দীর্ঘদিন যাবৎ মামলায় জর্জরিত হয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃবৃন্দ। যার কারণে বিএনপির দফায় দফায় কেন্দ্রীয় ঘোষিত হরতাল ও অবরোধে বেশি একটা সুবিধা দেখাতে পারছে না নেতাকর্মীরা। এছাড়া ও বিএনপির নেতাকর্মীদের লক্ষ্য ছিলো তফসিল ঘোষণার সাথে সাথেই তফসিল বিরোধী আন্দোলন নিয়ে মাঠে থাকবে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
কিন্তু তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে দেখা মিললো ভিন্ন চিত্র শহরের অলিতে গলিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নৌকার মিছিলে মুখরিত হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ শহরতলী। শহরে বিএনপির তুখোর বিক্ষোভের কোন চিত্র এখনো দেখা যায়নি। এছাড়াও জেলা বিএনপির কিছু নেতার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের ফোন সুইচ অফ দেখায় যার কারণে আর বুঝতে বাকি নেই যে তফসিল ঘোষণা ও পালিয়ে থাকা গর্ত থেকে বিএনপিকে বের করতে সক্ষম হয়নি।
ইতিমধ্যে আজকে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণসংহতি আন্দোলন সকাল ও সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি বর্তমানে কোন প্রকারের হরতালের ডাক দেয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, তারা এখনো পঞ্চশ দফার অবরোধ নিয়ে মাঠে রয়েছে কিন্তু এই বিরোধী দলগুলোর হরতালে তাদের সমর্থন রয়েছে।
আজকে তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে শুধু আড়াইহাজারের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী আজাদের নির্দেশনায় মিছিল করেছেন, এছাড়া ও সোনারগাঁয়ে আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্দেশনায় মিছিলের দেখা দেয়, এমনকি ফতুল্লায় জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিওে নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় ফতুল্লার কয়েক জায়গায় খন্ড খন্ড তাৎক্ষনিক তফসিল বিরোধী মিছিলের দেখা মিলে।
তাছাড়া জেলা বিএনপি, মহানগর বিএনপি ও আরো অঙ্গসংগঠনের এমন কোন তাৎক্ষনিক মিছিল ছিলো না। সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সদর, বন্দর, এই থানা এলাকাগুলো ঠান্ডা ছিলো বলা চলে। এছাড়া গত ২৮ তারিখ থেকে আজকে তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত বিএনপির মূল পয়েন্টের নেতাকর্মীদের সাড়া শব্দ নেই বললেই চলে। আর বর্তমানে চূড়ান্ত আন্দোলনে নেতারা মাঠে না থাকায় কর্মীরা হতাশায় ভুগছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে বিএনপি, পুলিশ, আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিলেন নয়াপল্টনের রাজপথ তার পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা হরতাল ও কয়েকদফা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। কিন্তু অন্য জেলাগুলোতে অবরোধের বেশি প্রভাব দেখা দিলে ও নারায়ণগঞ্জে শুধু ৩১ অক্টোবর প্রথম অবরোধের দিনই আড়াইহাজারে রণক্ষেত্র তৈরি হয়েছিলো। তারা ছাড়া কয়েক দফা প্রায় ৫ দফা অবরোধে ও কোন প্রভাব নেই নারায়ণগঞ্জে।
তাছাড়া ইতিমধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রয়েছে ভূরিভূরি মামলা যাকে ঘিরে মামলা থেকে বাচাঁতে বাচাঁতে গা ঢাকা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী। তারা এটা ও বলে যাচ্ছে যে এটাকে পালিয়ে থাকা বলে না। আমরা সামনের আন্দোলনগুলো আরো কঠোর করতে বর্তমানে কৌশল অবলম্বন করছি। তারা আরো বার্তা দিয়েছিলো ও তফসিল ঘোষণার সাথে সাথেই তারা আন্দোলনের ঝাঁপিয়ে পরবে। কিন্তু গতকাল সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল সন্ধ্যায় ৭ টায় দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন।
জানানো হয়েছে, নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। আপিল নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করার তারিখ ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি আর জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ৭ তারিখে দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন।
এদিকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না বিএনপি এটা সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের দাবি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। যার কারণে বর্তমানে ১ দফা দাবির আন্দোলনে রয়েছে বিএনপি। আর এবার চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দিয়ে অবরোধ কর্মসূূচিকে লক্ষ্য করে মামলা-হামলা-গ্রেফতারের জর্জরিত হয়ে রাজপথ ও বাড়ি ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা। আর তফসিলে ও এখনো রাজপথে নেই কেউ।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, এই সরকারের অবৈধ তফসিল আমরা মানি না, মানবো না। তারা আবারো রাতের ভোট করতে এই তফসিল ঘোষণা করেছেন। আমরা বর্তমানে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছি। আর বর্তমানে আওয়ামী লীগ যাচ্ছে বিএনপিকে জেলে বন্দী রেখে তারা এককভাবে নির্বাচন করে আবারো ক্ষমতায় বসতে আমরা তার এই ইচ্ছা আর পূরণ হতে দিবো না। আমরা এই অবৈধ তফসিল প্রত্যাখ্যান করলাম। এস.এ/জেসি


