Logo
Logo
×

রাজনীতি

শামীমের বিপরীতে পলাশের মনোনয়নপত্র কেনার নেপথ্যে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:২০ পিএম

শামীমের বিপরীতে পলাশের মনোনয়নপত্র কেনার নেপথ্যে
Swapno

 

# সুযোগ পেলে ফতুল্লা থানা এলাকায় পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে চান তিনি

 

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে যখন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বিপক্ষে অন্য কেউ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতেই সাহস পান না তখন প্রায় প্রতি নির্বাচনেই এই আসনে মনোনয়ন চান কাউসার আহম্মেদ পলাশ। ফলে প্রতি নির্বাচনেই তার কাছ থেকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়েন সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। এবারও সেটাই হয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জের অনেকে মনে করেন কাউসার আহম্মেদ ছাড়া এই দলের অন্য কেউ শামীম ওসমানের ভয়েই এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয় চাইতে সাহস পান না।

 

আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকে যারা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন তারা হলেন সাবেক ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহম্মেদ চুন্নু, একেএম শামীম ওসমান এবং সারাহ বেগম কবরী। এদের মাঝে শামীম ওসমান তিনবার এবং কবরী একবার নির্বাচিত হয়েছেন। আর আশরাফ উদ্দিন চুন্নু পরাজিত হয়েছিলেন এবং শামীম ওসমানও একবার পরাজিত হন। এছাড়া শামীম ওসমান তিনবার আর কবরী একবার নির্বাচিত হন। আর এসব নির্বাচনের মধ্যে ১৯৯৬ সালের একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন শামীম ওসমান।

 

এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে নির্বাচন করা গিয়াস উদ্দিনের সাথে পরাজিত হন। এরপর ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হন। তবে এই দুটি নির্বাচন দেশে বিদেশে গ্রহনযোগ্য হয় নাই। এই দুটি নির্বাচন নিয়ে এখন ব্যাপক সমালোচনা চলছে। তবে যেভাবেই হোক তিন তিনবার এই আসন থেকে এমপি হয়েছেন শামীম ওসমান। আর মাঝখানে সারাহ বেগম কবরী যখন নির্বাচিত হন তখন আইনগত মারপ্যাচে পড়ে শামীম ওসমান নির্বাচন করতে পারেননি।

 

ফলে আসনটি শামীম ওসমানের আসন হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। ফলে এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে শামীম ওসমানের বিপরীতে পলাশ ছাড়া আর কেউ মনোনয়ন চাইতেই সাহস পান না। এবারও মনোনয়ন চেয়েছেন কাউসার আহম্মেদ পলাশ। কিন্তু ফতুল্লাবাসীর জন্য দুঃখের বিষয় হলো শামীম ওসমান এতোবার এমপি হওয়ার পরেও তিনি আসনটিতে আশানুরুপ কোনো উন্নয়ন করতে পারেন নাই।

 

আসলে তিনি চেষ্টাই করে নাই। ফলে গোটা ফতুল্লা থানা এলাকায় তেমন কোনো নাগরিক সুবিধা নেই বললেই চলে। যা তিনি করেছেন সেটা হলো গতানুগতিক। তাই এই আসনে একটি পরিবর্তন চায় সাধারণ মানুষ। যদিও বর্তমানে যে নির্বাচন হচ্ছে তা যথা সময়ে হলে আর পলাশ যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা না করেন তাহলে আবারও শামীম ওসমানই এমপি হবেন।

 

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউসার আহম্মেদ পলাশ বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে চাই তাই দলের মনোনয়ন পত্র ক্রয় করলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং দল যদি সুযোগ দেন তাহলে নির্বাচন করবো। আমি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জনগন দেখেছে এই আসন থেকে এর আগে আরো অনেকেই এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু এলাকাবাসীর স্বার্থে তেমন কোনো উন্নয়ন কেউ করে নাই।

 

বিশেষ করে ফতুল্লা থানা এলাকার পাঁচটি ইউনিয়নে বলতে গেলে কোনো উন্নয়নই হয় নাই। বরং বিগত ত্রিশ বছরে যে পরিমান মানুষ বেড়েছে সেই তুলনায় জনগনের কল্যাণে তেমন কোনো উন্নয়ন হয় নাই। রাস্তায় সীমাহীন যানজট, প্রায় সারা বছর জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাট, খালবিল, পুকুর-নালা দখল, ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতাল না হওয়া থেকে শুরু করে জনগনের কল্যানে তেমন কোনো কাজই হয় নাই।

 

অথচ বিগত পনেরো বছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ফতুল্লার উন্নয়নেও তিনি বরাদ্ধ কম দেন নাই। কিন্তু সঠিক তদারকি না থাকায় এবং আরো নানা কারণে উন্নয়ন বঞ্চিত রয়ে গেছে অত্র এলাকার মানুষ। তাই আমি যদি মনোনয়ন পাই তাহলে রাতদিন একাকার করে ফতুল্লা সহ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জনগনের কল্যাণে ব্যাপক উন্নয়ন করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

 

প্রসঙ্গত এরই মাঝে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৭ জানুয়ারী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবারের নির্বাচন একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া বাকি জনপ্রিয় দলগুলি বর্জন করে চলেছে। বিএনপি সহ সমমনা দলগুলি টানা হরতাল অবরোধ দিয়ে চলেছে। এমতাবস্থায় এবারের নির্বাচনও একতরফা একটি নির্বাচন হিসাবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

কারণ শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিলেও এই দলটির এখন আর কোনো গ্রহনযোগ্যতা জনগনের কাছে নেই। তাছাড়া জাতীয় পার্টি সরকারেরই বি টিম হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই শেষ পর্যন্ত তারা হয়তো এবারের নির্বাচনেও অংশ নেবে। কিন্তু বিএনপি, জামাত এবং ইসলামী আন্দোলন সহ পরিচিত এবং জনপ্রিয় দলগুলি নির্বাচন বর্জন করছে।

 

এমতাবস্থায় ৭ই জানুয়ারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন যিনিই পান না কেনো তিনিই জয়ী হবেন। এই আসনের বর্তমান এমপি একেএম শামীম ওসমানও নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। যদিও তিনি এবার নির্বাচন করবেন না বলে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন। তাই শেষ পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই এখন দেখার বিষয়। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন