আন্দোলনের গতির সাথে বিএনপি নেতাদের মামলার গতিও বাড়ছে
এম মাহমুদ
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ১০:০৯ পিএম
এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মহাসমাবেশ, জনসমাবেশ, পদযাত্রা মত কর্মসূচি পালন করে। এবার চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য হরতাল, অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। তবে আন্দোলনের গতি বৃদ্ধি পেলেও বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলায় মামলার গতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে সমতালে।
যার কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া জেলা এবং মহানগর বিএনপি শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের তাদের রাজনৈতিক এলাকার বাহিরের মামলারও আসামী হতে হচ্ছে। তবে জেলা এবং মহানগরের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের নির্দেশে আন্দোলন সংগ্রাম চলমান থাকায় বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করছে বিএনপির কয়েকশত
নেতাকর্মী । তবে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেউাই গ্রেপ্তার হননি একাধিক মামলার আসামী হয়েও। সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন জেলার বেশিরভাগ থানাই হরতাল অবরোধের কর্মসূচি চলাকালে একাধিক মামলার আসামী হয়েছেন। তবে তারা প্রকাশ্যে মাঠে নেমে কর্মসূচি
পালন না করলেও তাদের নির্দেশনায় সকল ইউনিটের নেতৃবৃন্দ হরতাল অবরোধের মত কর্মসূচি পালন করছে। যার কারণে তারাও আসামী হচ্ছেন বিভিন্ন থানার মামলায়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহŸায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ আলী খান টিপু হরতাল অবরোধের মত কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে মহানগর এলাকার বাহিরের
থানাগুলোতেও মামলা খেয়েছেন। যার কারণে জেলার নেতাদের তুলনায় মহানগর বিএনপির নেতাদের মামলার সংখ্যা দীর্ঘ। তবে এসকল হামলা মামলাকে ভেদ করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ আলী খান টিপু এখনো বেশকয়েকটি থানার মামলার আসামী হয়েও রাজপথে সক্রিয় থেকে হরতাল, অবরোধের মত কর্মসূচি পালন করছে। এছাড়া তার
নেতৃত্বে এখন মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সকল ইউনিটের নেতৃবৃন্দ এখনও ঐক্যবদ্ধ হয়ে হরতাল অবরোধের মত কর্মসূচি ধারাবাহিক ভাবে পালন করে যাচ্ছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীদের বাহিরেও নির্বাহী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও তাদের নিজ রাজনৈতিক এলাকার বাহিরে গিয়ে একাধিক মামলার
আসামী হচ্ছেন। এরমধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া যিনি নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি রূপগঞ্জ কেন্দ্রীক রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সুবাধে তার নেতাকর্মীরা তার নির্দেশনায় হরতাল, অবরোধের মত কর্মসূচি রূপগঞ্জ এলাকায় পালন করছেন। কিন্তু তিনি রূপগঞ্জের বাহিরের একটি থানা সোনারগাঁ থানায়ও
মামলার আসামী হয়েছেন। অপরদিকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান যিনি নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী তার নির্দেশনায় সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন হরতাল, অবরোধের মত প্রতিটি কর্মসূচি পালন করছেন। কিন্তু তিনি হরতাল, অবরোধের মত কর্মসূচি
চলাকালে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব না দিলেও সোনারগাঁ থানার সকল মামলার আসামী হয়েছেন। এতে প্রতিয়মান হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাদেরও আন্দোলনের গতির সাথে নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার গতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।


