Logo
Logo
×

রাজনীতি

জাতীয় নির্বাচন ৭ জানুয়ারি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:২৬ পিএম

জাতীয় নির্বাচন ৭ জানুয়ারি
Swapno

 

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। সেই হিসেব অনুযায়ী শুরু হয়ে গেল নির্বানের সময় গণনা। এরই মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও সরকার বিরোধীদের মধ্যে চলছে বিরোধ।

 

তফসিল ঘোষণার পরপরই দেশের বিভিন্ন জায়গায় তফসিলের সমর্থনে একদিকে আনন্দ মিছিল এবং অন্যদিকে তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিবাদ মিছিল বের করারও খবর প্রকাশ হচ্ছে। এরই মধ্যে তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ১৯ ও ২০ নভেম্বর হরতাল ঘোষণা করেছে বিএনপি। এরই মধ্যে ঘোষিত তফসিল ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

 

ঘোষিত তফসিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট, বাম গণতান্ত্রিক জোট, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ সমমনা দলগুলো।

 

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ১ ডিসেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আাগামী ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল ও নিষ্পত্তিসহ প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে হবে আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর এবং নির্বাচনি প্রচার চলবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। নির্বাচনে প্রতিটি জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় জেলা প্রশাসকগণ।

 

নারায়ণগঞ্জে আসন্ন দ্বাদশ সংসদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাসিত হয়ে আনন্দ মিছিল করছে। কিন্তু আসন্ন দ্বাদশ সংসদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তারই ধারাবাহিকাতায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরাও জেলার বিভিন্ন স্থানে অবরোধকে প্রত্যাখ্যান করে মশাল মিছিল করছে।

 

সূত্র বলছে, গতকাল সন্ধ্যা সাতটায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। দলীয় সূত্র বলছে, তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী অঙ্গসগঠনের নেতৃবৃন্দ বিকেল থেকেই দলীয় পার্টি অফিস ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পটে তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিলের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের শহর অলি গলি পাড়া মহল্লায় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ উচ্ছ্বসিত হয়ে আনন্দ মিছিল করেন। অপরদিকে বিএনপি থেকে তফসিল ঘোষণার পরই বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকরা এই তফসিল ঘোষণা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও বিএনপি সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তফসিল ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে মশাল মিছিল করে।

 

বিশেষ করে ফতুল্লা, সোনারগাঁ, শহর এলাকার বেশ কয়েকটি স্পটে বিএনপি মশাল মিছিল করেছে। তবে তফসিল ঘোষণায় নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের উচ্ছ্বাস বিরাজ করলেও তফসিলকে প্রত্যাখ্যানে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির মশাল মিছিলে জনমনে এক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।  

 

এদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ নির্বাচনের পূর্বের সার্বিক অবস্থা সামাল দিতে প্রস্তুত করা হয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা শক্ত অবস্থানে থাকবেন বলেও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান সংবিধানকে বজায় রেখে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে বদ্ধ পরিকর সরকার এবং নির্বাচন কমিশিন। অন্যদিকে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো।

 

বাংলাদেশে এর আগের নির্বাচনগুলোর সময় দেখা গেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রকে একই অবস্থানে থাকতে। তবে এবারের সেই বিষয়টি সম্পূর্ণই আলাদা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকগণ। এমনকি ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও তাদের একই ভূমিকায় দেখা গেছে বলে জানা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের এবারের জাতীয় নির্বাচনে এই দেশটিকে ব্যাপক সক্রিয় হিসেবে ভূমিকা রাখতে দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ শুরুর করে দেশটি।

 

সরকারী দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে মার্কিনের এই তৎপরতাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ভোটের তাগিদ দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে শর্তমুক্ত সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ভিসা নীতি প্রয়োগের হুঁশিয়ারিও দেয় তারা।

 

অন্যদিকে নির্বাচনের বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোন অবস্থান তৈরি করতে পারেনি আওয়ামী লীগের অন্যতম জোট জাতীয় পার্টি। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান অবস্থানসহ আন্তর্জাকিত চাপের মুখে জাতীয় পার্টি অনেকটাই সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলের চেয়ারম্যানের মনে করেন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন এমন একটা পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি এই তিনটি বড় দলই এখন খাদের কিনারায়।

 

