সমান্তরালে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রতিহত কর্মসূচী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৫১ পিএম
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এ মাসেই ঘোষণা হচ্ছে তফসিল। নির্বাচন কমিশন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচনী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে ক্ষমাতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো যেকোন পরিস্থিতিতেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নির্বাচন করার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে তারা বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচীকে প্রতিহত করার কর্মসূচীর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা ও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তফসিল ঘোষণার পর পরই আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ সকল কারাবন্দীকে মুক্তির দাবিতে চতুর্থ দফায় বিভিন্ন দফায় অবরোধ কর্মসূচীর ডাক দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল রোববার থেকেও টানা ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধের ডাক দিয়েছে তারা। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এই হরতালের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে জামায়াত ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোও।
কিন্তু সংবিধান বজায় রাখতে বর্তমান প্রক্রিয়ায়ই নির্দিষ্ট সময় নির্বাচন সম্পন্ন করতে বদ্ধ পরিকর আওয়ামী লীগসহ নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে বাংলাদেশের নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সরকারের প্রতি রয়েছে আন্তর্জাতিক চাপ। কোন পক্ষই কোন প্রকার ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় বেড়ে যাচ্ছে নির্বাচন কালীন সময়ের অস্থিরতার আশঙ্কা। এরই মধ্যে নির্বাচনে সব ধরণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যান্য যেকোন সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছেন সিইসি।
বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইতিমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বেড়ে চলেছে সংঘাত, সহিংসতা ও সংঘর্ষের মতো ঘটনা। সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো ধারাবাহিকভাবে হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচি দিচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধানের বিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে বদ্ধ পরিকর। একদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আন্দোলনকারীদের উপর দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ আনছে। অন্যদিকে দলের নেতা কর্মীদের উপর হামলা ও মামলাসহ গণগ্রেফতার চলছে বলে দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৯ জানুয়ারির আগেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক যেকোন পরিস্থিতিতে যেকোনো মূল্যেই সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এখন শুধু সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বাকি আছে। রাজনৈতিক পরিবেশ নির্বাচনের অনুকুলে না থাকলেও সংবিধান অনুযায়ী এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তারা।
প্রতিকূল পরিবেশ হলে নির্বাচন হবে না, জনগণের মধ্যে এমন ভুল-বোঝাবুঝি যেন না থাকে, সে বিষয়টিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতেই অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে এবার ভোটের সময় ২০১৪ সালের চেয়েও বেশি নিরাপত্তা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রের ভিতর এবং বাহিরে আগের চেয়েও বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির মহাসমাবেশকে ঘিরে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনার পরদিন দলটি সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে। এরপর এক দিন বিরতি দিয়ে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিন অবরোধ কর্মসূচি দেয় বিএনপি। এরপর শুক্র ও শনিবার বিরতি দিয়ে ৫ ও ৬ নভেম্বর অবরোধ পালন করে বিএনপি। তারপর আবারও এক দিনের বিরতি দিয়ে ৮ ও ৯ নভেম্বর অবরোধের ডাক দেয় তারা।
সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার ও শনিবার বিরতি দিয়ে আজ থেকে পুনরায় আরও দুই দিনের অবরোধের ডাক দেয় বিএনপি। এর মধ্যে বিএনপির নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে গণহারে মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে দলটির পক্ষ হতে দাবি করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দলীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে। এর মধ্যে সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর, গাড়িতে অগ্নি সংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে মাঠে শক্তভাবে অবস্থান করছে পুলিশ প্রশাসন। অবরোধ ও নৈরাজ্য দমনে মাঠে আছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীগণ। এস.এ/জেসি


