গত দুই সপ্তাহ ধরে বিএনপি-জামায়াতের চলমান আন্দোলনের যে কোন নাশকতা ঠেকাতে রাজপথে সর্তকমূলক অবস্থান ও শান্তি সমাবেশ পালন করে আসছে জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকলেও ঘুমিয়ে আছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের বড়-বড় পদ-পদবীর নেতারা।
গত এক বছর ধরেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। একটি গ্রুপ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এর পক্ষে ও অন্য আরেকটি গ্রুপ সাধারন সম্পাদক এড.খোকন সাহা পক্ষে। তাদের এই দ্ইু জনে বিভক্তর কারনে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি আলাদা আলাদা ভাবে পালন করা হয়।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এড.খোকন সাহার সাথে দলের নেতাকর্মীদের রয়েছে এক অন্তরিক ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার কারনেই নেতাকর্মীরা তাকে কর্মী বান্ধব নেতা বলে। কিন্তু মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এর কর্মী থাকলেও দলীয় কোন কর্মসূচিতে তাদের পাওয়া যায় না।
যেই কোন কর্মসূচিতে আনোয়ার সভাপতিত্ব করেন ও যুগ্ম সম্পাদক এস.এম আহসান হাবিব সঞ্চালনা করেন। হাতে গণা কয়েকজন পদ-পদবী নেতা ছাড়া কেউ তাদের কর্মসূচিতে আসে না। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন নেতা জানান, আনোয়ার ভাই এর কর্মসূচিতে আহসানেই সব। তিনি সঞ্চালনা করেন, কাউকে মাইক নিতে দেন না।
আহসান হাবিব এর যাকে মন চায় তাকেই বক্তব্য দিতে দেয়। নিজের কোন কর্মী নাই। নিজে একা দলীয় প্রোগ্রামে আসে, আবার একাই চলে যায়। কোন বড় এক নেতার আশির্বাদে যুগ্ম সম্পাদকের পদটা তিনি পান। কিন্তু তিনি হচ্ছেন কর্মী ছাড়া নেতা। বর্তমানে তিনি আনোয়ার ভাইয়ের কাঁধে ভর দিয়ে চলেন।
তার ১০টা কর্মীও নাই। তিনি কখনও আইভী, কখনও শামীম ও কখনও আনোয়ার। যেই সময় যাকে তার প্রয়োজন তার পেছোনেই তিনি যান। এই মহানগর আওয়ামীলীগে এস.এম আহসান হাবিব এর মতো নেতা থাকলে এক সময় কর্মী শূন্য দল হয়ে যাবে। দলকে শক্তি শালী করতে ভালো নেতৃত্বদান কারী নেতা দরকার।
যার নেতৃত্বে ১০০-১৫০ লোক এক ডাকেই জড়ো হতে পারবে। আগামী নির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আসলে হলে এখন থেকেই ভালো নেতৃত্বের নেতা প্রয়োজন। এবিষয়ে আরেক জন নেতা জানান, এক আহসান হাবিবেই তছনছ মহানগর আওয়ামী লীগ। জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে নির্বাচন করে তিনি বিপুল ভোটে পরাজিত হয়।
এখন দুইটি স্কুলের ব্যবসা করে চলে ফিরে খাচ্ছে। তার মতো নেতা এতো বড় পদে মানায় না। তাকে সাধারণ সদস্য পদে দেওয়া দরকার। সেই একমাত্র আনোয়ার ভাইকে ডুবাচ্ছেন।


