মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছে কিংস পার্টি : এড. সাখাওয়াত
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:০৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জে বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকে একই সঙ্গে প্রলোভন এবং ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনে নেয়ার জন্য তৎপরতা চলছে বলে জানা গেছে। তাদেরকে তৃনমূলে যোগ দিয়ে নির্বাচন করার জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির উল্লেখযোগ্য কোনো নেতাই এবারের এই নির্বাচনে তৃনমূল বিএনপি থেকে বা অন্য কোনো দল থেকে নির্বাচন করতে রাজী হননি।
বরং আড়াইহাজারের জনপ্রিয় সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর দৈনিক যুগের চিন্তায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টের প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন তিনি সারা জীবন বিএনপির রাজনীতি করেছেন এবং আগামী দিনেও বিএনপিতেই থাকবেন। তৃনমূল বিএনপি বা অন্য কোনো দলে যাবার কোনো প্রশ্নই উঠে না। এদিকে তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেয়ার জন্য নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে আরো কয়েকজন বিএনপি নেতাকে এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রন জানানো হয়েছে।
এমন কি তাদের বিরুদ্ধে যে সকল মামলা মোকদ্দমা রয়েছে সেগুলোও তুলে দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। কিন্তু উল্লেখ করার মতো কোনো নেতাই এই প্রস্তাবে রাজী হননি। তাই এ পর্যন্ত তৃণমূল বিএনপিতে একমাত্র তৈমুর আলম খন্দকার ছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ বা পরিচিত কোনো নেতাই সারা দেননি বলে জানা গেছে।
এদিকে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে বিগত পনেরো বছর ধরে এই সরকার নানা রকম খেলায় মত্ত রয়েছে। জোর করে রাষ্ট্র ক্ষমতা ধরে রেখেছে। এবারও তারা আরো একটি ভুয়া নির্বাচন করার জন্য উঠে পরে লেগেছে। আর এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা বিএনপি নেতাদের টার্গেট করে কয়েকটি কিংস পার্টি তৈরী করেছে।
আর এসব কিংস পার্টিতে যোগ দেয়ানোর জন্য নানা রকম প্রলোভন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলেছে। কিন্তু আমরা দ্ব্যার্থহীন ভাষায় একটি কথা বলতে চাই, আর সেই কথাটি হলো এবার আর এসব করে কোনো লাভ হবে না। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে চলেছি। আর জনগনও এবারের এই আন্দোলনে সমর্থন জোগাচ্ছে।
এছাড়া গণতান্ত্রিক বিশ্বও এবার একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতি ঘোষনা করেছে। তাই আমরা মনে করি বিগত দুটি নির্বাচনের মতো এই সরকার এবার আর সহজে পার পাবে না। আন্দোলনের মাধ্যমেই এই সরকারকে বিদায় করা হবে। কারণ এই সরকার বিদায় না নিলে দেশে দুর্নীতি লুটপাট বন্ধ হবে না।
এরই মাঝে দ্রব্যমূল্য সহ সরকারের নানা ব্যর্থতার কারণে জনজীবন একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তাই সরকার যতো চেষ্টাই করুক এবার তাদেরকে বিদায় নিতেই হবে। আর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতা কোনো কিংস পার্টিতে যোগ দেবে না বলেই আমরা মনে করি।
এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আরো বলেন, সরকার দেশে একেবারে উত্তর কোরিয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বিরোধী মত দমন করে জনগনকে ভয় দেখাতে চাইছে। তারা মনে করছে এবারও তারা ২০১৮ সালের মতো একটি নির্বাচন করে ফেলবে। তবে এবার তারা বিভিন্ন কিংস পার্টি তৈরী করে বিএনপির নেতাদেরকে মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়েছে এবং তাতেও রাজী না হলে ভয় দেখিয়ে নির্বাচনে নিতে চাইছে। তারা মনে করছে এটা করলে তাদের এই নির্বাচন এবার গ্রহনযোগ্যতা পাবে।
কিন্তু আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই এসব করে সরকারের কোনো লাভ হবে না। জনগন সব দেখছে এবং বুঝতে পারছে। তাই এই সরকার এবার যতো জুলুম নির্যাতনই চালাক না কেনো তাদের বিদায় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমরা যে আন্দোলন করছি এটা সারা দেশের মানুষের ভোটের অধিকার আদায় করার আন্দোলন। তাই এই আন্দোলনে দেশে শতকরা পঁচানব্বই শতাংশ মানুষের সমর্থন রয়েছে। তাই আমরা মনে করি খুব শিগগিরই দেশের জনগণ এই ফ্যাসিষ্ট সরকারের হাত থেকে পরিত্রান পাবে ইনশাআল্লাহ। এস.এ/জেসি


