা এই স্বৈরাচারী কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। আর বলতে চাই এই সরকার আর টিকে থাকতে পারবে না পুলিশ বাহিনীর উপরে ভর করে আমরা রাজপথে আছি কালকে হয়তো হরতালের ডাক দেওয়া হবে আমরা এখন দফায় দফায় নিয়মিত এই সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, ঢাকায় নয়াপল্টনের সামনে বিএনপির লাখো নেতাকর্মী শান্তিপূর্ন সমাবেশ পালন করছিলো এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের পুলিশবাহিনী নিয়ে আমাদের সমাবেশে হামলা চালিয়ে, টিয়ার গ্যাস, গুলি করে আমাদের শান্তিপূর্ণ মহা-সমাবেশকে পন্ড করে যা আমরা কখনোই আশা করিনি।
আর এই সমাবেশকে দীর্ঘদিন যাবৎ বাঞ্চাল করতে এই আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনী অনেকদিন যাবৎই আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সব জায়গা থেকে পরাজিত হয়ে আজকে তারা আমাদের এই ভাবে মহা-সামবেশ স্থগিত করেছে। কালতে হয়তো হরতাল আছে এখন আমাদের নিয়মিত নানা কর্মসূচি আসবে সকল বাধা প্রতিরোধ করে এখন আমরা রাজপথে থাকবো
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা যখন পুলিশ ও আওয়ামীলীগ সমাবেশে হামলা শুরু করে তখন থেকেই প্রতিরোধ শুরু করে। নয়াপল্টন আবার দখলে নিয়ে লড়াই করে আওয়ামীলীগ ও পুলিশকে পেছনে হটায় তারা। এ সময় কয়েকজন আহত হয় ইটের আঘাতে।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ একত্রিত হয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের উপরে হামলা করেছে আমরা এই কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। এই আওয়ামী লীগ একজন সহিংস রাজনৈতিক দল তারা সব সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের সকল দলীয় প্রোগ্রামে বাঞ্চাল করতে চায়। এটা ও তারা নানা পরিকল্পনা করেই বাঞ্চাল করেছে এখানে আমাদের নারায়ণগঞ্জে অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ন সমাবেশকে অশান্তিতে পরিনত করেছে এই সরকার ও পুলিশলীগ। তারা বিএনপির শান্তিপূর্ন সমাবেশ স্থগিত করতে আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। আর আমাদের হাজারো নেতাকর্মীকে আহত করেছে আমাদের নেতাকর্মীরা এখন আর মনোবল হারায়নি তারা সামনে কঠোর আন্দোলনে বিগত দিন থেকে আরো কঠোর ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। এস.এ/জেসি


