# আশা নিরাশার দোলাচলে আওয়ামী লীগ নেতারা
# নারায়ণগঞ্জ আ’লীগের নতুন ভাবনা তৃণমূল বিএনপি
# নমনীয়তা দেখালে অনেকেই যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাবে বরে ধারণা
অনেক প্রশ্ন, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীরা। মনোনয়ন ফরম যারা সংগ্রহ করেছেন তারা এখন নিজেদের সাধ্য মতো লবিং করতে কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকদের সাথে যোগাযোগে এবং শেষ সময়ের দৌঁড়ঝাঁপে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুধু মনোনয়ন প্রত্যাশীরাই নয়, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় আছেন তাদের কর্মী-সমর্থকগণও। প্রার্থীদের পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীর দৃষ্টিও সেদিকেই আছে এখন।
প্রত্যেকের মনের মধ্যেই প্রশ্ন কোন আসনে কে হতে যাচ্ছেন নৌকার মাঝি। নতুন মুখ হিসেবে এবার কারা আসছেন, আর ছিটকেই পড়ছেন বা কারা। তাছাড়া শরিক দলের প্রার্থীরা কোন আসনগুলো থেকে সুবিধা পাচ্ছেন সে বিষয় নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রার্থীতা নিয়ে আশা নিরাশার দোলাচলে আছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জের আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা থাকলেও ভাবনার নতুন খোরাক হিসেবে উপস্থিত হয়েছে তৃণমূল বিএনপি। এতদিন যে উৎকন্ঠার কারণ ছিল জাতীয় পার্টি।
অন্যদিকে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর দেখা পাওয়া যেতে পারে বলেও বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এবার বিএনপিকে ছাড়াই প্রার্থীদের নির্বাচন করতে হবে। তাই নির্বাচনে প্রানবন্ততা আনতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে আওয়ামী লীগ এবার বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে নমনীয়ভাব দেখাতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের সমর্থকরা। তাছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদেরও হয়তো সুযোগ দিবে দলটি।
বিভিন্ন মিডিয়া থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত আওয়ামী লীগের মোট ৩১জন। এরমধ্যে শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন (সোনারগাঁও) থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১৪ জন। নারায়ণগঞ্জে এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে কারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন তা আগামীকাল শনিবার (২৫ নভেম্বর) জানা যেতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচন করছে না জাতীয় পার্টি।
তাই এই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে জাতীয় পার্টি ভীতি কাজ করছে না। তবে জাতীয় পার্টির জায়গায় যোগ হয়েছে তৃণমূল বিএনপির নাম। এরই মধ্যে তৃণমূল বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করবে বলে খবর পাওয়া গেছে। আর এই খবরেই নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এক ধরণের অস্থিরতা কাজ করছে। এর আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে এই বিষয়ে কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মতে, দলীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে তৃণমূল বিএনপি হোক কিংবা জাতীয় পার্টি, তাদের প্রার্থীদের যেন অন্য কোন জেলা থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই তারা নৌকার প্রার্থী চান। তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব সাবেক বিএনপি নেতা এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের নিজ জেলা এই নারায়ণগঞ্জ। তাই তৃণমূলকে আসন দিতে হলে তৈমূর আলম খন্দকারকে নারায়ণগঞ্জের একটি আসন ছেড়ে দিতে হতে পারে বলে মনে করেন তারা।
নারায়ণগঞ্জের আসনগুলো হতে এবার আওয়ামী লীগের যারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, রূপগঞ্জ থেকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহম্মেদ পলাশ।
সদর-বন্দর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল (ভিপি বাদল)। আড়াইহাজার থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু ও সাবেক রাষ্ট্রদূত বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ হোসেন। সোনারগাঁ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার, সাবেক সংসদ সদস্য মোবারক হোসেন (প্রয়াত) এর ছেলে এরফান হোসেন দীপ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার কারণসহ স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন যাবৎই কিছু সুবিধাবাদী নেতা তৈরি হওয়ার অভিযোগ আসছে তৃণমূল থেকে। তাই এবার জাতীয় পার্টিমুক্ত আওয়ামী লীগ তৈরির বিষয়ে কেন্দ্রের সাড়া পাওয়ায় যে দুটি আসনের আওয়ামী লীগ নেতারা উন্নয়নের সুবিধার সুফল নিতে পারেনি সেই হতাশা পূরণে এবার অনেক নেতাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য উৎসাহী হয়ে আছেন।
তাছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অনেকটাই কম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও এই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার উৎসাহ যুগিয়েছে নেতাদের। তাই বিপুল সংখ্যক নেতা তাদের ভাগ্য যাচাইয়ের মতো অনেকটা লটারীর মতোই নির্বাচনকে বেছে নিয়েছেন বলে জানা যায়।
তাছাড়া আওয়ামী লীগের সমর্থকের সংখ্যাও অনেক বেশি বলে মনে করেন তারা। তাই দলীয়ভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপর নমনীয়ভাব দেখালে প্রার্থীরা তাদের যোগ্যতা প্রমাণেরও সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন তারা। দল থেকেও সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নেয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। যারা নানাভাবে বিতর্কিত, এলাকায় নেতা-কর্মীদের সময় দেয়নি এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় তারা বাদ পড়বেন বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর, যাচাই-বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর এবং নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। এস.এ/জেসি


