তারেক রহমানের দেয়া অবরোধ কর্মসূচিকে অবহেলা করলেন সেন্টু-মুকুল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:২৫ পিএম
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক প্রায় ২ সপ্তাহে সাতদিন ১ দফা দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনের লক্ষ্য হিসেবে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি রাজপথে পালন করছেন বিএনপি।
আর এই হরতাল ও অবরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিটি থানায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা হচ্ছে এমনি প্রায় ইতিমধ্যে তিন শতাধিকের ও বেশি নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে আর আছে হাজারো নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দফায় দফায় মামলা ও হামলা এই সকল বিষয়কে উপেক্ষা করেই অবরোধ কর্মসূচিকে সফল করতে নেতাকর্মীরা রাজপথে নামছেন ও গ্রেফতার হচ্ছেন।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীই নিজস্ব ঘর-বাড়ি ছাড়া। বর্তমানে রাজপথের এই উত্তেজিত অবস্থায় কেন্দ্র ঘোষিত হরতাল ও অবরোধ থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপ তথা সেন্টু-মুকুল বলয়।
জানা গেছে, শহরের দফায় দফায় কেন্দ্রীয় ঘোষিত আন্দোলনে বিগত দিন থেকেই মাঠ ছেড়ে দিয়েছে তারা কিন্তু যখন ঢাকায় কোন বড় সমাবেশের ডাক দেওয়া হয় তখন কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখাতে যায় তারা রাজপথে রয়েছে। তা ছাড়া শহরের আন্দোলনে ছোট হোক বা বড় কোনভাবেই রাজপথে থাকে না মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী সেন্টু-মুকুল গ্রুপ।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার মহা-সমাবেশ পশু হয়ে গেলে সারাদেশে হরতালের ডাক দেওয়া হয়। আর এই হরতালের দিন নিজ বাস ভবন থেকে বিএনপির মহা-সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেফতার করা হয়। সেদিন দিনই সরকারের পদত্যাগসহ এক দফা দাবিতে ৭২ ঘন্টা টানা তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হয়।
নেতাকর্মীদের ভাষ অনুযায়ী শোনা গেছে, মহা-সমাবেশের দিন ফকিপুল থেকে কিছু ফটোশেসন করেই নারায়ণগঞ্জে চলে এসে ছিলেন তারা। এছাড়া বর্তমানে ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত টানা তিনদিনের কর্মসূচিতে দেখা যায়নি সেন্টু ও মুকুল বলয়কে পরবর্তীতে ৫ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত একটা কর্মসূচি পালনে ও ছিলো না তাদের ভূমিকা পরবর্তীতে ৮,৯ নভেম্বর আবারো ৪৮ ঘন্টার কর্মসূচির প্রথম দিনে দেখা যায়নি তাদের কিন্তু রাজপথে তারা ফাঁকা বুলি দিয়ে যায় তারা রাজপথের লড়াকু সৈনিক।
বর্তমানে রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে ব্যাপক ভ‚মিকা রয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নাম। ইতিমধ্যে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান মাঠে থেকে অবরোধ পালন করেছেন পরবর্তীতে সাখাওয়াত খান একটু শারীরিক অসুস্থ থাকায় সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু রাজপথে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে গিয়েছেন।
কিন্তু গতকাল বুধবার তৃতীয় দফার প্রথম কর্মসূচি পালনকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া হরতাল ও অবরোধ পালন করতে গিয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব প্রায় ৯টি নাশকতা মামলার আসামী হয়েছেন। কিন্তু বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা যারা মূল পদে বসে আছেন সেন্টু ও মুকুল তাদের বিরুদ্ধে নেই কোন মামলা।
এছাড়া ও তারা বিএনপির নামধারী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। যার কারণে তৃণমূলের দাবি, কঠোর আন্দোলনে সেন্টু-মুকুল বলয়ের নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলেন না। কারণ তাদের একটাই কথা আমাদের পদ নেই আমরা কিভাবে মাঠে থাকবো। যার কারণে তৃণমূলের দাবি এই বিদ্রোহী গ্রুপ বর্তমানে সুবিধাবাদী হিসেবেই রয়েছে তারা বিএনপির নিস্কিয় নেতা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। সেখানে আহ্বায়ক করা হয় এড. সাখাওয়াত ও সদস্য সচিব করা আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে যার কারণে কমিটি থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী বেড়িয়ে তারা বিদ্রোহীদের খাতায় নাম লেখায়।
আর মূল কমিটির সাথে পাল্টা পাল্টা সকল কিছু করা শুরু করে যেমন, কর্মসূচি, কমিটি, বক্তব্যসহ নানা হাঁক ডাক দেখিয়ে এবার কঠোর আন্দোলনে নিস্কীয় ভূমিকা পালন করে মহানগর বিএনপি বিদ্রোহীরা। এদিকে আতাউর রহমান মুকলকে বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঙ্গল মার্কা হিসেবেই চিনে থাকে।
যার কারণে নেতাকর্মীরা বলছে সে ক্ষমতা চায় রাজনীতি চায় না যার কারণে বিএনপি থেকে গাঁ বাচিঁয়ে চলছে। আরেকজন বর্তমানে আব্দুস সবুর খান সেন্টু তিনি ও মুকুলের সাথে তাল মিলিয়ে চলে বর্তমানে তৈমূর বলয়ে ঘেঁষা খায় কিন্তু কিছুদিন পূর্বে তৈমূর আলম খন্দকার তৃণমূল বিএনপিতে চলে য়াওয়ার কারণে তারা হতাশ হয়ে পরে।
যার কারণে বর্তমানে বিএনপিতে ও তারা কোনভাবে যুক্ত নেই। তারা বর্তমানে কঠোর আন্দোলনে ঘরে বসে থেকে বিএনপির নামধারী নেতা হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। আর সামনে ও বিএনপি যতগুলো অবরোধ কর্মসূচি আসতে পারে সেগুলোতে ও তাদের মাঠে না থাকার চাঞ্জ বেশি। এমনকি তারা এই দুই সপ্তাহে নির্দেশনা দিয়ে ও কোন অবরোধ কর্মসূচি পালন করেননি বলে জানা গেছে। যার কারণে বুঝা যাচ্ছে সেন্টু-মুকুলে কপাল পুড়ছে মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপ।


