না.গঞ্জের মানুষ অবরোধের নামে বিএনপির সন্ত্রাস প্রতিরোধ করেছে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:৫২ পিএম
এক দিনের হরতাল এবং টানা তিন দিনের অবরোধ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতা। এরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা বাবু চন্দনশীল এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাবু চন্দনশীল বলেন, বিএনপি কখনোই গণমানুষের দল ছিলো না। জ্বালাও পোড়াও আর মানুষ হত্যাই তাদের আন্দোলনের মূল মন্ত্র। তাই এই দলটি দেশের জনগনের কাছে একটি সন্ত্রাসী দল এবং জনগনের অধিকারের বিপক্ষের একটি দল হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দনশীল আরো বলেন, আপনারা সকলেই দেখেছেন বিএনপি একদিন হরতাল এবং তিনদিন অবরোধ পালন করেছে। কিন্তু এসব হরতল অবরোধে জনগনের কোন সারা ছিলো না। জীবন যাত্রা ছিলো একেবারেই স্বাভাবিক। রাস্তায় প্রতিদিনের মতোই সকল প্রকারের যানবাহন চলেছে।
তবে এই ধরনের অযৌক্তিক হরতাল অবরোধ ডাকার কারণে বিএনপির উপর সাধারণ মানুষ চরম ভাবে ক্ষুব্দ ও বিরক্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আতঙ্কগ্রস্থ হয়েছে। কারণ আপনারা দেখেছেন হরতাল অবরোধ ডেকে বিএনপি সারা দেশে কিভাবে সন্ত্রাস চালিয়েছে। বিএনপির সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে পুলিশ হত্যা করেছে। বাসে আগুন দিয়েছে। রাজপথে তান্ডব চালিয়েছে।
আর এসব করে ওরা জনমনে ভীতির সৃষ্টি করতে চেয়েছে। কিন্তু তাতে ওরা সফল হয়নি। আমরা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারা দেশে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি। আর জনগন ছিলো আমাদের পাশে। মাননীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান গোটা পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। আমরা তার নেতৃত্বে জনগনের পাশে রয়েছি।
আমরা কোনো মতেই বিএনপিকে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে দিতে রাজী নই। তাই আমি পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই বিএনপির হরতাল ও অবরোধের নামে তারা সারা দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাইলেও আমরা জনগনের পাশে অতন্দ্র প্রহরীর মতো ছিলাম এবং আগামী দিনেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।
অতীতে যেমন বিএনপি নির্বাচনী ট্রেন ফেইল করেছিলো এবারও তারা ফেইল করবে। সময় মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের জনগন স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করবে। আমরা আছি জনগনের পাশে।
অপরদিকে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত বাদল বলেন এ বিষয়ে আসলে কিভাবে প্রতিক্রিয়াটা ব্যক্ত করবো। বিএনপিরা গত ২০১৪ সালে যেভাবে নির্বাচনে না গিয়ে সারা দেশে জ্বালাও পোড়াও করে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছিলো এবারও গত ২৮ অক্টোবর তারা আরো বেশি বর্বর তান্ডব চালালো।
আপনারা সকলেই সেটা দেখেছেন। ওরা পুলিশ পিটিয়ে মেরেছে। প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা করেছে। আগুন দিয়ে বাস পুড়িয়েছে। এমন তান্ডব চালানোর পর ওদের নিন্দা করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তবে মোদ্দা কথা হলো মানুষ বিএনপির এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে তাদের উপর ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছে। আমি পথে পথে হেঁটে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেছি।
বিভিন্ন দোকানপাটে গিয়ে কথা বলেছি। তাদের একটাই কথা আমরা শান্তি চাই কোনো অবরোধ চাই না। মানুষ এখন নির্বাচন মুখী, তারা শান্তির কথা বলে আর উন্নয়নের কথা বলে। মানুষ প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার উন্নয়নে খুশী।
তাই তারা মনে করে প্রতিহিংসার বসবর্তী হয়েই বিএনপি সন্ত্রাসের পথ বেঁছে নিয়েছে। তাই আমরা পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই আমরা মানুষের পাশে রয়েছি। জনগনের কোনো ভয় নেই। আমরা সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহর দিবো ইনশাআল্লাহ। এস.এ/জেসি


