Logo
Logo
×

রাজনীতি

রাজনৈতিক অস্থিরতায় উৎকন্ঠায় জনগণ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৩৪ পিএম

রাজনৈতিক অস্থিরতায় উৎকন্ঠায় জনগণ
Swapno

 

# কোন পক্ষেরই ছাড় দেয়ার মানসিকতা নেই
# ইসির সংলাপে অনুপস্থিত ছিল বিএনপিসহ ১৮টি দল
# নির্বাচনে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না জাতীয় পার্টি

 

 

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়তই পরিবর্তন হচ্ছে দেশের পরিস্থিতি। একদিকে সরকারের নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচীতে মাঠে থাকার চেষ্টা করছে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। অন্যদিকে বর্তমান সরকার তাদের নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে নিজেদের অধীনেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগ তার অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীগণ।

 

এর ফলে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একেক সময় একেক রূপ ধারণ করছে। এতে প্রায় প্রতিনিয়তই পরিবর্তন হচ্ছে দেশের সার্বিক চিত্র। তবে সকল রাজনৈতিক দলগুলোরই দাবি তারা জনগণের জন্যই এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে মামলা গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মুখেও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে বিরোধী দল। অন্যদিকে সরকারের অবস্থানও কঠোর থেকে আরও কঠোর হচ্ছে দিনকে দিন।

 

একদিকে আন্দোলনকারীরা অন্যদিকে আন্দোলন প্রতিহতকারী ও পুলিশ প্রশাসনের অবস্থানে দেশের রাজনীতি অনেকটাই সংঘাতের প্রবেশ করছে। তবে সরকারের বর্তমান সহযোগী রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টি এখনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আছে বলে জানা গেছে। এখনও তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দেননি বলে দল থেকে জানানো হয়েছে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে এই পরিবেশ ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বলে দেশ এক অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন জনগণ।

 

এর ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে এক ধরণের উৎকন্ঠা কাজ করে যাচ্ছে। একদিকে মামলা, গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের মুখেও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে আন্দোলনকারীরা। সরকার দলীয় নেতাকর্মীগণও তা প্রতিহত করতে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন মাঠে। কারও মধ্যে ছাড় দেওয়ার কোন মানসিকতাই কাজ করছে না বলে মনে করছেন জনগণ। তাই নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসার সাথে সাথে রাজনীতিতে সংঘাত ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দীর্ঘ দিন যাবৎই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে বছরের শুরুতেই বাড়তে থাকে রাজনৈতিক উত্তেজনা। তবে গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের পর থেকে একদিকে বাড়তে থাকে হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচী। অন্যদিকে বাড়তে থাকে মামলা দায়ের, গ্রেফতার ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশী অভিযান।

 

সেই ঘটনায় সহিংসতা, প্রাণহানির মতো পরিস্থিতির জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপি বলছে মহাসমাবেশকে পণ্ড করে নেতাদের গ্রেপ্তার করে বিএনপিকে চাপে ফেলা বা কোণঠাসা করাই আওয়ামী লীগের অন্যতম লক্ষ্য। যা তার প্রতি নির্বাচনের আগেই করে থাকে বলে অভিযোগ তাদের। তাই এ ধরণের কর্মসূচি অব্যাহত রাখা বা এ ধরনের কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া তাদের কোন বিকল্প নেই বলেও জানান তারা।

 

দেশের অন্যতম প্রধান এই দুটি দলের নেতাকর্মীদের মন মানসিকতা পরিবর্তন না হওয়ার কারণে অনেক বিদেশীও এখন ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন বলে মনে করেন সচেতন মহল। যার ফলে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর ক্রমশই নেতিবাচক প্রভাব বা চাপ বাড়ছে বলে মনে করেন তারা।

 

এরই মধ্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাব দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে লক্ষ্যে দেশের নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলকে চিঠিও দিয়েছে তারা। সংলাপে সকাল ও বিকেলের দুটি অধিবেশনে ২২টি করে ৪৪টি দলকে সংলাপে ডাকা হয়। তবে এই সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখান করেছে বিএনপিসহ তার সমমনা দলগুলো।

 

গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত এই সংলাপে সকালে আওয়ামী লীগসহ ১৩টি দল অংশগ্রহণ করলেও প্রত্যাখান করে বাকি ৯টি দল। একই সাথে বিকেলে অনুষ্ঠিত সংলাপেও ১৩ টি দলের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৯টি দল। অর্থাৎ সংলাপে ডাকা দলগুলোর মধ্যে ১৮টি দল ইসির ডাকে সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে।

 

ইসির ডাকে সাড়া দেননি বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এল.ডি.পি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি (পার্থ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ(বিএমএল), বাংলাদেশ কল্যান পার্টি, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণতন্ত্রী পার্টি ও বাংলদেশ মুসলিম লীগ। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন