Logo
Logo
×

রাজনীতি

নির্বাচনের সমর্থন নিচ্ছেন সেলিম ওসমান

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:১২ পিএম

নির্বাচনের সমর্থন নিচ্ছেন সেলিম ওসমান
Swapno

 

অতি সন্নিকটে কড়া নাড়ছে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। এই সপ্তাহেই হতে পারে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা। এই নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ পুরোদমে মাঠে রয়েছে। বিপরীতে বিরোধী দল বিএনপি শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবী জানিয়ে চতুর্থ ধাপের মত অবরোধ চলমান রয়েছে। এই আন্দোলন সংগ্রামের মাঝে আওয়ামী লীগ বিএনপি পুরোদমে মাঠে রয়েছে। কিন্তু এই দুই দলের মাঝে জাতীয় পার্টি থেকে তারা সবচেয়ে ভালো সুযোগ সুবিধায় রয়েছে।

 

যদিও নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির এমপিরা বলে আসছে তারা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি সকলকে নিয়ে কাজ করতে চান। কিন্তু রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে আসল্ইে কি তারা তা করে নাকি তাদের কিছু ঘনিষ্ঠ লোক নিয়ে তারা কাজ করে। তবে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন স্থানীয় নেতারা। তাদের এই দাবীতে গত মাসের ১৩ অক্টোবরের সোনারগাঁয়ের কাচঁপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সমাবেশে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা আশ্বাস প্রদান করেন।

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জের-৫টি আসনের মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি সদর বন্দর নিয়ে গঠিত হওয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ জোন হিসেবে পরিচিত। কেননা এখানে রয়েছে সারাদেশের পরিচিতি পাওয়া পাইকারি বাজার নিতাইগঞ্জ ব্যবসায়ী চাল, ডাল, আটা, গম, তেল আড়ৎ বাজার। নদী বন্দর হিসেবে এক সময়কার বন্দর টার্মিনাল ঘাটের পরিচিত রয়েছে। সদর বন্দর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এই আসনটিতে আওয়মী লীগের প্রার্থী দেয়ার জন্য দীর্ঘ দিন যাবৎ স্থানীয় নেতারা দাবী জানিয়ে আসছেন।

 

কেননা ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের থেকে অভিযোগ রয়েছে এখানে জাতীয় পার্টির এমপি থাকায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা অবহেলিত হয়ে রয়েছে। নৌকা মনোনীত এমপি না থাকায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দুঃখ কষ্ট কারো সাথে শেয়ার করতে পারে না। তাই তারা এবার আট ঘাট বেধে জোরালো ভাবে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবী দলীয় সভানেত্রী পুরন করবে কি না সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় নেতারা।

 

জানা যায়, ২০০৮ সন থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। তখন এই আসন থেকে প্রয়াত নাসিম ওসমান সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। কিন্তু তিনি ২০১৪ সনে ভারতে মারা যাওয়ার পরে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে সেলিম ওসমান সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। একই ভাবে ২০১৮ সনেও এই আসনটিতে সেলিম ওসমান এমপি নির্বাচিত হন।

 

কিন্তু ২০০৮ সন থেকে ২০১৮ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মহাজোটের সাথে জাতীয় পার্টির শরীক থাকায় তাদের ছাড় দিতে হয় নেত্রী নির্দেশে। কিন্তু আওয়ামী লীগ টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও এই আসন থেকে নৌকার প্রার্থী না থাকায় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। তাই তারা আর আগামী নির্বাচনে এই আসনটিকে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে চান না।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান পুনরায় এখানে তৃতীয় বারের মত সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষের সাথে মতবিনিময় সভা করছেন। সেই সাথে তিনি আবার নির্বাচন করবেন কি না সে বিষয়ে মত নিচ্ছে এলাকার মানুষের কাছ থেকে। অথচ এই সংসদ সদস্যের কাছে মানুষ সেবা না পেয়ে ভোগান্তি পোাহাতে হয় এমন অভিযোগ রয়েছে।

 

কেননা নারায়ণগঞ্জে এমপি সেলিম ওসমানের কোন কার্যালয় না থাকায় তাকে না পেয়ে মানুষকে সেবা পেতে কষ্ট করতে হয়। তার নির্দিষ্ট কিছু খলিফা ছাড়া তাকে পাওয়া যায় না। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এই জনপ্রতিনিধি সাংসদ সেলিম ওসমান সদর বন্দরের বিভিন্ন ইউনিয়নে মানুষের সাথে মতবিনিময় সভা করছেন। আর সেখানে মানুষ তাকে আবারও নির্বাচন করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু এলাকার সচেতন মহলে মানুষের আলোচনা হচ্ছে আসলে এই মতবিনিময় মানুষের কাছ থেকে তেমন ভাবে কোন মতামত নেয়া হয় না।

 

অনুষ্ঠানের ডায়েস থেকে একজন বলে উঠেন আপনারা সকলে আগামী নির্বাচনে সেলিম ওসমানকে আবারও এমপি হিসেবে দেখতে চান কি না তখন মঞ্চের সকলে বলে উঠে হ্যাঁ। কিন্তু আসলে স্থানীয় মানুষজন তাদের এলাকার সমস্যা এমপির সামনে তুলে ধরতে পারেন না। আর এতে করে মানুষের ভিতরে থাকা কথা ভিতরেই রয়ে যায়। তাই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে আসলে সাংসদ সেলিম ওসমান মত বিনিময়ের সভার নামে মানুষের কাছ থেকে নির্বাচনের সমর্থন নিচ্ছেন। তাই এটা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে  আলোচনা হচ্ছে।   

 

আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন প্রসংঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, আল্লাহ যদি আমার কপালে রাখে আর আমার নেত্রী যদি আমাকে আদেশ করেন অবশ্যই আমি নির্বাচন করতে আসবো। তখন আমি ভোটের কথা বলবো। আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। সকলকে ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। নির্বাচনটা বড় কথা নয়। আমার কাছে কোন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ছিলনা, আমি সকলকে নিয়ে একত্রে কাজ করতে চাই। আমি নির্বাচিত হই আর না হই প্রতিটি স্কুলকে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখবো।

 

আামি হারাম খাবোও না কাউকে খেতেও দিবো না। কেউ কারো জোর করে জমি দখল করতে পারবে না। আর এ কাজ করেই মানুষের বাহবা পেয়েছি। ভোট আমি পাবো কি না জানি না কিন্তু আমি যখন অসুস্থ ছিলাম তখন দেখেছি কত মানুষ আমার জন্য দোয়া করেছে। আগামী জানুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দিবেন। তবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আপনার ভোটের অধিকারের দায়িত্ব পালন করবেন। আপনাদের ভোটের বিবেচনার উপর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন