Logo
Logo
×

রাজনীতি

নজর তার মনোনয়ন বাণিজ্যে

Icon

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:২৬ পিএম

নজর তার মনোনয়ন বাণিজ্যে
Swapno

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব নারায়ণগঞ্জের সন্তান এড. তৈমূর আলম খন্দকার। ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়ে গতকাল শনিবার থেকে রাজধানীর তোপখানাস্থ মেহেরবা প্লাজায় অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছেন তিনি।

 

প্রথম দিনে ৩৭ টি ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত ফরম বিক্রির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এদিকে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, তৃণমূল বিএনপির ‘সোনালী আঁশ‘ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ১৫ দল বিশিষ্ট প্রগতিশীল ইসলামী জোট। জোটের এ ঘোষণায় উজ্জীবিত তৃণমূল। তৃণমূল নেতাদের ধারণা, ইসলামী জোটের পথ অনুসরণ করে আরো অনেকেই ফরম কিনে নেবেন।

 

তৈমূরের বিরোধীপক্ষ মনে করছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি তার পকেট ভারীর মনোয়ন বাণিজ্যে নেমেছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তৃণমূল বিএনপি একটা সিটও পায় কিনা সন্দেহ আছে। এ কথা খোদ তৈমূর আলমও জানেন বলে দাবি করে তার এক উকিলবন্ধু বলেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কার করে তারেক রহমান তাকে জাতীয় নেতার কাতারে দাঁড় করিয়েছেন।

 

তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব হয়ে তিনি এখন মনোনয়ন বাণিজ্যে নেমেছেন। তিনি তৈমূরকে চানকপাইল্লা আখ্যা দিয়ে বলেন, তার দল বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তার গুরু তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ব্যরিস্টার নাজমুল হুদার বদৌলতে বিআরটিসির চেয়ারম্যান পদ বাগিয়ে প্রচুর টাকা কামিয়েছেন। আর এখন ক্ষমতায় না থাকলেও টাকা নিজে উড়ে এসে তার হাতে ধরা দিচ্ছে।    

 

বিএনপির হাত ধরেই তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। সর্বশেষ তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টার পদ অলংকৃত করেছিলেন। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সাথে তাকে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য পদ থেকেও প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। 

 

বিএনপি থেকে তাকে বহিষ্কারের পর তিনি তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, আলহামদুলিল্লাহ। তারেক রহমান একটা সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি এখন মুক্ত। আমি আবার রিকশাওয়ালা, ঠেলাওয়ালাদের কাছে ফিরে যাবো। 

 

উল্লেখ্য, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক আন্দোলেনের সাথে যুক্ত ছিলেন। সে কারণেই হয়তো তিনি তার নামের আগে মজলুম জননেতা ব্যবহার করেন। প্রয়াত জননেতা নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ চুনকা এবং রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সেক্রেটারি সম্বল মিয়া ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকারের শ্রমিক আন্দোলনে জড়িত হওয়ার পথপ্রদর্শক।

 

তৈমূরের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে এসে তার ছোট ভাই মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদও তার কর্ম দিয়ে বেশ ভালো অবস্থান গড়ে নিতে সমর্থ হয়েছেন। তৈমূর খন্দকার নতুন দলে যোগ দিলেও খোরশেদ তার ভাইয়ের পথ অনুসরণ না করে এখনো বিএনপির পতাকা তলেই থিতু। এস.এ/জেসি    
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন