আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে। কেননা আর কয়েক দিন পরেই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তাদের দেয়া সুত্রমতে এই সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হবে। যদিও বিএনপি নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তারা এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিবে না বলে জানিয়ে আসছে।
সেই সাথে ২৮ অক্টোবর থেকে বিরতি দিয়ে গতকাল টানান তৃতীয় ধাপের অবরোধ পালন করেছে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবীতে। কিন্তু বিএনপির এই অবরোধ প্রতিরোধে আওয়ামী লীগ সারাদেশের তুলনায় নারায়ণগঞ্জে সড়ক-মহাসড়কের মোড়ে মোড়ে শান্তি মিছিল করে যাচ্ছে। তবে শান্তি মিছিলের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের ৫টি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও মাঠে সক্রিয় ভুমিকায় রয়েছেন।
এদিকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি ২০১৪ সন থেকে আওয়ামী লীগের দখলে নেই। আওয়ামী লীগের মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। ২০১৪ সনে জাতীয় পার্টির বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা এই আসন থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সনের নির্বাচনেও এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে হয় ক্ষমতাসীন দলকে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাথে এখন জোট নেই জাতীয় পার্টির।
আর এই সুযোগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী তুলেছেন। এখানে স্থানীয় নৌকার প্রার্থী দাবীতে স্থানীয় নেতারা এক হলেও ভোটের মাঠে কোন্দলের কারণে হেরে যায় বলে দলের মাঝে অভিযোগ রয়েছে। যা সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম তার বক্তব্যে বলে গেছেন।
অপরদিকে এবারের দ্বাদশ নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বেশি প্রার্থী নৌকার মনোনয়ন চেয়ে মাঠে রয়েছেন। সেই সাথে প্রত্যেকে নিজেদের মত করে যার যার অবস্থান জানান দিচ্ছেন। কিন্তু এখানে কোন্দলের কারণে নৌকার প্রার্থী পরাজিত হয়েছে এমন অভিযোগও রয়েছে। যার জন্য একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইলেও যখন একজন দল থেকে মননোনয়ন দেয়া হয় অন্যরা মনক্ষুন্ন হয়ে দূরে সরে যায়। আর এই ভাবে তাদের মাঝে কোন্দল বার বার প্রকাশ্যে চলে আসে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসানত পুরোদমে মাঠে দলীয় কর্মসূচিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। তিনিও দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে ইতোমধ্যে জানান দিয়েছেন বিভিন্ন সভায় বক্তব্যের মাধ্যমে। সপ্তাহ খানিক আগে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভুঁইয়া নিজেকে এমপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
যদিও তার তেমন একটা কর্মী সমর্থক নেই বলে স্থানীয়দের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে। তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ও বর্তমান কমিটির সদস্য মাহফুজুর রহমান কালাম সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রচারনা করে পুরোদমে মাঠে থেকে জানান দিয়েছেন তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন পেতে চান। আর এজন্য ঢাকা থেকে শুরু করে স্থানীয় ভাবে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন।
এছাড়া সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এরফান হোসেন দীপও সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে ঘোষনা দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছেন। তাছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরীও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে নৌকা মনোনয়ন পেতে মাঠে রয়েছেন। তবে এখানে নৌকা মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রত্যেকেই আলাদা ভাবে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন। আর এতে করে তারা নিজেরাই বুঝিয়ে দিচ্ছেন তাদের মাঝে যে কোন্দল রয়েছে। যা দলীয় প্রার্থীতার ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কিন্তু এতোদিন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান সামসুল ইসলাম ও সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাতের সাথে মিলে সভা সমাবেশ করে আসছেন। কিন্তু তখন তিনি যে নৌকার মনোনয়ন চাইবেন তা প্রকাশ করেন নাই। যা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। হঠাৎ করে তিনি নৌকার প্রার্থী হতে চান এমন ঘোষনা দেয়ায় স্থানীয় ভাবে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মাঝে ব্যাপক ভাবে আলোচনা তৈরী হয়েছে।
দলের মাঝেই কেউ কেউ বলছে এটা সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের মাঝে কোন্দল তৈরী করার জন্য একটা ষড়যন্ত্র তৈরী করা হয়েছে। যাতে করে এখানকার কোন্দল বুঝতে পেরে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড সোনারগাঁ নির্বাচনী এলাকায় কাউকে নৌকার প্রার্থী না দেয়া হয়। আর এতে করে আবারও এই আসনটি জাতীয় পার্টির অনুকুলে চলে যায়। অর্থাৎ জাতীয় পার্টির প্রার্থী সহজে জয় পেতে পারে।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগ কি তা হতে দিবে। নাকি আগের মত নিজেদের কোন্দলের কারণে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হবে। আবার কেউ কেউ বলছে এটা তাদের মনোনয়নের লড়াই হতে পারে। আসলে কোনটি হবে তা বুঝা যাবে আর কিছু দিন পরেই। সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সার হাসনাতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘন্টা খানেক পরে ফোন দিতে বলেন। এস.এ/জেসি


