বন্দরে মদনপুরে আ.লীগের শান্তি সমাবেশে পৃথক মঞ্চ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৪৭ পিএম
বিএনপি-জামাতের অবরোধকে কেন্দ্র করে বন্দর উপজেলা আ’লীগের উদ্যোগে শান্তি সমাবেশে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ ও উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি তথা মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী এমএ সালাম গ্রুপের মধ্যে প্রকাশ্যে দ্বন্দ ও বিভাজন দৃশ্যমান হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
দুই গ্রæপের নেতৃত্বে তারা একই ব্যানারে পৃথক মঞ্চ তৈরী করে আলাদা আলাদা সমাবেশ করেছে। ফলে তৃনমুল আ’লীগ কর্মী ও সাধারন সমর্থকদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর রবিবার মদনপুর বাসষ্ট্যান্ডে উত্তর ও দক্ষিন পাশে উপজেলা আ’লীগের ব্যানারে পৃথক মঞ্চে পৃথক ভাবে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
তথ্যসুত্রে জানা গেছে,বিএনপি জামাতের আহ্বানে রবি ও সোমবার পূণরায় সারাদেশে অবরোধকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাশীন দল বন্দর উপজেলা আ’লীগের উদ্যোগে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ধারাবাহিকভাবে পাল্টাপাল্টি মদনপুর স্ট্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিন পার্শে পৃথকভাবে আলাদা মঞ্চ বানিয়ে পৃথকভাবে শান্তি সমাবেশ করছে উপজেলা আ’লীগের দুই গ্রুপের নেতারা।
মদনপুর ষ্ট্যান্ডের উত্তর পার্শে উপজেলা আ’লীগের ব্যানারে মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি গাজী এমএ সালাম শান্তি সমাবেশ করছে অপরদিকে একই ব্যাানারে দক্ষিন পার্শে বন্দর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদের নেতৃত্বে শান্তি সমাবেশ করছে আ’লীগ নেতৃবৃন্দ।
এতে করে আ’লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মনে নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে। আ’লীগের কেউ কেউ বলছে তবে উপজেলা আ’লীগের মধ্যে দুই গ্রুপের দ্বন্দ এতদিন প্রকাশ্যে না এলেও মদনপুরে আ’লীগের শান্তি সমাবেশে পৃথক মঞ্চের সমাবেশ এখন বরাবরই দৃশ্যমান হল।
যা দলের জন্য কখনো কল্যান বয়ে আনবেনা। একই স্থানে আ’লীগের দুই গ্রুপের পৃথক মঞ্চ নিয়ে আ’লীগ নেতা কর্মীসমর্থকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এতে ক্রমেই উপজেলা আ’লীগে বিভাজনের সুর ঘনিভূত হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে আ’লীগের এক নেতা জানান,বন্দর উপজেলা আ’লীগের আয়োজনে একই স্থানে পৃথক মঞ্চ সত্যিই ভাঙ্গনের একটি ইঙ্গিত। তবে দলের এমন সময়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করাই বাঞ্চনীয়। মদনপুরে একই স্থানে উপজেলা আ’লীগের ব্যানারে পৃথক মঞ্চ তৈরী করে আলাদা আলাদা সমাবেশ করা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ তৈরী হচ্ছে।
তবে আ’লীগের শান্তি সমাবেশে অশান্তির সুর বাজছে। সালাম চেয়ারম্যানের কিছু কড়া বক্তব্যের কারনে কারো কারো গাত্রদাহ হয়েছে বলে যতটুকু শুনলাম। সম্ভবত এসব কারনেই তারা পৃথকভাবে মঞ্চ করেছে। তবে সামনে নির্বাচন। বিএনপি-জামাত দেশে নাশকতা করছে। এমন সময়ে দলের মধ্যে অর্ন্তদ্বন্দ শুভা পায় না। আমরা একই পতাকাতলে সকলে মিলে মিশে থাকতে চাই।
এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদের সাথে গনমাধ্যম কর্মীরা একই স্থানে আ’লীগের পৃথক মঞ্চ কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন এখানে পৃথক মঞ্চ হয়েছে এটা আমি জানিনা। তবে আমাদের উপজেলা আ’লীগে কোন বিভাজন নেই।
একাধিক স্থানেই আ’লীগের মঞ্চ হতে পারে বলে তিনি এড়িয়ে যান। এ সময় বন্দর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান আরিফ রশিদ গ্রæপের সমর্থনে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বেঘাত সৃষ্টি করে।
এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম আহমেদ বলেন, পৃথক মঞ্চ নিয়ে কোন জটিলতা নেই। এখানে বিভাজনের কিছু নেই। উপজেলা আওয়ামীলীগে কোন বিভাজন নেই। কেন্দ্রের নির্দেশ সবাইকে মানতে হবে।
এ ব্যাপারে মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি গাজী এমএ সালাম সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ আ’লীগ অনেক বড় একটি দল ও সুশৃঙ্খল। তবে পৃথক মঞ্চ নিয়ে উপজেলা আ’লীগের মধ্যে বিভাজন এমন প্রশ্নের উত্তরটা তারাই দিতে পারবে যারা বিভাজন মনে করে।
আজকে হয়ত কারো কোন অন্তরজ্বালা কিনা আমি জানি না। মদনপুর ইউনিয়ন আ’লীগের আয়োজন কারো সহ্য হচ্ছে না হয়ত আমি জানি না। তবে উপজেলা আ’লীগের নীতিনির্ধারকরা যদি বিভাজন করার চেষ্টা করে থাকে তা আমার জানা নাই।
মদনপুরে দক্ষিন পার্শে উপজেলা আ’লীগের শান্তি সমাবেশের মঞ্চ সম্পর্কে আমি অবগত নই। এমনকি তারা আমাদের কোন ম্যাসেজ অথবা ফোনেও কাউকে কিছু জানাননি। মদনপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ কোন নেতাকর্মীরাই জানে না।


