Logo
Logo
×

রাজনীতি

মামলার বর্ষণে গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া বিএনপির নেতারা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:২৩ পিএম

মামলার বর্ষণে গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া বিএনপির নেতারা
Swapno

 

# হরতাল ও অবরোধকে ঘিরে সাত থানায় ১৪টি মামলা

 

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বর্তমানে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কঠোর আন্দোলনের ‘মহাযাত্রা’ শুরু করেছে। বর্তমানে কঠোর আন্দোলন হরতাল ও অবরোধের মাধ্যমে সরকারকে পতন করাতে চায় দলটি। সেই পরিপেক্ষিতেই গত ২৯ অক্টোবর থেকেই হরতাল পরবতীতে ৩১ তারিখ থেকে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ০২ তারিখ পর্যন্ত পালন করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

জানা গেছে গত ১৮ তারিখ ঢাকায় যুব সমাবেশ থেকে মহাসমাবেশর ঘোষণা করার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিজ বাসভবনে থাকতে পারছেন না। যার কারণ হলো নিয়মিত পুলিশ ও ডিবির তল্লাশীর কারণে এমনকি বিভিন্ন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে ও রয়েছে। কিন্তু নেতাকর্মীদের দাবি, গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে ফিরে পুলিশি হয়রানির চাপ আরো বৃদ্ধি হয় সেখান থেকে বাঁচতে, মামলা ও গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘ ৮দিন যাবৎ কেউ আর বাড়িতে থাকছেন না।

 

তারপরে ও কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হরতাল ও তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি নারায়ণগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মীরা ও সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কৌশলে এই মহাসড়ক গুলোতে অবস্থান করে কর্মসূচি পালন করেছেন। ইতিমধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্রমাগত মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। এ পর্যন্ত জেলা বিএনপির আওতাধীন ৫টি থানা ফতুল্লা থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, রূপগঞ্জ থানা, সোনারগাঁ থানা, রূপগঞ্জ থানা ও মহানগর বিএনপির আওতাধীন সদর থানা, বন্দর থানা এই ৭টি থানায় দফায় দফায় চলছে বিএনপির নেতা কর্মীদের নামে নানা মামলা।

 

ইতিমধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন হরতাল ও অবরোধে মাঠে না থেকে ও প্রত্যেকটি থানায় নাশকতা মামলার আসামী হয়েছেন এছাড়া ও তারা গত ২৮ তারিখ মহা-সমাবেশ থেকে আর নিজস্ব ঘরে ফিরে আসেনি এই ৮ দিনে। এমনকি রাজপথে শুধু নির্দেশনা দিয়েই হরতাল-অবরোধ পালন করে আছেন।

 

অপরদিকে হরতাল ও অবরোধে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু নেতৃত্ব দিয়ে রাজপথে থেকেই আন্দোলনের সফলতা ফিরিয়ে আনছেন এমনকি ইতিমধ্যে তারা দুইজন ছয়টি মামলার আসামী হয়েছেন। জানা গেছে, এছাড়া ও সাত থানায় বারোটি মামলায় আসামী করা হয়েছে বিএনপির ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে আর গ্রেফতার হয়েছে শতাধিকের ও বেশি। এসব মামলার চাপে ঘর ছেড়ে পালিয়ে আছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

তারপরে ও তাদের বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ শোনা গেছে আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জে যাকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। আরো জানা গেছে, সামনে হরতাল ও অবরোধের মতো এম দফায় দফায় কর্মসূচি দিয়ে যাবে কেন্দ্র এটাকে সফল করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘর ছেড়ে দূরে থেকে কৌশলে আন্দোলন করবে। ঘর ছেড়ে ও বিএনপি বিভিন্ন নেতাকর্মী পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হচ্ছেন তারপরে ও মনোবল শক্ত করেই আন্দোলনে রাজপথে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।  

 

এদিকে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সমর্থন অনেকটাই বেশি কিন্তু বিএনপির মূল নেতাদের অবহেলায় কেউ নামতে পারছে না মাঠে। তারপরেও সবাই মামলায় ঘর ছাড়া হয়ে আছেন। তারা আরো বলছে, এবার আবারো নভেম্বরের ৫/৬ তারিখকে টার্গেট করে বিএনপি অবরোধের ঘোষণা করেছে। এই অবরোধে কারা কৌশলে রাজপথে থেকে কর্মসূচি পালনে ভূমিকা রাখে এটাই দেখার বিষয়।

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে মহাসমাবেশের ডাক দেয় বিএনপি। সেই মহা-সমাবেশে সফল করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। কিন্তু তখন তাদের ঢাকার মহা-সমাবেশকে বাঞ্চাল করার লক্ষে সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে ও নিয়মিত পুলিশি তল্লাশী চালু হয় যেখানে বিএনপির প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

যার কারণে ওই সময় থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজস্ব বাস ভবন ছেড়ে অন্য জায়গায় গিয়ে রাত্রি যাপন করতেন। কিন্তু মহা-সমাবেশ সফল করতে তাদের ছিলো এটা আলাদা উল্লাস যার কারণে গ্রেফতার এড়িয়েছে কৌশলে মহা-সমাবেশের আগেই বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকামুখী হওয়া শুরু করেন। ধীরে ধীরে মহা-সমাবেশের আগের দিনেই জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপিরসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকায় পৌঁছে যান। এমনকি সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত হতে থাকে।

 

পরিস্থিতি ঠান্ডা থাকায় নেতাকর্মীরা আশঙ্কার করেছিলেন কিছুই হবে না। কিন্তু সময় যখন গড়িয়ে দুপুর ১ টা প্রায় তখনই আওয়ামী লীগ ও পুলিশ একিত্রত হয়ে সমাবেশকে বাঞ্চালের লক্ষে হামলা চালায় ও সমাবেশ পশু করে দেয় এমনি দাবি জানিয়েছে বিএনপি। সেই হামলার প্রতিবাদে পরের দিন সারা দেশে বিএনপির হরতালের ডাক দেয় যথাযথ ভাবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং করেন কিন্তু মহানগর বিএনপি, মহানগর যুবদল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল, মহানগর ছাত্রদল শহরে পুলিশের হাতে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে হরতাল পালন করেছে।

 

এছাড়া জালকুড়ি, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজারে ও দেখা গেছে বিএনপির বড় আকারের হরতাল কর্মসূচি ও সংঘর্ষ। একে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রত্যেকটি থানায় মামলা হয়। পরবর্তীতে ১দিন বাদ রেখে ৩১ তারিখ থেকে টানা তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষনা করেন বিএনপি। সেই কর্মসূচি সফলে প্রথম দিনেই আড়াইহাজার বিএনপি-পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষের দেখা মিলে যেখানে প্রায় অর্ধশত আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছিলো। ফতুল্লা থানার জালকুড়ি এলাকায় রিজভীর নেতৃত্বে রাস্তা বন্ধ করে অবরোধ পালন হয়।

 

রূপগঞ্জে পুলিশ বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনা পাওয়া যায়। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে নারাণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও হয়েছে এভাবে শেষ হয় অবরোধের প্রথম দিন কিন্তু আড়াইহাজারের ভূমিকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ধন্যবাদ জানিয়েছে। এ নিয়ে ও প্রত্যেকটি থানায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়। অবরোধের ২য় দিন টিলেঢালাভাবে কোন রকম পিকেটিং হয় কিন্ত রূপগঞ্জে দেখা মিলে অবরোধ পালনের ব্যাপক তৎপরতা।

 

কিন্তু মামলা হয়েছে ব্যাপক শেষদিনে রূপগঞ্জ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এশিয়ান হাইওয়েতে কভার্ড ভ্যান ভেঙ্গে আগুনসহ নারায়ণগঞ্জের কালীবাজারে মহানগর বিএনপির বাস ভাংচুর বিক্ষোভ মিছিল ও সিদ্ধিরগঞ্জে মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় রাস্তার বন্ধ করে আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করেছে।

 

অপর দিকে সোনারগাঁয়ের ও ব্যাপক ভাংচুর কভার্ড ভ্যান-ভাংচুরসহ নৌপথে অবরোধের কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। যাকে ঘিরে হরতাল-অবরোধ সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের সাতটি থানায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে ১২টি নাশকতার মামলা দায়ের করে। যাকে ঘিরে বর্তমানে ঘর ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা কিন্তু কৌশলে সামনের আন্দোলন গুলো সফলের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন তারা।

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড.সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা বর্তমানে চূড়ান্ত আন্দোলনের লক্ষে ঘর ছাড়া হয়ে আত্মগোপনে হলেও রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছি। এই অবৈধ সরকারকে তার ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করিয়েই ছাড়বো আমরা, এখন আমাদের নেতাকর্মীদের মনবোল শক্ত অবস্থানে রয়েছে।যার কারণে হাজারো অবৈধ মামলা দিয়ে আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারছে না এই সরকার। আমরা আমাদের কৌশল মোতাবেক রাজপথেই থেকেই আন্দোলন সফল করবো।

 

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, এই সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর জুলুম নির্যাতন করছেন। আর এটা নতুন কিছু নয় দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ এই জুলুমের শিকার বিএনপির সর্বস্থরের নেতৃবৃন্দ। ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের মনেবাল নষ্ট করতে গত ২৮ তারিখ মহাসমাবেশের আগ থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হুলিয়া জারি দিয়েছেন পুলিশ তারপর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা আর নিজ বাসভবনে যেতে পারছে না।

 

আর ইতিমধ্যে প্রত্যেকটি নেতাকর্মীদের বাসায় নিয়মিত পুলিশ-ডিবি যৌথ তল্লাশী চালাচ্ছে। কিন্তু আমরা যেভাবে মামলা খেয়ে ও রাজপথে থেকে আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছি সামনের কঠোর আন্দোলন গুলোতে কৌশলে থেকেই রাজপথে সক্রিয় থাকবো। এস.এ/জেসি 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন