Logo
Logo
×

রাজনীতি

ঝুলে আছে সেলিম-খোকার ভাগ্য

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:১৬ পিএম

ঝুলে আছে সেলিম-খোকার ভাগ্য
Swapno

 

# জাতীয় পার্টির কর্তৃত্ব নিয়ে কাদের ও রওশনের দ্বন্দ্ব
# তৈমুরে কপাল পুড়তে পারে গাজী কিংবা সেলিম ওসমানের
# জাপা আ’লীগকে ধ্বংস করছে বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন নানক

 

 

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তাই নির্বাচনের জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়সহ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে মাঠে কারা থাকবে বিষয়টি নির্ভর করছে অনেক কিন্তু ও যদির উপর।আর সেসব কিন্তু ও জটিলতার উপরই নারায়ণগঞ্জের আলোচিত দুটি আসন নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ এর বর্তমান জাতীয় পার্টির দুই এমপি একেএম সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকার ভাগ্য নির্ভর করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।

 

একদিকে কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির নিয়ন্ত্রক হিসেবে নির্বাচন কমিশন কাকে গ্রহণ করবে, জাতীয় পার্টি কিংবা তৃণমূল বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের জোটগত বিষয়ক সমঝোতাসহ কেন্দ্রীয় বিভিন্ন জটিল সিদ্ধান্তের উপর বর্তমান এই দুই সাংসদের আওয়ামী লীগের সমর্থন পাওয়ার বিষয় নির্ভর করছে বলেও মনে করছেন তারা। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ২০০৮ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত আছেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের প্রথম দিকে একেএম নাসিম ওসমান (প্রয়াত) এবং ২০১৪ থেকে বর্তমান পর্যন্ত একেএম সেলিম ওসমান।

 

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ২০১৪ সাল থেকে টানা দুই মেয়াদে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত আছেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা। তবে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকালেও এই আসন দুটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় এখানকার আওয়ামী লীগ সাংগঠনিভাবে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ।

 

তাই বিভিন্ন সময় এসব এলাকার তৃণমূল যখন এখান থেকে এবার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানান, তখন তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। আর সে জন্যই আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আলোচনার অনেকটা জায়গাই দখল করে নেয় এই দুটি আসন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমসহ স্থানীয় রাজনীতির তৃণমূল থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের আলোচনায়ও উঠে আসে এই আসনগুলোর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অস্তিত্ব সংকটের বিষয়টি।

 

যা গত ১৩ অক্টোবর কাঁচপুরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশেও প্রকাশ্যে আসে। সে সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতেই কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক এখানকার আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেন এবং এজন্য তিনি এখানকার জাতীয় পার্টির সাংসদদের সরাসরি দোষারোপ করেন।

 

তিনি বলেন, এখানকার জাতীয় পার্টির এমপি আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন। এটি জাতীয় পার্টির সিট নয়। এই এলাকাকে ও এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে এখানকার মানুষ নৌকা চায়। জাতীয় পার্টির ভাইয়েরা বড় বড় কথা বলেন। আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন করে দেখেন কয়টি সিট পান। আওয়ামী লীগ জনগণের দল, গণমানুষের দল। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই দুটি আসন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের আলোচনার একটি বড় অংশ।  

 

গণমাধ্যমে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী জানা যায়, জাতীয় পার্টির কর্তৃত্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে পাল্টাপাল্টি চিঠি দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ (প্রয়াত) এর ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) এবং জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদ। এর মধ্যে রওশন এরশাদ চাইছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক দল হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কিন্তু জিএম কাদের চাচ্ছেন নির্বাচনের বিষয়ে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের বাইরে গিয়ে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে।

 

শেষ পর্যন্ত কমিশন কার কর্তৃত্ব গ্রহণ করবেন সেটার উপরই জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও প্রতীকসহ নির্বাচনের যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্ভর করবে বলে মনে করেন তিনি। এখন দেখার বিষয় নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির এই দুই নেতা কার সিদ্ধান্তের উপর ভরসা করেন। অর্থাৎ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির বর্তমান এই দুই সাংসদ দলীয় চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ভরসা করেন, নাকি প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের কর্তৃত্বের উপর ভরসা করেন নাকি এই দুইজনের মধ্যে কে জয়ী হয় দেখার জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

 

কমিশন যদি রওশন এরশাদের কর্তৃত্ব মেনে নেয়, তাহলে নির্বাচনী জোট হিসেবে এই দুটি আসন হয়তো পুনরায় চেয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রবল আপত্তি না থাকলে হয়তো ভাগিয়েও আনতে পারবেন তিনি। তাহলে আবারও নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সহজ হবে তাদের। কিন্তু কমিশন যদি জিএম কাদেরের কর্তৃত্ব মেনে নেয়, তাহলে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে আলাদা নির্বাচন করার সম্ভাবনাই বেশি। যা এই দুই এমপির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধাগণ।

 

অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে নতুন দল হিসেবে অংশগ্রহণ করছে বিএনপির সাবেক নেতা নাজমুল হুদার তৈরি তৃণমূল বিএনপি। যার মহাসচিব হিসেবে আছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টার এবং নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। যিনি ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ হতে মেয়র প্রার্থী ছিলেন এবং নির্বাচনের কয়েক ঘন্টা আগে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

 

২০২২ সালে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অপরাধে যাকে দল থেকে বহিষ্কৃত করা হয়। সেই তৈমূর আলম খন্দকার এবার তৃণমূল বিএনপি থেকে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তৃণমূল বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকারের সু-নজরে আছেন। তাই এবার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সহানুভূতির তালিকায় জাতীয় পার্টির পরের অবস্থানেই তৃণমূল বিএনপির সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।

 

তাই তৃণমূল বিএনপি থেকে তৈমূর আলম খন্দকার আওয়ামী লীগের আশীর্বাদ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ (রূপগঞ্জ) কিংবা নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ আছে বলে মনে করেন তারা। যার ফলে এই দুই আসনের বর্তমান সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী এবং একেএম সেলিম ওসমান এই দুই জনের একজনের কপাল পুড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

 

উল্লেখ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি (রোববার) অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন