দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নিজেকে পর্দার আড়ালে ঢেকে রেখেছিলেন সেলিম ওসমান। কোন আলোচনাতেই ছিলেন না এ কয়দিন। এ নিয়ে বাজারেও অনেক গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কেউ জেনেছেন, তার শরীর ভালো নেই। আবার অনেকে জেনেছেন, তিনি আর এমপি হতে পারবেন না বলে তার মন খারাপ। কারণ, তার দল জাতীয় পার্টি নির্বাচনে আসবে নাকি বর্জন করবে তা এখনো দোদুল্যমান।
শেষমেশ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সেই বিখ্যাত উক্তি, ‘তলে তলে’কেই অনুসরণ করছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান। শোনা যাচ্ছে, পর্দার আড়ালে থেকেই তিনি নাকি তলে তলে ওই আসনেই তার মনোনয়ন নিশ্চিত করে ফেলেছেন। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ না নিলেও কোন অসুবিধা হবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেই বিজয় ছিনিয়ে আনার ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত তার অনুসারীরা।
শীতলক্ষ্যার পূর্বপাড় বন্দরে তার বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে বলে দাবি করে তার অনুসরণকারীরা বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের কোন জাঁদরেল প্রার্থী নেই। যারা মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন তারা কেউই কাউন্ট্যাবল নন। কাউন্সিলর পদে দাঁড়ালেও তারা জামানত হারাবেন। তিনি এমপি থাকাবস্থায় বন্দরে নিজের টাকায় অনেক জনহিতকর কাজ করেছেন।
বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে তার বিশাল অবদানের কথা আজ জনগনের মুখে মুখে ঘুরছে। শীতলক্ষ্যার পশ্চিমপাড় তার জন্মস্থান। একজন শক্তিশালী ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে ব্যবসায়ীমহলে তার গ্রহণযোগ্যতা সর্বজনবিদিত। তার দক্ষ নেতৃত্ব নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস সেক্টরকে একটা মজবুত ভিত গড়তে দারুণভাবে সহযোগীতা করেছে বলে মনে করেন তার অনুগামীরা।
তবে গুঞ্জন রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকারকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দর কষাকষি করে নিশ্চিত হওয়ার পরই তৃণমূল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি। আর যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে, তখন পুনঃ তফসিল ঘোষণা করা হবে। তা হলে তো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ছকও পাল্টে যেতে পারে। কিন্তু এ হিসেবের সময় এখনো আসেনি। এস.এ/জেসি


