বন্দরে নেতার হাট নামক কোন হাটবাজার বা স্থানের অস্তিত্ব না থাকলেও সমগ্র এলাকা জুড়ে হঠাৎ করে নতুন নতুন অসংখ্য রাজনৈতিক নেতার আবির্ভাব হওয়ায় মনে হয় বন্দর যেন নেতার হাটে পরিণত হয়েছে। সংসদীয় আসন নারায়ণগঞ্জ ৫ নানাবিধ কারণে ক্রমশঃ রাজনৈতিক কর্মী শূন্য হয়ে পড়ছে অথচ নেতার সংখ্যা বেড়েই চলেছে! এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে বন্দর অঞ্চল।
রাজনৈতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠান সমূহে অসংখ্য স্বঘোষিত নেতার উপস্থিতি দেখে তেমনটিই মনে হয়। বিভিন্ন প্রচার পত্রে এসব নব্য নেতার নাম প্রায়ই দেখা যায়। এসব নেতার অধিকাংশ দলীয় কোন পদে না থাকলেও দলীয় নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করছে।
দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কোন পটভূমি না থাকা সত্ত্বেও তাদের এমন আত্নপ্রচার যেমন হাস্যরসের সৃষ্টি করছে তেমনি রহস্য উন্মোচনে সাধারণ মানুষ গলদঘর্ম হচ্ছে! সবাই কেন নেতা পরিচয়ে পরিচিত হতে চাইছে? এ প্রশ্ন সবার মুখে মুখে।সচেতন মহলের ধারণা আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা দল বা নেতার আনুকূল্য লাভের জন্যই তাদের এমন আত্নপ্রচার! ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে নেতা পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের গন্ডী না পেরিয়েও ছাত্র সংগঠনের নেতা পরিচয় দিতে এদের বাঁধছে না। হঠাৎ অর্থবিত্তের মালিক বনে যাওয়া একটি শ্রেণীও এই কাতারে নাম লিখিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনে জাতীয় পার্টির সাংসদ থাকায় জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায় থাকলেও বেশ কিছু নব্য নেতা এ দলের নাম ব্যবহার করে নেতা বনে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
এসব জনবিচ্ছিন্ন দুরৃত্ত শ্রেণীর তথাকথিত নেতার কারণে কর্মী শূন্য হয়ে পড়ছে রাজনৈতিক দলগুলো। কেউ তাদের মেনে নিতে পারছে না আবার প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছে না।নামধারী নেতাদের একটি বড় অংশ চাঁদাবাজি সন্ত্রাস সহ বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপে লিপ্ত। আরেকটি অংশ বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থবিত্ত নিরাপদ রাখার স্বার্থে নেতা নাম ধারণ করে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।
এদের কারণে ত্যাগী নেতাকর্মীগণ হতাশ হয়ে দলের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে, কেউ কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে।এসব স্বঘোষিত নব্য নেতাগণ নারায়ণগঞ্জের দলীয় নেত্রীবৃন্দের পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে বলে ধরে নেয়া যায় কারণ এরা বিভিন্ন প্রচার পত্রে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করছে।
এদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধোঁয়াশা থাকলেও একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় তারা রাজনৈতিক কোন আদর্শ ধারণ করে না কেবলমাত্র অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রয়াসে লিপ্ত। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে এদের কেউই কখনো কোন রাজনৈতিক দল বা দলীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় নি। অচলাবস্থার কারণে সময়মতো কাউন্সিল হয়নি ফলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ সময়ে অনেক প্রবীণ নেতা মৃত্যু বরণ করেছে, বয়সের ভারে অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। তাদের শূন্যস্থান পূরণ হয়নি, জোড়াতালি দিয়ে সংগঠন চলছে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা দু চারজনের নেতৃত্বে।
এসব পদলোভী,নেতৃত্ব ধরে রাখা প্রায় অচল নেতৃবৃন্দ নব্য নেতাদের উপর নির্ভর করছে, সে কারণেই নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনীতিবিচ্ছিন্ন দুর্বৃত্ত শ্রেণীকে নেতা হওয়ার শখ পূরণে তারা বাধা দিচ্ছে না। এতে সংগঠনের যে বিশাল ক্ষতি হচ্ছে তা তাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয় না। প্রকারান্তরে এসব স্বঘোষিত নেতা দলের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তাই এই মুহূর্তে শূন্যস্থান পূরণ সম্ভব না হলেও নিকট ভবিষ্যতে তা অবশ্যই করতে হবে, না হলে এ অশুভ প্রবণতা চলতেই থাকবে। যতদিন তা সম্ভব হচ্ছে না ততদিন পর্যন্ত এসব নব্য নেতাদের প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ না করলে দল চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ভাবতে হবে কারা দলের জন্য প্রয়োজনীয়?
তাদের সসম্মানে দলে স্থান করে দিলে এসব জনবিচ্ছিন্ন নীতিহীন দুর্বৃত্ত শ্রেণি দলের নাম ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিল করতে পারবেনা। সকল রাজনৈতিক দলের কাছে সচেতন মহলের প্রত্যাশা দলের স্বার্থে এসব নাম স্বর্বস্ব নেতার আধিক্য রোধ করে ত্যাগী নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন করা হোক।
অন্যথায় স্বার্থসিদ্ধির আশায় অনুপ্রবেশকারী স্বঘোষিত নেতাদের কারণে দল কর্মী শুন্য, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। নেতার হাটের নেতারা স্বার্থোদ্ধারে ব্যার্থ হয়ে অন্য ঘাটে নাও ভিড়াবে। ক্ষতি যা হওয়ার তা দলের হবে।অতএব সাধু সাবধান! লেখক : বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানী ও পোশাক শিল্পের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা।


