খেলতে নেমে মাঠ খালি পেলেন শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:২৭ পিএম
আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতি এখন উত্তাল। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে খেলার মাঠ, ঘাটে সব জায়গায় ভোটের হাওয়া বইছে। কিন্তু বিএনপি এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিবে না এখনো তাতে অনড় রয়েছে। অথচ বছর খানিক আন্দোলন করে দলটি মানুষের আস্থা অর্জন করলেও গত ২৮ অক্টোবরের সমাবেশের পর থেকে অনেকটা বেকায়দায় রয়েছে।
বর্তমানে বিএনপি নির্বাচনের তফসিলকে প্রত্যাখ্যান করে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষনা করে আন্দোলন করে যাচ্ছে। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনের তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করেছে। সেই সাথে মনোনয়ন বিক্রিও শেষ হয়েছে। নিবার্চনের অংশ গ্রহনের ঘোষনা দিয়ে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীর পুরোদমে প্রচারণায় রয়েছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান তফসিল ঘোষনার পর থেকে মাঠে নেমে শান্তি মিছিলের নামে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সিদ্ধিরগঞ্জে শান্তি মিছিল করেন। তার আগে ফতুল্লায় শান্তি মিছিল করেন। তবে সিদ্ধিরগঞ্জে শান্তি মিছিলের আগে সাংসদ শামীম ওসমান তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনে বিপুল ভোটে আবারও শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। আমাদের ইচ্ছা ছিল মাঠে খেলার কিন্তু খেলার মাঠে কেউ নেই। খেলতে এসে দেখি মাঠ খালি। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিএনপি এখন রাতের আধারে মানুষকে পুড়িয়ে মারতে চেষ্টা করে।
যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে তারা তো খেলার উপযুক্ত নয়। যদিও তিনি কোন খেলার কথা বলেছেন তা পরিষ্কার না করলেও রাজনৈতিক বোদ্ধমহলের বুঝতে বাকি নেই। কেননা মাস খানিক আগে সাংসদ শামীম ওসমানের খেলা হবে এই ডায়লগের জবাব দিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, তিনি কোন খেলা খেলতে চান। এখন তো খেলাধুলার বয়স না। তবে আওয়ামী লীগের এমপিরা যদি ভোটের মাঠে খেলতে আসে তাহলে আমরা খেলার জন্য প্রস্তুত।
অপরদিকে বছর আটেক আগে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান একটি রাজনৈতিক সভায় বলেছিলেন, ‘‘কারে খেলা শেখান? আমরা তো ছোটবেলার খেলোয়াড়। খেলা হবে! শেষের এই শব্দ দুটি স্লোগান হিসেবে এখন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপি তো বটেই, বামেদের মুখেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমে শামীম ওসমান নিজেও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
গতকাল সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাংসদ আবারও বলেন, বাংলাদেশে ২০১৩-১৪ সনে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ও বিএনপির নেতৃত্বে ব্যাপক জ্বালাও পোড়াও চালিয়েছিল। আমাদের এই স্লোগান ছিল তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম হিসেবে, শান্তির পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে ও সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতার বিপক্ষে। তখন তিনি খেলা হবে ডায়লগের এই ভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি গত এক বছর যাবৎ আন্দোলনের সভা সমাবেশে বলে আসছে আওয়ামী লীগ আবারও খালি মাঠে গোল দিতে চাচ্ছে। এজন্য তারা এক তরফা নির্বাচন করতে যাচ্ছে। কেননা তাদের নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে না। তাই প্রশ্ন উঠেছে সাংসদ শামীম ওসমানের বক্তব্যে মাঠ খালি দেখার মন্তব্যকে কি ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। তাহলে কি আসলেই তিনি মাঠে খেলতে নেমে কোন খেলোয়ার পাচ্ছে না।
অর্থাৎ তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় মাঠ অনেকটা খালি হয়ে রয়েছে। যদিও ২০০১ সনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত হয়েও বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের কাছে পরাজিত হন সাংসদ শামীম ওসমান। মাঠে সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন না থাকায় বর্তমান এমপি শামীম ওসমানের জন্য মাঠ খালি হয়ে রয়েছে। এস.এ/জেসি


