Logo
Logo
×

রাজনীতি

অস্বস্তিতে সেলিম ওসমান

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৪১ পিএম

অস্বস্তিতে সেলিম ওসমান
Swapno

 

# আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ নৌকা পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ
# তৃণমূল বিএনপি নিয়ে তৈমূরও প্রতিযোগিতায়

 

 

রাজধানী লাগোয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজনীতি নিয়ে সব সময়ই জাতীয় রাজনীতির একটি আলাদা দৃষ্টি থাকে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সদরের সাথে সম্পৃক্ত নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন দুটিতে একটি বিশেষ ফোকাস থাকে। যা অনেকটা দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই শুরু বলে প্রবীণ রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে জানা যায়। আর এই দুটি আসনের এলাকা থেকেইে পুরো জেলা জুড়ে প্রভাব বিস্তার করতেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সাথে জড়িত প্রভাবশালী ওসমান পরিবার।

 

আর ওসমান পরিবারের সর্বশেষ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত একেএম শামীম ওসমান। এবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নির্বাচনে না থাকায় অনেকটাই নিশ্চিন্ত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে এর মধ্যে বেশ বিপাকে পরে গেছেন নারায়ণগঞ্জের যে আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে জাতীয় পার্টির নেতারা সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন তারা।

 

নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ এই দুটি আসনের জাতীয় পার্টির নেতারা এবার অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন বলে জানা গেছে। তবে এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি একেএম সেলিম ওসমান কিছুদিন আগেও অনেকটা রিলেক্স মুডে থাকলেও পরিস্থিতির বিবেচনায় বর্তমানে অনেকটাই অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তিতে আছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

 

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক দলগুলো এখন খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ তদবীরের চেষ্টাসহ নিজেদের মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে হিসেব-নিকেশ কষছেন। তবে বিভিন্ন দলের হেভি ওয়েট প্রার্থীগণ যারা নিজেদের দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে নিশ্চিত, তারা তাদের জয়ের বিষয়ে কি হলে কি হতে পারে সেই ছক করে নিজেদের সম্ভাবনা বিশ্লেষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের সমর্থক ও পক্ষীয় নেতা কর্মীগণও সেই বিশ্লেষণে ব্যস্ত এখন।

 

শুধু তা-ই নয়, হেভিওয়েট প্রার্থীদের কি ধরণের পরিস্থিতি হলে কি ধরণের ফলাফল আসতে পারে তা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সচেতন মহলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বেড়ে যাওয়া এই ব্যস্ততা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার আগ পর্যন্ত চলবে।

 

তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ দলীয় কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এবং জাতীয় পার্টির সাথে সাথে পারিবারিক প্রভাবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশসহ বন্দর আওয়ামী লীগের কর্ণধারদের নিজের প্রতি আস্থাশীল করতে পেরে অনেকটাই নির্ভার ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টি সমর্থিত বর্তমান সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান।

 

আওয়ামী লীগ থেকেও তার শক্ত কোন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে না বলে অনেকটাই নিশ্চিত ছিলেন তিনি। কিন্তু সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন ৬ জন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির সমঝোতা নিয়ে রয়েছে ধোয়াশা। এরই মধ্যে মারার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনোনয়ন নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সু-দৃষ্টিতে থাকা নতুন রাজনৈতিক দল তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

 

সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে এখন পর্যন্ত তার কোন প্রতিদ্বন্দ্বির নাম আসেনি। অন্যদিকে এই আসন থেকে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ার দাবিদারদের মধ্যে থাকা ওসমান পরিবারের ভক্তদের তিনি ল্যাতা বলে হুশিয়ারী দিলে তারাও সেই দাবি থেকে অনেকটা দূরে সরে যান।

 

গত ২৬ অক্টোবর এই আসনের ভোটার ব্যাংক হিসেবে পরিচিত বন্দরে এমপি সেলিম ওসমানকে গণসংবর্ধনা নামে আওয়ামী লীগের সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যেখানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান এমপি এবং নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত শামীম ওসমান নিজেও উপস্থিত ছিলেন শুধুমাত্র তার সমর্থকদের সেলিম ওসমানের প্রতি সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য।

 

তার ফলে সেলিম ওসমানের মনোনয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থন ও স্থানীয়ভাবে নির্বাচনে সফলতার বিষয়ে অনেকটাই আশাবাদী ছিলেন ওসমান পরিবারসহ তাদের সমর্থকগণ। তাদের প্রচেষ্টায় এই আসনের আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি মিলে মিশে একাকার হয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাও শুরু করেন তারা। তবে কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব জটিলতা, আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতা নিয়ে জটিলতা এবং আওয়ামী লীগের তৃণমূল বিএনপি প্রীতি অনেকটাই বেকায়দায় আছেন সেলিম ওসমান।

 

তাছাড়া এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা উজ্জল ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল (ভিপি বাদল)।

 

তাছাড়া নতুন দল তৃণমূল বিএনপি থেকে দলের মহাসচিব এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন (সদর-বন্দর) আসনের দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। প্রচার আছে আওয়ামী লীগের গ্রীন সিগন্যাল পেয়েই তিনি মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বলে।

 

তাই একদিকে জাতীয় পার্টির দলীয় সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের হেভি ওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ এবং সর্বশেষ তৃণমূল বিএনপি থেকে এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের মনোনয়ন সংগ্রহ সবকিছু মিলে এখন নির্বাচনে জয় নিয়ে সেলিম ওসমানকে এক ধরণের অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। এস.এ/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন