# রূপগঞ্জে গুলিবিদ্ধ বিএনপির দুই কর্মী
# জেলা জুড়ে ২০ নেতাকর্মী গ্রেফতার
# ৫ ও ৬ নভেম্বর ফের ৪৮ ঘন্টার অবরোধ
অগ্নিসংযোগ, গাড়ি ভাঙচুর আর ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা টানা তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। শহর ও শহরতলির আশপাশে বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও রূপগঞ্জ, আড়াইহাজারে আবারো অবরোধ কর্মসূচি কঠোরভাবে পালন করেছে বিএনপি কর্মীরা।
তবে অবরোধের প্রথম দফা শেষ হলেও দু’দিন বিরতি দিয়ে আবারও অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপি। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল বৃহস্পতিবার ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আগামী রোববার ও সোমবার (৫ ও ৬ নভেম্বর) সড়ক, নৌ ও রেলপথে সারাদেশে ৪৮ ঘন্টার সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল ছিল বিএনপি ও জামায়াত ইসলামের ডাকা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচীর শেষ দিন। শেষ দিনে জেলা শহর নারায়ণগঞ্জ ছিল অনেকটাই শান্ত। দূরপাল্লার পরিবহনগুলো বন্ধ থাকলেও জেলার আভ্যন্তরীণ যানবাহনগুলো অনেকটাই স্বাভাবিক। শহরে অবরোধ পালনে বিএনপি কিংবা জামায়াতের তেমন কোন তৎপরতা না থাকলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে কেন্দ্র করে সিদ্ধিগরঞ্জ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার এলাকায় বেশ কয়েকবার সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করা হয়।
তবে একদিকে পুলিশের উপস্থিতি অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অবরোধ প্রতিরোধে শান্তি সমাবেশের কর্মসূচীতে মাঠে অবস্থান করায় সেই চেষ্টা বৃথা যায়। তাছাড়া অবরোধকারীদের বেশ কিছু ঝটিকা মিছিল ও আকস্মিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান গ্রহণ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। এই সময় গাড়িতে আগুন দেওয়াসহ গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও জেলার ফতুল্লা, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আড়াইহাজারের বিভিন্ন জায়গায় অবরোধের পক্ষে মিছিল বের করা হয়।
তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রম অবরোধ কর্মসূচী ছিল জেলার সোনারগাঁও উপজেলায়। সোনারগাঁয়ে ট্রলার যোগে নৌ-পথে অবরোধ কর্মসূচীর পালন করে ছাত্র ও যুব দলের নেতাকর্মীগণ। সব কিছু মিলিয়ে অবরোধের শেষ দিনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের তেমন কোন জোরদার তৎপরতা দেখা না গেলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মাধ্যমে মাঠে থাকার চেষ্টা করেছেন স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকগণ।
তবে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আসন থেকে প্রার্থীও হওয়ার জন্য যারা আলোচনায় আছেন তাদের প্রায় সকলের বিরুদ্ধেই মামলা ও গ্রেফতার হয়রানি চলছে বলে দলীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেষ দিনে বিএনপির দুইজন গুলিবিদ্ধসহ বেশ কয়েকজন নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা তিন দিনের অবরোধের শেষ দিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের ডাচবাংলা ব্যাংক ও মাদানি নগর এলাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এই সময় ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে মহানগর বিএনপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ার প্রধান, মহানগর বিএনপি'র সদস্য বরকত উল্লাহ, বন্দর থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক রানা সহ মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীগণ।মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বন্দরেও অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সদস্য শাহিন আহম্মেদের নেতৃত্বে মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কে এই মিছিল বের করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সদস্য ফারুক হোসেন, বন্দর উপজেলা বিএনপি নেতা তাওলাদ মাহমুদ, ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি জাহিদ খন্দকার, মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপি সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, বন্দর ইউনিয়ন বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন রাজিব, বিএনপি নেতা দেলোয়ার, ফজলু, রহমান, সজল প্রমুখ।
অবরোধের সমর্থনে মিছিল করেছেন ফতুল্লা বিএনপি। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-পাগলা-নারায়নগঞ্জ সড়কের দাপা বালুর ঘাট এলাকায় এই আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লায় থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মো. চৌধুরী, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাকির হোসেন রবিন, থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক শাহ আলম পাটোয়ারী, থানা তাতীদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান উজ্জল, থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল খালেক টিপু, থানা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মুসলিম, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি সাগর সিদ্দিকীসহ থানা স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতাবৃন্দ।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সকালে টায়ার পুড়িয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ অগ্নিসংযোগ, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গ্রীন গার্ডেন চাইনিজের সামনে ও শিমরাইল এলাকার সাজেদা হাসপাতালের সামনের এই কর্মসূচী থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অবরোধের তৃতীয় দিন সকালে রূপগঞ্জ উপজেলার নলপাথার এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ের (ঢাকা বাইপাস) কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা মিলে আগুন নিভায়। স্থানীয়রা জানায় সকাল সাতটার দিকে ছাত্রদল নেতা মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা কুসাবো এলাকার এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তারা একটি গাছ ভর্তি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান গতিরোধ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া করে এবং শট গানের গুলি ছুঁড়ে। এই ঘটনায় দুইজন গুলিবিদ্ধসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের নিতাইগঞ্জ থেকে শুরু করে নগর ভবনের সামনে দিয়ে মন্ডলপাড়া পুল হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। এ সময়ে সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয় তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম কামালউদ্দিন মীর্জা জনি, যুগ্ম আহ্বায়ক সাহেব উল্লাহ রোমানসহ নেতাকর্মী ও সমর্থকগণ।
অন্যদিকে অবরোধ কর্মসূচীর শেষ দিনে নৌ-পথে অবরোধ কর্মসূচী করেছেন সোনারগাঁ বিএনপি। এ সময় ট্রলারের মাধ্যমে মেঘনা নদীতে এই অবরোধ কর্মসূচী পালন করে তারা। বৃহস্পতিবার সকালে মেঘনা নদীর বৈদ্দ্যেরবাজার, আনন্দবাজার, নুনেরটেক এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপি, শ্রমিক দল, জাসাস, মৎস্যজীবী দলের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ নৌপথ অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করে। এছাড়াও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করে। এস.এ/জেসি


