মাঝে মাঝেই ‘শ্লোগান বয়’ বনে যান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান। বেশভূষাতেও তরুণ প্রজন্মের চেতনার প্রতীকরূপে নিজেকে তুলে ধরার প্রয়াস নেন। গত শনিবার ঢাকায় আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে শামীম ওসমানকে শ্লোগান বয়রূপে আবিষ্কার করেন তরুণ প্রজন্ম। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা হাতে নিয়ে তিনি বজ্রকণ্ঠে শ্লোগান ধরেন।
এ সময় তার গায়ের পোশাকেও ছিলো তারুণ্যের ছোঁয়া। মুহুর্মুহু শ্লোগানে মাতিয়ে রাখেন সমাবেশস্থল। শামীম ওসমানের শ্লোগানমুখর অবয়ব সমাবেশে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কয়েক মাস আগেও তিনি গুলিস্তান চত্বরে শ্লোগান বয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। কর্মীদের মনোবল বাড়াতেই তিনি এ ধারাটি অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।
শামীম ওসমান ছাত্রাবস্থাতেই মিছিলের অগ্রভাগ থেকে নেতৃত্ব দিয়ে শ্লোগানে হাতেখড়ি নিয়েছেন। ১৯৮০ সাল থেকে তিনি যে কাজটি শুরু করেছিলেন দাদা হওয়ার পরও এর চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি যখন তার ভরাট কণ্ঠ দিয়ে শ্লোগান ধরেন তখন সবার মাঝে একটা হৃৎস্পন্দন তৈরী হয়। হ্যামিলনের বংশীবাদকের ন্যায় সবাই তার পিছু নিয়ে শ্লোগানের জবাব দিতে থাকেন।
শামীম ওসমান ৮ম শ্রেণীতে পড়াকালীন বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে পোস্টার সাঁটাতে গিয়ে পুলিশের পিটুনি খেয়েছিলেন বলে প্রায় সময়ই বক্তৃতায় বলে থাকেন। তবে একথা ঠিক যে, ১৯৮১ সালে ছাত্রলীগের প্যানেলে তোলারাম কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
নারায়ণগঞ্জ শহর ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সমর্থ হন। ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দুই মেয়াদ বাদে পর পর দু’বার এমপি নির্বাচিত হন ওই আসনে।
তবে শ্লোগান বয় শামীম ওসমান বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান ১৯৯৮ সালের ৯ জুন চট্টগ্রামমুখি বেগম খালেদা জিয়ার লংমার্চ শিমরাইল মোড়ে আটকিয়ে দিয়ে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসেই শামীম ওসমানসহ ৭৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। ২০০৯ সালে ২০ হাজার টাকা বন্ড প্রদান সাপেক্ষে তিনি জামিন পান। এস.এ/জেসি


