Logo
Logo
×

রাজনীতি

অবরোধে রণক্ষেত্র আড়াইহাজার

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:২৮ পিএম

অবরোধে রণক্ষেত্র আড়াইহাজার
Swapno

 

# আহত অর্ধশতাধিক
# তিন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম
# ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি নেতাদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর

 

 

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তিনদিনের অবরোধের প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীতে বড় কোন ধরণের ঘটনা না ঘটলেও আড়াইহাজারে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মী-পুলিশ ও আওয়ামীলীগ কর্মীদের ত্রিমুুখী সংঘর্ষে ৩ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সোয়া ১০টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচরুখী বাজার এলাকায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

 

আহত তিন পুলিশ সদস্য হলেন, আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির মোল্লা, এএসআই আবদুল মতিন ও কনস্টেবল নুরুল হক। এদের মধ্যে নুরুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলার পাঁচরুখী এলাকায় মহাসড়কে সংঘর্ষ শুরু হরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি গিয়ে সোয়া ১০টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এরা হলেন: স্থানীয় হাইজাদী ইউনিয়নের আফাজউদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম (৩২), শাহাজালাল (৩০), পাঁচগাও এলাকার মহিসউদ্দিনের ছেলে মোহন (২৫) ও চালুরকান্দি এলাকার মোশারফের ছেলে শান্ত (১৮)। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে, বিনা উস্কানীতে পুলিশ গুলি চালিয়ে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছে। তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৮টায় অবরোধের সমর্থনে পাঁচরুখী এলাকায় মহাসড়কে মিছিল বের করে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। মিছিলে কয়েকশত নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিল থেকে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে অবরোধ সফলে নানা স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। মিছিলটি মহাসড়কে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

 

এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও পুলিশ টিয়াস গ্যাস ও গুলি ছুড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা একজোট হয়ে পুলিশকে ধাওয়া দেন। তিনজন পুলিশ সদস্যকে তাঁরা ধরে ফেলেন। পরে তাঁদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেন তাঁরা। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোটাসহ পুলিশের সঙ্গে যোগ দেন।

 

থানা থেকে আরও পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সড়ক ছেড়ে চলে যান। সংঘর্ষের সময় ঢাকা-নরসিংদী সড়কে চলাচলকারী অন্তত তিনটি বাস ভাঙচুর করেন অবরোধকারী ব্যক্তিরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা সংঘর্ষের পর পুলিশের চেষ্টায় সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। সংঘর্ষে কয়েকজন আওয়ামীলীগ কর্মী গুরুতর আহত হন।

 

পুলিশ কনস্টেবল নুরুল হককে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা আরেক পুলিশ সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, ‘নুরুল হক আড়াইহাজার থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। সকালে আড়াইহাজারের পাঁচরুখী এলাকায় অবরোধের সময় ডিউটি করছিলেন তিনি। এ সময় পুলিশের সঙ্গে অবরোধ সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। তখন নুরুল হকের মাথায় লাঠির আঘাত লাগে। এতে তার মাথা ফেটে যায়। প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।’

 

বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে পুলিশ আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছে। পুলিশের গুলিতে আমাদের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পুলিশ আমাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ ও র‌্যাবের পাহাড়ায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের বাড়ি-ঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।’

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আমীর খসরু বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের ডিউটিরত পুলিশের ওপর চড়াও হয়। আমাদের বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে তারা। তাদের মধ্যে দু’জন পুলিশ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

সংঘর্ষের পরপর বিএনপি নেতাদের বাড়িতে হামলা করার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ- সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী এলাকায় অবস্থিত বাড়িতে পুলিশ পাহারায় স্থানীয় এমপির নির্দেশে সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওদুদ মাহমুদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং মুল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করেছে।’

 

তিনি আরও জানান, ‘পরে পুলিশের প্রহরায় আওয়ামী লীগের গুণ্ডা বাহিনীরা আমার দুই চাচা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান আব্দুল ও আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মতিউর রহমান মতিনসহ আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ঘরের দরজা-জানালা, সকল আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ, এসি ভাংচুর চালায় এবং স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে গেছে। নারী ও শিশুদের সঙ্গেও তারা অশোভন আচরণ করেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।’

 

এদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এক দফা দাবি আদায়ের দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকার অধিকাংশ বাস কাউন্টার ছিল বন্ধ। এছাড়া চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে সকাল থেকে দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ ছিল। যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। রূপগঞ্জ ও বন্দরে কয়েক জায়গায় সড়কে টায়ারে আগুন ও গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। যাত্রীর সংখ্যা একেবারে কম থাকলেও ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ মাঠে না নামলেও জেলা আওয়ামীলীগ, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ, ফতুল্লা, বন্দর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ মহাসড়ক, সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন এবং অবরোধ বিরোধী মিছিল করেন। 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, ‘বিএনপির সহিংসতার রাজনীতি শুরু করেছে। গত ২৮ অক্টোবর আমরা দেখতে পেলাম এক নিরীহ পুলিশ সদস্যকে তারা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে এবং প্রধান বিচারপতির বাস ভবনে তারা হামলা চালিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে তারা তিন পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে একজনকে কুপিয়ে আহত করেছে।

 

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ শহরে এখনও কিছু হয়নি। আমরা জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীরা শক্ত অবস্থানে আছি, আমাদের সাথে জেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মাঠে অবস্থানে আছে। বিএনপিকে কোন ভাবেই বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না।’ এস.এ/জেসি


 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন