অর্থনীতি নিয়ে টেনশনে রাজনীতি নিয়ে নিশ্চিন্ত আ.লীগ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:২২ পিএম
# আন্দোলন করে সরকারকে হঠানো যাবে না বলেই মনে করেন অধিকাংশ নেতা
দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন নিয়ে অনেকটা টেনশন মুক্ত থাকলেও সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা টেনশনে আছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সরকার যে পথে হাটছে তাতে আগামী নির্বাচনের আগেই মাঠের রাজনীতিতে আস্তিত্ব থাকবে না বিএনপির। তাই বিএনপিকে বাদ দিয়েই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং আওয়ামী লীগই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা মনে করেন বিএনপি ২০১৪ সালের মতোই জ্বালাও পোড়াও এবং সন্ত্রাসের রাজনীতি বেছে নিয়েছে। তারা অবরোধ ডেকে প্রতিদিন যানবাহনে আগুন দিচ্ছে। তারা দেশে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। গতকাল জীবনযাত্রা ছিলো একবারেই স্বাভাবিক। তাই বিএনপি যে পথে হাটছে সেই পথে হেটে দেশবাসীর জন্য সাময়িক ভোগান্তি ডেকে আনছে।
তবে তার খেসারতও তাদেরকেই দিতে হচ্ছে। আদালতে তাদের কঠোর বিচার করা হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিএনপির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে তারা মনে করেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো আওয়ামী লীগ আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় চলে আসবে বলে তারা মনে করেন। তাই আগামী নির্বাচন নিয়ে মোটেও টেনশানে নেই আওয়ামী লীগ।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান তারা মনে করেন বিগত দুই বছর ধরে বিএনপি দেশ বিরোধী অপপ্রচার চালানোর কারনে কিছুটা অর্থনৈতিক সংকটে পরেছে দেশ। দ্রব্যমূল্যেও বিষয়টি স্বীকার করেন তারা। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ একজন জনপ্রতিনিধি বলেন আওয়ামী লীগের সামনে বিএনপি বা অন্য কোনো দল কোনো সমস্যা নয়। কারণ যেহেতু সরকার আছে এবং থাকবে আওয়ামীলীগ তাই আগামী দিনগুলিতে আওয়ামী লীগকে অর্থনীতির উপরেই সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দনশীল বলেন, বিএনপি হলো পাকিস্তানী ধ্যান ধারণার একটি দল। আমরা এই দলটিকে কোনো রাজনৈতিক দলই মনে করি না। তাদের রাজনৈতিক কোনো মতাদর্শ নেই। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নেপথ্যে থেকে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছেন এটা এখন প্রমানীত। তাই খুনীর দল দেশের কোনো উপকারে আসতে পারে না।
তিনি বলেন আপনারা শুনেছেন গ্রেফতার হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন আমরা পাকিস্তান আমলেই ভালো ছিলাম। তার মানে বিএনপি আজও এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তাই এই দল নতুন করে দেশে যে আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে জনগন এরই মাঝে তা প্রতিহত করতে শুরু করেছে। আপনারা দেখেছেন বাসে ককটেল মারতে গিয়ে একজন জনগনের হাতে ধরা পরেছে। জনগন প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
তিনি আরো বলেন পাকিস্তানপন্থী বিএনপি এই দেশে আর কখনো রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপির অবরোধের কারণে ঠিক মতো মালামাল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দ্রব্যমূল্য কিছুটা বাড়তে পারে। কিন্তু এই অবস্থা থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি অনেকদূর এগিয়ে এসেছে এবং আগামী দিনে এ দেশ ইউরোপ আমেরিকার মতো উন্নয়ন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
এদিকে আগামী নির্বাচনকে সামেনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দনশীল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত শহীদ বাদল, শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ সহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে সজাগ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এস.এ/জেসি


