Logo
Logo
×

রাজনীতি

আবারও অস্বস্তির অবরোধে মানুষ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:১০ পিএম

আবারও অস্বস্তির অবরোধে মানুষ
Swapno

 

# ফের দূরপাল্লার মানুষের ভোগান্তি শুরু

 

 

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠ এখন উত্তপ্ত। ক্ষমতাসীন দল সভা করলে বিরোধী দল করে অবরোধ। আর এ নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। গতকাল আওয়ামী লীগের মতিঝিল আরামবাগে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যাপক লোক সমাগম নিয়ে মিছিল নিয়ে যোগদান করেন। এর আগে ২৮ অক্টোবর বিএনপি ঢাকার পল্টনে মহা সমাবেশ করে। তখন মহা সমাবেশের পরের ২৯ অক্টোবর বিএনপি সারাদেশে হরতাল পালন করেন। এই হরতালের একদিন পরেই ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত টানা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।

 

এদিকে কয়েকদিন আগে ভার্চুয়াল জুমের মাধ্যমে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির বিরজভী আবারও রোববার ও সোমবার ৪৮ ঘন্টার অবরোধের কর্মসূচি পালন করেছে। তাদের সাথে তাল মিলিয়ে জামাতে ইসলামও অবরোধ কর্মসূচি করে যাচ্ছে। কিন্তু জামাতে ইসলাম মাঠ পর্যায়ে তেমন ভাবে থাকেন না। বিএনপি একক ভাবে মাঠ দাবড়িয়ে অবরোধ পালন করে যাচ্ছে। বিএনপির অবরোধ মানুষ মানছে বলে দাবী করেন ক্ষমতাসীন দল। কিন্তু ভিন্ন চিত্র দেখা যায় বাস্তবে। ঢাকা শহর কিংবা তার আশপাশের জেলা গুলো ছাড়া দুর পাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকায় মানুষ সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন নাই।

 

খোজঁ নিয়ে জানা যায়, শুক্র ও শুনিবার দুদিন অবরোধ না থাকায় নগরবাসী তথা মানুষ স্বস্তিতে ছিলেন। কিন্তু আবারও ৪৮ ঘন্টার অবরোধ দেয়ায় মানুষ অস্বস্তিতে পরেছে। কেননা অবরোধের কারনে দুরপাল্লার পরিবহন চলাচল না থাকায় দুরের মানুষ তেমন একটা যাতায়াত করেন নাই। এছাড়া অতীব জরুরীর কারনে যারা যাতায়াত করেছে তাদেরকেও আতঙ্ক নিয়ে গন্তব্যে পৌছাতে হয়েছে। সেই সাথে দিগুন ভাড়াতো আছেই। আবার অনেক যাত্রীকে বাস স্ট্যান্ড কিংবা লঞ্চঘাটে এসে ফিরে যেতে হয়েছে।

 

এই অবরোধের মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করে দিচ্ছে। তাই সব কিছু মিলিয়ে দুদিন অবরোধ না থাকায় মানুষ স্বস্তিতে ছিলেন। কিন্তু আজ থেকে আবারও ৪৮ ঘন্টার অবরোধ থাকায় মানুষ অস্বস্তি রয়েছে। টানা তিন দিনের মত ঘর বন্দি সাধারণ জনগণ। কেননা রাস্তাঘাটে বিএনপির গাড়ি ভাঙচুর জালাও পোড়াওয়ের ভয়ে অনেকে ঘর থেকে বের হন না। গতকাল নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে আজকের অবরোধ সমর্থনে শহরে মশাল মিছিল বের করেন। এর আগের অবরোধে তার নেতৃত্বে নগরীর সিরাজউদ্দৌলা রোডে বাসে হামলা চালানো হয়।

 

জানা যায়, গত তিন দিনের অবরোধের নারায়ণগঞ্জে ঢাকাগামী দুই একটা বাস পরিবহন চলাচল করলেও বেশির ভাগ বন্ধ রাখা হয়েছে। বাস মালিকদের মাঝে আওয়ামী লীগের নেতার বাসও বন্ধ ছিল। যদিও ক্ষমতাসীন দলের নেতার দাবী যাত্রী সংখ্যা তেমন না থাকায় বাস বন্ধ রেখেছে ড্রাইভাররা। তবে বিএনপির অবরোধকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ সহ তাদের সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সড়কে নেমে অবরোধ প্রতিরোধে শান্তি মিছিল করেন।

 

সেই সাথে বিএনপির যে কোন নৈরাজ্যকে প্রতিহত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের সাথে মাঠে প্রস্তুত ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীরা। ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ বিরোধী শান্তি মিছিল করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক। এছাড়া শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ অবস্থান নেন।

 

জানা যায় বিএনপির দেয়া এর আগের তিন দিনের অবরোধে নারায়ণগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জের কোথাও দূরপাল্লার বাস কিংবা লঞ্চ ছাড়েনি। তবে স্বাভাবিক নিয়মে ট্রেন চলাচল থাকলেও যাত্রী সংখ্যা কম ছিল। এছাড়া নগরীতে রিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস চলাচল করলেও তাতে লোক চলাচল ছিল সীমিত পরিসরে। দোকানপাট খোলা থাকলেও এতে ক্রেতার সংখ্যা তেমন দেখা মিলে নাই।

 

তবে শহরের মানুষের চলাচল কম থাকায় রিকশা অটো চালকদের আয় কমে গেছে। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ দিয়ে ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কেও দুরপাল্লার বাস চলাচল দেখা যায় নাই। এতে করে বোঝা যায় বিএনপির অবরোধে মানুষের জীবন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। আজ থেকে আবারও দু‘দিনের অবরোধে মানুষের চলাচলে একই অবস্থা হতে পারে বলে মনে করেন সচেতন মহল। সেই ভোগান্তিতে পরতে যাচ্ছে মানুষজন। তাই সাধারণ মানুষ এই অবরোধ নামক অস্বস্তি থেকে স্বস্তি চান। সেই সাথে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন