# আতঙ্কে সড়কে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা কম
বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা দ্বিতীয় দফায় ৪৮ ঘন্টা অবরোধের প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জ শহর ও পুরো জেলায় বড় কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি। কিছু ছোট ছোট ঘটনা হলে ও এগুলো অবরোধের কোন প্রকারের গ্রহণযোগ্যতা রাখে না বলা চলে। জানা গেছে, ভোর সকাল থেকেই শহরসহ পুরো জেলায় প্রতিটা অলিতে গলিতে পুলিশ, ডিবি পাহাড়া দিয়ে রেখেছিলেন। পুলিশের এই কঠোর অবস্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা আজকে মহাসড়কগুলো দখলে আনতে পারেনি।
৪৮ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন স্থানে সড়কে পেট্রোল ঢেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এদিকে অবরোধ সফল করতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি, জেলা যুবদল এ ছাড়া ও আড়াইহাজারে বিক্ষোভ করেছে অপর দিকে রূপগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রদল একত্রিত হয়ে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং করেছেন এবং সেখান থেকেই ছাত্রদলের ৪ জননেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ।
কিন্তু দ্বিতীয় দফার অবরোধে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী রাজপথে আসলে ও মূল মূল বেশিরভাগ নেতাকর্মী এলাকা ছাড়া বা ঘর ছাড়া হয়ে আছেন। যার কারণে বিএনপির কর্মীরা বর্তমানে এই অবরোধে রাজপথে চমক দেখাতে পারছেন না। গতকাল রোববার (৫ নভেম্বর) সকালে মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়, শিমরাইল, ফতুল্লা ও সোনারগাঁ এশিয়ান হাইওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে এই কর্মসূচি পালন করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। কিন্তু পুলিশের কঠোর অবস্থান থাকায় ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারেনি তারা।
জানা যায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সানারপাড় এলাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি এবং শিমরাইল এলাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের নেতৃত্বে কয়েকটি টায়ার পুড়িয়ে তাতে আগুন দেয়া হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা সড়কে অবস্থান করে নানা স্লোগান দেন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান। তবে পুলিশ আসার খবরে অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক থেকে সরে যান তারা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিনের নির্দেশনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে অবরোধের সমর্থনে মহাসড়কে পিকেটিং করেন।
এছাড়াও লিংক রোডের শিবু মাকের্ট এলাকায় জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির নেতৃত্বে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে জেলা যুবদলের নেতার্মীরা অবরোধ পালন করেন। আর সকল দিক থেকে এদের অবস্থানটি একটু বেশি সময় পর্যন্ত ছিলো কিন্তু সকাল তখন বেশি থাকায় বেশি গাড়ি চলেনি কোন প্রকারের ক্ষতির আশঙ্কাও পাওয়া যায়নি। এদিকে সকালে এশিয়ান হাইওয়েতে সাদেক ও সজিবের নেতৃত্বে জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা সড়কে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
এ সময় তারা অবরোধের পক্ষে ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করে। এছাড়া ও সকালে মহানগর যুবদল শহরের হাজীগঞ্জ থেকে শুরু করে আইটি স্কুল মোড় হয়ে নগরীর বিভিন্নসড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং একটি প্রাইভেটকার ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ওদিকে সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ টিপুর নেতৃত্বে মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। অপরদিকে আবার রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদল একত্রিত হয়ে রাজপথে ভূমিকা দেখায় আর কয়েকটি কভার্ডভ্যান ভাংচুর করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। কিন্ত বিগত দিনের প্রথম দিনে আড়াইহাজার যেভাবে রণক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন দ্বিতীয় দফার প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জের সকল প্রকারের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই পরিচালনা হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) চাইলাউ মারমা জানান, অবরোধে যেকোনো অরাজকতা এড়াতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এস.এ/জেসি


