পলাশকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বলছেন সমর্থকরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:৪২ পিএম
# নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যোগ্য প্রার্থী মাঠে নামলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠতে পারে
দেশে আগামী ৭ জানুয়ারী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এবারের এই নির্বাচন বর্জন করছে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ জনপ্রিয় অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। যে সকল দল নির্বাচন বর্জন করছে তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই তারা একটি কেয়ারটেকার সরকার অথবা একটি জাতীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তাতে রাজি হয়নি।
যার ফলে এরই মাঝে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে বিএনপির দাবি এবারের নির্বাচন মোটেও অংশগ্রহনমূলক হচ্ছে না। কিন্তু সরকার বার বার বলছে তারা এবার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করবে। তাই তারা বিএনপি সহ সব দলকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি যে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে কোনো মতেই নির্বাচনে যাবে না এটা এখন দিবালোকের মতো পরিস্কার। তারা এখন তফসিল বাতিল করার দাবিতে টানা অবরোধ এবং হরতাল ডেকে চলেছে।
আজ থেকে টানা দুইদিন হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি সহ বিভিন্ন বিরোধী দল। তবে যেহেতু বিএনপি এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না এবং যথা সময়ে যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে নির্বাচনটি সম্পূর্ণ অবাধ ও সুষ্ঠু করার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ বিএনপি নির্বাচনে না এলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা এমনিতেই শতকরা নব্বই শতাংশ আসনে জয়ী হবে।
তবে কোনো আসনে যদি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর চেয়ে জনপ্রিয় কোনো প্রার্থী থাকে এবং সেটা কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী বা অন্য কোনো দলের প্রার্থীর হয় তাহলেও ওই প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনে শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য বলছেন তার অনুসারীরা। তারা মনে করেন কাউসার আহম্মেদ পলাশ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ফতুল্লা থানা এলাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করেননি বলে প্রচার রয়েছে।
বিশেষ করে বিগত দশ বছর বর্ষা কালে যে পরিমান জলাবদ্ধতা হয়েছে তাতে ফতুল্লার সাধারণ মানুষ নাখোশ ছিলেন। এছাড়া সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার দশটি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেও সেখানে ফতুল্লার কোনো প্রকল্প ছিলো না। আর সিদ্ধিরগঞ্জের যে সকল উন্নয়ন হয়েছে সেগুলো করেছেন মেয়র আইভী।
তাই সব কিছু মিলিয়ে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বিপক্ষে যদি কোনো একজন যোগ্য প্রার্থী দাঁড়িয়ে যান আর নির্বাচন যদি সম্পূর্ণ অবাধ ও সুষ্ঠ হয় তাহলে সেই প্রার্থীও জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই পলাশ সমর্থকরা মনে করেন। তাই এবারের নির্বাচনে এই আসনে কি ঘটে সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে কাউসার আহম্মেদ পলাশ এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। কিন্তু এই আসনে শামীম ওসমানই মনোনয়ন পাচ্ছেন বলেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সূত্র জানিয়েছে। এস.এ/জেসি


