খোকাকে সরিয়ে আ.লীগের এমপি হতে চান ১৫ জন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:০৯ পিএম
# প্রার্থী বেশি হলেও যিনি মনোনয়ন পাবেন তার পক্ষে মাঠে নামবেন বাকিরা
আসন্ন জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিলের পরও ভোটে না যাওয়ার বিষয়ে অনড় বিএনপি ও তাদের মিত্ররা। এমন অবস্থায় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে কৌশলী আওয়ামী লীগ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনা এড়াতে ভোটের মাঠে যত বেশি সম্ভব দলকে আনতে চায় ক্ষমতাসীনরা। তবে জাতীয় পার্টি নির্বাচনের যাওয়ার বিষয়ে পরিষ্কার না হলেও মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে। নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ফরম ক্রয় করেছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির দখলে থাকা আসন দুটি উদ্ধারের জন্য দাবী জানিয়ে আসছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। গত দুটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির মহাজোট থাকায় দুটি আসন জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ছাড় দিতে হয়। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে আর ছাড় দিতে চান না।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের লাঙলের বোঝা আর বইতে চান না স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে লাঙল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ের ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ জমে রয়েছে। কেননা এখানে গত দশ বছর যাবৎ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি হয়ে থাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা অবহেলিত হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ।
তাই আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির এমপি খোকাকে সরিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেয়ার দাবী জানান ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। আর এজন্য জেলার-৫টি আসনের মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সবচেয়ে বেশি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ক্রয় করেছে। যদিও এখনো পর্যন্ত এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির মহাজোট হবে কি না তা নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয় নাই।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পেতে এক ঝাঁক নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে। তাদের প্রত্যেকেই এলাকায় নিজের অবস্থান তৈরি করে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। সেই সাথে তাদের অনেক আগে থেকেই নিজের অবস্থান জানান দিতে সরকারের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিয়ে প্রচারণা করেছেন।
তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী হতে ১৫ জন মনোনয়ন সংগ্রহকারীরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়াামী লীগের সাবেক সদস্য এডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলি, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির ১নং সদস্য মাহফুজুর রহমান কালাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটির সদস্য এ এইচ এম মাসুদ দুলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মারুফুল ইসলাম ঝলক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনির হোসেন, আওয়ামী লীগের সমর্থক আনোয়ার হোসেন, জসিমউদ্দিন ও মতিন খাঁন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত মোবারক হোসেনের ছেলে এরফান হোসেন দীপ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যান উপ-কমিটির সদস্য দীপক কুমার বনিক দীপু, কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ও তার সহোদর সোনারগাঁ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মো. বাবুল ওমর বাবু।
তারা প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা মনোনয়ন নিয়ে এমপি হতে চান। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা আবার নির্বাচন করতে ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে। সেই সাথে তিনি যে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন তার জানান দিয়েছে।
তাছাড়া কিছু দিন আগেও কাচপুর আওয়ামী লীগের সমাবেশে এসে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছে জাতীয় পার্টির একজন এমপি আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়। কিন্তু তিনি জানেন না আওয়ামী লীগ যে এক মহাসাগর। এর আগে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গিয়ে নাসিক মেয়র আইভী বলেছেন, শহরের প্রভাবশালী পরিবারের আশীবার্দে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে এমন একজন এমপি হয়েছে যার কোন নাম নিশানা ছিলনা। এখানে আগামী নির্বাচনে অর্থাৎ আসন্ন দ্বাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেয়ার দাবী তুলেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে জাতীয় পার্টির এমপি খোকাকে হঠাতে আওয়ামী লীগের এক ঝাঁক নেতা প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছে এখানে। যারা মনোনয়ন চাচ্ছে তারা কি খোকাকে পরাজিত করতে পারবে তা নিয়ে রয়েছে আলোচনা। কেননা আওয়ামী লীগ থেকে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারে অনেক নেতা। দল থেকে এমন সিগন্যাল দেয়া হতে পারে।
এই ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নির্বাচিত হতে পারেন বলে মনে করেন সচেতন রাজনৈতিক বোদ্ধামহল। তাছাড়া এবার আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারাও এখানে মনোনয়ন চেয়েছে। কিন্তু দল কাকে মনোনয়ন দিবে তা নেত্রী সিদ্ধান্ত নিবে। কিন্তু তারা এবার যে কোন ভাবেই হোক নৌকার প্রার্থী চান। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এমন নেতাদের বেশিরভাগই বলছেন, দল যাকে মনোনয়ন দিবে বাকিরা তার পক্ষেই কাজ করতে মাঠে নামবেন। এস.এ/জেসি


