গিয়াসউদ্দিনের সমালোচনায় তৎপর শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:০৯ পিএম
# প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে নানা সময় নানা রকম তথ্য ফাঁস করে থাকেন শামীম ওসমান
নানা সময় নানা কাণ্ডে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তাছাড়া সংসদে অধিবেশন থেকে শুরু করে যেকোন সভা সমাবেশে বেশ জোড়ালো আওয়াজে বক্তব্য রেখে থাকেন এবং স্লোগানও দেন। যার কারণে যেখানেই তিনি বক্তব্য রাখেন না কেন সকলের দৃষ্টি থাকে তার দিকে।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত সাংসদ শামীম ওসমান প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে শাশাতে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে কখনো বলছেন খেলা হবে ও পলিটিক্যাল প্রস্টিটিউটের মত শব্দ উচ্চারিত করছেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে নিয়ে শামীম ওসমান বেশকিছু আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও তথ্য ফাঁস করতে গিয়ে রাজনৈতিক ভাষা অতিক্রম করে রাজনীতি পরিভাষার বাহিরে গিয়ে নানারকম ভাষা ব্যবহার করে বেশ সমলোচিত হচ্ছেন।
এছাড়া সাংসদ শামীম ওসমানের করা বিভিন্ন মন্তব্য ও তথ্যকে গায়ে না মেখে নাকচ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা সমাবেশে গিয়াসকে নিয়ে শামীম ওসমানের মন্তব্য ও তথ্যগুলো পর্যালোচনা করা হলো। পাশাপাশি এসকল মন্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের প্রতিক্রিয়াও পর্যালোচনা করা হল।
গত ১ নভেম্বর বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে আওয়ামী লীগের এক প্রস্তুতি সভায় মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির এক প্রেসিডেন্ট আছেন, খবর নিয়ে একটু দেখবেন তিনি অন্য কোনো দলে যাচ্ছেন কি না। তৃণমূলে তো যেতে পারবেন না, তৈমূর আলম খন্দকার লাথি দিয়ে বের করে দেবেন।”
সাংসদ শামীম ওসমানের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়ায়উদ্দিন বলেন, তার এখন মাথা ঠিক নাই। সে দীর্ঘদিন ধরেই খেই হারিয়ে ফেলেছেন। যখনই সে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য রাখেন তখনই সে ২০০১ সালের সেই ভয়ংকর দিনগুলোর কথা মনে করে আমাকে দেখে। সে কারণে আউল ঝাউল করে কথা বলে। তার এইসব কথা জনগণ গুরুত্ব দেয় না। বরং এটা যে পাগলের প্রলাপ তা সবাই জানে।
তার বর্তমানে কোনো জনভিত্তি নেই। তাই যার জনভিত্তি আছে তার বিরুদ্ধে তখন সে বক্তব্য রাখে। মূলত আতঙ্ক ভয় থেকেই সে আমাকে নিয়ে এমন কথা বলে। তার কারণে দলের অনেক মানুষ লজ্জিত। তারা মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না। আমাদের কাছে তাদের অনেক নেতাকর্মী বলে। তার এমন কথাবার্তায় আমরাও লজ্জা পাই। সে দলের সাংগঠনিক কোনো পর্যায়ে নেই। তিনি একজন অনির্বাচিত ব্যক্তি। তাই তার মুখ দিয়ে যে কিছুই বলাই স্বাভাবিক।
গত (১২ অক্টোবর) শ্রমিকলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শামীম ওসমান বলেন, বিএনপিতে খুনী ঢুকে গেছে। এখানে একজন আছেন। বয়সে আমার অনেক বড়। ৭৮/৮০ বছর বয়স। এই বুড়ো বয়সে ২৩ বছরের একটা মেয়েকে বিয়ে করেছেন। তিনি আরও বলেন, আমি নামও জানি। এখন শুধু এতটুকুই বলে রাখলাম। পরে নাম ঠিকানাও বলে দেব। আপনার বউয়ের নামও বলতে পারবো কোন এলাকায় থাকেন সেটাও বলতে পারব। ভাববেন না আপনারা কোথায় থাকেন এটা জানি না।
সাংসদ শামীম ওসমানের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়ায়উদ্দিন বলেন, তিনি বিবেক বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছেন তাই এমন উদ্ভট মন্তব্য করছেন।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে জনসভা করার বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শামীম ওসমান বলেন, “দুবাইতে গিয়ে এক জঙ্গি নেতার সঙ্গে গিয়াস বৈঠক করেছেন” শামীম ওসমানের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়ায়উদ্দিন বলেন, তিনি হয়তো ওই মিটিংয়ে ছিলেন তা না হলে তিনি কিভাবে বললেন? ওনার আজগবি সব বক্তব্য সবাই এখন বুঝে। আমি গত কয়েক মাস আগে কেনো গত ৩ বছরেও দুবাইতে যাই নাই।
ওনাকে আমি বলেছিলাম, বিদায় ঘন্টা যেহেতু বাজছে মাথা ঠিক রেখে কথাবার্তা বলতে। তিনি এসব কথা বলছেন এক প্রকার ভীতি থেকে। তিনি ভীতি থেকে বারবার গাজীর গীত গান। যা তিনি অনবরত করে যাচ্ছেন। ছোট কোনো অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন আবার বড় কোনো অনুষ্ঠানের জন্য আগে হাতজোড় করে নেতাকর্মীদের এনেও তিনি এসব কথা বলেন। আমি এর আগেও এক বক্তব্যে বলেছিলাম, তিনি যেভাবে সবকিছু আগে জেনে যান তাহলে তাকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান বানানো হোক।
তারপরও তিনি থেমে নেই। তিনি মিথ্যাচার করেই চলেছেন। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেছেন, জেলা বিএনপির সভাপতি নিয়ে স্থানীয় সাংসদ সমালোচনা করেছেন এবং স্থানীয় সাংসদের এমন মন্তব্যের জবাব দিয়ে স্পষ্টও করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি। যার কারণে তার করা বেশির ভাগ মন্তব্যই টিকছে না। এছাড়া তার দেয়া তথ্যের বিপরীতে জেলা বিএনপির সভাপতির মন্তব্য গুলো থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় স্থানীয় সাংসদের তথ্যগুলো কতটুকু যৌক্তিক। এস.এ/জেসি


