টেলিফোনে পলাশের সাথে যে কথা হলো শামীম ওসমানের
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৫৪ পিএম
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন দুইজন প্রার্থী। এরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান এবং শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ। পলাশের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে এবার নিয়ে পর পর চার বার এই আসনে মনোনয়ন চাইলেন পলাশ।
কিন্তু এই চারবারের মাঝে দুইবার শামীম ওসমান এবং একবার সারাহ বেগম কবরী মনোনয়ন পেয়েছেন। আর এবারও শামীম ওসমানেরই মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কিন্তু তারপরেও তিনি এবারও মনোনয়ন চাইলেন।
এদিকে পলাশ এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়ার পর তার সমর্থকরা দাবি করছেন তিনি যেনো এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে হলেও নির্বাচন করেন। কারণ তারা মনে করেন বিএনপি যেহেতু এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না তাই সরকার নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে ছাড় দিতে পারে। এছাড়া জাতীয় পার্টি সহ কিছু কিংস পার্টি এবারের নির্বাচনে অংশ নিলেও তারা জনগনের ভোট পাবে না। কারণ বিগত পাঁচ বছরে দেখা গেছে সারা দেশের যেখানেই কোনো নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা দাঁড়িয়েছে তারা জামানত হারিয়েছে।
তাই এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী যিনিই হোন না কেনো তিনিও জামানত টিকাতে পারবেন না বলেই ফতুল্লার ভোটাররা মনে করেন। তাই এখানে পলাশ যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারতেন তাহলে তার সাথে শামীম ওসমানের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতা হতো বলেই সকলের ধারণা।
এদিকে কাউসার আহম্মেদ পলাশের অপর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি সংসদ সদস্য শামীম ওসমান কাউসার আহম্মেদ পলাশকে টেলিফোন করেছিলেন। ফোন করে তিনি পলাশকে বলেছেন তিনি যদি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান তাহলে পলাশ তার নির্বাচনে সহায়তা করবেন কিনা? জবাবে পলাশ বলেছেন নিশ্চয়ই তিনি দলীয় স্বিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। দল তাকে যা করতে বলবে তিনি তাই করবেন।
দল যদি শামীম ওসমানকে মনোনয়ন দেয় তাহলে পলাশও শামীম ওসমানের পক্ষে কাজ করবেন বলে তিনি শামীম ওসমানকে জানান। তবে পলাশের অনুসারীরা মনে করেন এবারই তার জন্য একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু এবার সম্পূর্ণরূপে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে আর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপরীতে কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দী থাকছে না বা নিজস্ব ভোট ব্যাংক আছে এমন কোনো দলও অংশ নিচ্ছেনা।
তাই পলাশ যেনো চেষ্টা করেন দলের শীর্ষ মহলে বুঝিয়ে হলেও এবারের নির্বাচনে টিকে থাকতে। তাই শেষ পর্যন্ত কি ঘটে সেটা দেখার জন্য আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। এস.এ/জেসি