তাই নির্বাচন নিয়ে যেকোন সিদ্ধান্তই এখন খুব হিসেব-নিকেশ করে নিতে হবে। একটু বেহিসেবি পদক্ষেপ নিলে দলগুলো গভীর খাদে নিমজ্জিত হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। জাপা চেয়ারম্যানের মতে আওয়ামী লীগ কোনো ভাবে পিছলে গেলে কিংবা ভুল পদক্ষেপ নিলে তাদের দীর্ঘ সময় ধরে তার মাশুল দিতে হতে পারে। বিএনপি নিজেদের সঠিকভাবে প্রমাণ করতে না পারলে তাদেরও অস্তিত্ব সংকটে পড়তে হতে পারে। ঠিক তেমনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে জাতীয় পার্টিও অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।

 

সর্বোপরি নির্বাচন নিয়ে চলতি সরকারের অধীনেই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের শক্ত অবস্থান গ্রহণ করা এবং তফসিল ঘোষণা করার পর যেমন তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার সাথে সাথে দেশের জনগণ ও বিশ্বের দরবারে তা গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের বিষয় উঠে আসছে। তেমনি বিএনপি ও তার সমর্থিত দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ কিংবা বর্জনের যেকোন সিদ্ধান্তই যুক্তিযুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করার বিষয় এবং জাতীয় পার্টি তাদের অবস্থান পরিষ্কার উদ্দেশ্য প্রমাণে যথেষ্ট প্রজ্ঞার পরিচয় বহন করতে না পারলে দেশে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনিভূত হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা থেকে যাবে। 

 

ভোটার

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ইসি। এবার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন ভোটার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন এবং নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর হিজড়া ভোটার ৮৫২। এর আগে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটার ছিল ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন ও নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন।

 

ভোটকেন্দ্র 

সারা দেশে ভোটকেন্দ্রের খসড়াও প্রস্তুত করা আছে। খসড়া অনুযায়ী এবার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ১০৩টি। এতে ভোটকক্ষ রয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজারের মতো। প্রায় ৫ শতাংশের মতো ভোটকেন্দ্র এবার বাড়ছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৪০ হাজার ১৮৩টি। আর ভোটকক্ষ ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৩১৯টি। বিধান অনুযায়ী তফসিলের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করবেন। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, মার্কিং সিলসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সিল, ছোট-বড় চটের বস্তা ও নির্বাচনের অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের বেশিরভাগ ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

 

গত সংসদ নির্বাচনগুলোর তারিখ

বাংলাদেশে প্রথম থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে যথাক্রমে- ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ, ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ সালের ৭ মে, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর।

 

এক নজরে বিগত তফসিল

প্রথম সংসদ নির্বাচনে ৬০ দিন সময় দিয়ে তফসিল হয়েছিল। এতে ১৪টি দল অংশ নেয়। ৫৪ দিন সময় দিয়ে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট হয়। ২৯টি দল এতে অংশ নেয়। তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৭ দিন সময় দিয়ে তফসিল হয়। এ নির্বাচনে অংশ নেয় ২৮টি দল। চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে ৬৯ দিন সময় রেখে তফসিল হয়েছিল। এতে মাত্র ৮টি দল অংশ নেয়। নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পর পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৭৮ দিন সময় দিয়ে তফসিল হয়েছিল। এতে ৭৫টি দল অংশ নেয়।

 

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে তফসিল দিয়ে তিনবার পরিবর্তন করতে হয়। অধিকাংশ দলের বর্জনের মধ্যে এতে অংশ নেয় ৪১টি দল। সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ৪৭ দিন সময় দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ ৮১টি দল অংশ নেয় এতে। ৪২ দিন সময় দিয়ে অষ্টম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৫৪টি দল অংশ নেয় এতে।

 

নবম সংসদ নির্বাচনেও ৪৭ দিন সময় নিয়ে ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হওয়ায় কেবল নিবন্ধিত ৩৮টি দল এতে অংশ নেয়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল হয় ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর। ৪২ দিন সময় দিয়ে ভোটগ্রহণ করা হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। বিএনপি ও তার মিত্রদের বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৭টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়।

 

৪৬ দিন সময় দিয়ে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল হয়। ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ হয় ২৩ ডিসেম্বর। পরে অবশ্য পুনঃতফসিল করে ভোটের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ওই নির্বাচনে ৩৯টি দল অংশ নেয়। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন